ঢাকা, সোমবার ০৫, অক্টোবর ২০২৬ ৫:৪৭:৩৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিশু হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, বাড়ছে সর্দি-জ্বরের রোগী ইয়েমেনে সংঘাতে ঘরছাড়া ২ লাখ গোপনে ভিডিও পাঠালেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার রেহেনা বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনের সংলাপ শুরু দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল তিন মাসে নির্যাতন-হয়রানির শিকার ১৬২ সাংবাদিক দেশের ৪ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস সবজির দামে আগুন, শিম ২০০ টাকা

তিন মাসে নির্যাতন-হয়রানির শিকার ১৬২ সাংবাদিক

উইমেননিউজ২৪ ডেস্কঃ | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:১৩ এএম, ৪ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

গেল তিন মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারা দেশে অন্তত ১১২টি পৃথক ঘটনায় ১৬২ সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন মফস্বল ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘মিডিয়া ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট’ -এর (মিড) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগস্টে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। জুলাই, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর- এই তিন মাসের সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির ব্যাপারে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

মিডের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুলাই মাসে সারা দেশে ৩৯টি ঘটনায় ৫০ সাংবাদিক আক্রান্ত হন। আগস্ট মাসে সহিংসতার মাত্রা একলাফে ১২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪টি ঘটনায় রূপ নেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ জনে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে তা কিছুটা কমে ২৯টি ঘটনায় ৪৫ সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে মোট ঘটনার সংখ্যা ৩৪.১ শতাংশ এবং আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা ৩২.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তিন মাসের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে শারীরিক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাই মাসে সংঘটিত ঘটনার মধ্যে সর্বাধিক ৪৮.৭ শতাংশ ছিল প্রাণনাশের হুমকি ও ২৮.২ শতাংশ ছিল শারীরিক হামলা। আগস্ট মাসে শারীরিক হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মোট ঘটনার ৬৩.৬ শতাংশে পৌঁছায়। আর সেপ্টেম্বর মাসে শারীরিক হামলা ও হুমকি প্রদান উভয় ধরন সমভাবে ৩৭.৯ শতাংশ করে রেকর্ড করা হয়। এছাড়া এ তিন মাসে সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ, বাসা ও কার্যালয়ে হামলা, মামলা দায়ের এবং অপহরণের মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যমের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্যাতনের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন মফস্বল ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা। তিন মাসে মোট আক্রান্ত ১৬২ সাংবাদিকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৮৯ জনই দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি। এর পাশাপাশি ৫৩ জন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের এবং ২০ জন অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। ভৌগোলিক বিচারে দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে ঘটনার হার ছিল তুলনামূলক বেশি।

প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় কার্যকর আইনি পদক্ষেপের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। জুলাই মাসে ৪৬.২ শতাংশ ও আগস্ট মাসে ৫৪.৫ শতাংশ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়েরের হার ছিল অতি নগণ্য। আর সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৪১.৪ শতাংশ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে মিডের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন মুক্ত গণমাধ্যম ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ করে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।’

প্রায় ৪০ শতাংশ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতা রোধে থানা পর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত ও বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার প্রস্তাবনা জানান তিনি। একই সাথে, রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলীয় শৃঙ্খলাগত ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করার পরামর্শ রাশেদুল হাসানের।