ঢাকা, বুধবার ২৫, নভেম্বর ২০২০ ২২:৩০:২৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দেশে করোনায় আরও ৩৯ প্রাণহানী পিছিয়ে যাচ্ছে ২০২১ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড লটারির মাধ্যমে স্কুলের সব শ্রেণিতে ভর্তি: শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ কোটি ছাড়াল

করোনা পরীক্ষা কিট তৈরি করলেন ভারতিয় নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২০ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২০ রবিবার

ভারতের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মিনাল দাখাভে বোসলে।

ভারতের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মিনাল দাখাভে বোসলে।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছেন ভারতের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মিনাল দাখাভে বোসলে। স্বল্পমূলের এই কিট গত বৃহস্পতিবার প্রথম বাজারে এসেছে।

পুনের মাইল্যাব ডিসকভারিকেই প্রথম এ ‘টেস্টিং কিট’ তৈরি ও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রথম ব্যাচে তারা পুনে, মুম্বাই, দিল্লি, গোয়া ও বেঙ্গালুরুতে দেড়শটির মতো কিট পাঠিয়েছে।

বিবিসি বলছে, মিনাল দাখাভে নিজের সন্তান জন্মদানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওই ‘টেস্টিং কিট’ তৈরি করেন। সেই কিট দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির (এনআইভি) গুণমানের মাপকাঠিতে যখন উত্তীর্ণ হয়, তখন  তিনি হাসপাতালে। কোলে সদ্যোজাত মেয়ে। মা হওয়ার আনন্দ কয়েক গুণ বেড়ে যায় যখন তিনি জানতে পারেন, তার তৈরি কিট পরীক্ষার জন্য অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

অভিযোগ উঠেছে, ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। টেস্ট কিটের অভাবে মেটাতে তাই পুণের মাইল্যাব ডিসকভারিকে কিট তৈরি ও বিক্রির পূর্ণ ছাড়পত্র দেয়।  

কিট তৈরিতে অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজ করে যান এই ভাইরাস বিশেষজ্ঞ। এক দিকে গবেষকের দায়িত্ব, অন্য দিকে অসুস্থ শরীর। বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় ফেব্রুয়ারির শেষেই হাসপাতালে ভর্তি হন অন্তঃসত্ত্বা মিনাল। কয়েক দিন পরে ছাড়া পেয়েই লেগে পড়লেন গবেষণার কাজে। ইতিমধ্যেই ভারতে করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। শারীরিক অসুবিধা সত্ত্বেও দেশের কাজে দায়িত্ব থেকে ছুটি নেননি তিনি। ১৮ মার্চ তারা এনআইভি-তে নমুনা কিট জমা দেন। সেদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন মিনাল। পরের দিন জন্ম দেন কন্যাসন্তানের।

মিনালের নেতৃত্বে মাত্র ছয় সপ্তাহে তৈরি হয়েছে এই কিট। নাম ‘প্যাথো ডিটেক্ট’। মিনালের এই সাফল্যে ভীষণ খুশি তার সংস্থা ও সহকর্মীরাও।

মাইল্যাবের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রধান ভাইরোলজিস্ট মিনাল দাখাভে বলেন, ‘জরুরি ছিল, সে কারণেই আমি চ্যালেঞ্জটি নিয়েছিলাম। আমাকে দেশের ডাকে সাড়া দিতে হয়েছে।’

কিট সম্পর্কে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমাদের কিটগুলো দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ফল জানাবে, যেখানে আমদানি করা কিটে ৬-৭ ঘণ্টা লাগে।  এটা তৈরি হয়েছে রেকর্ড সময়ে, মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে। যেখানে এ ধরনের কিট বানাতে অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে।’

প্রস্তুতকারক সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সপ্তাহে এক লাখ কিট তৈরি করা যাবে। প্রয়োজনে তা বাড়িয়ে সপ্তাহে দুই লাখ পর্যন্ত করা সম্ভব। এমন প্রত্যেকটি কিট দিয়ে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। খরচ পড়বে ১ হাজার ২০০ টাকা। যেখানে করোনা পরীক্ষায় বিদেশ থেকে আনা প্রতিটি কিটের দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা।