ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৯:৪৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ৩ মাসের শিশুর পা মোচড় দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩ রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন

কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৬:৩১ পিএম, ২০ জুন ২০১৮ বুধবার

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন আজ বুধবার। বহুমাত্রিক প্রতিভাময়ী এই নারী আমৃত্যু মুক্তবুদ্ধি চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম করেছেন। আজ তার ১০৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১১ সালের ২০ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

 

সুফিয়া কামাল, বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রথিতযশা কবি, লেখক, নারীবাদী ও নারী আন্দোলনের অন্যতম আদর্শ হিসেবে অতি পরিচিত ব্যক্তিত্ব।

 

সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে সুফিয়া কামালের আদর্শ ও সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজসংস্কার, নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

 

বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সুফিয়া কামালের ছিল আপসহীন ভূমিকা। নারীদের সংগঠিত করে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি ছিলেন সর্বদা সচেষ্ট।

 

বরিশালের শায়েস্তাবাদের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুফিয়া কামাল। তিনি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নারীমুক্তি, মানবমুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে গেছেন। একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ ৫০টির বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর মারা যান তিনি।

 

 

সুফিয়া কামালের জন্মের সময় বাঙালি মুসলিম নারীদের গৃহবন্দী অবস্থায় জীবন কাটাতে হত। স্কুল কলেজে মেয়েদের পড়ার কথাতো তখন চিন্তাই করা যেতনা। সেই হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন সুযোগই তিনি পাননি । নিজের চেষ্টায় নানা পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।

 

যে পরিবারে সুফিয়া কামাল জন্মগ্রহণ করেন সেই পরিবারের কথ্য ভাষা ছিল উর্দু। এই কারণে বাসায় মেয়েদের আরবি, ফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলা শেখানোর কোন ব্যবস্থাই ছিল না। তিনি বাংলা শেখেন তাঁর মায়ের কাছে। নানাবাড়িতে তাঁর বড় মামার একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল। মায়ের উৎসাহ ও সহায়তায় এ লাইব্রেরির বই পড়ার সুযোগ ঘটেছিল তার।

 

১৯২৪ সনে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে সুফিয়ার বিয়ে দেওয়া হয়। নেহাল অপেক্ষাকৃত আধুনিকমনস্ক ছিলেন, তিনি সুফিয়া কামালকে সাহিত্য ও সাময়িক পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেন । সুফিয়া সে সময়ের বাঙালি সাহিত্যিকদের লেখা পড়তে শুরু করেন।

 

সাহিত্যপাঠের পাশাপাশি সুফিয়া কামাল সাহিত্য রচনা শুরু করেন। ১৯২৬ সালে তার প্রথম কবিতা `বাসন্তী` সেসময়ের প্রভাবশালী সাময়িকী সওগাতে প্রকাশিত হয়। মুসলিম নারীদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলামে’ রোকেয়ার সঙ্গে সুফিয়া কামালের পরিচয় হয়। বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা ও প্রতিজ্ঞা তাঁর মধ্যেও সঞ্চারিত হয়, যা তাঁর জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

 

১৯৩৭ সালে তার গল্পের সংকলন কেয়ার কাঁটা প্রকাশিত হয় । ১৯৩৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়ার মুখবন্ধ লেখেন কাজী নজরুল ইসলাম।

 

১৯৩২ সালে তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৪২ সাল পর্যন্ত এ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। এর মাঝে ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দিন আহমেদের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। দেশবিভাগের পূর্বে তিনি নারীদের জন্য প্রকাশিত সাময়িকী বেগমের সম্পাদক ছিলেন।

 

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি নিজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এতে অংশ নেওয়ার জন্য নারীদের উদবুদ্ধ করেন। ১৯৫৬ সালে শিশুদের সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবী জানান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন। এই বছরে তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

 

স্বাধীন বাংলাদেশে নারীজাগরণ আর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়েছেন, অবরোধ উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেছেন। মুক্তবুদ্ধির পক্ষে এবং সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে আমৃত্যু তিনি সংগ্রাম করেছেন। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বাংলা একাডেমিতে আজ অনুষ্ঠিত হবে কবি সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা, সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।