ঢাকা, শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬ ১৩:০৩:১৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজ রথযাত্রা কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী নাতনীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল নানীর ফাইনালের আগে ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাল্যবিবাহ বাড়ছে

আপডেট: ০৬:৪৪ এএম, ২৫ আগস্ট ২০১৫ মঙ্গলবার

Married1438977502 মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের নীলফামারী জেলার একটি গ্রামের মেয়ে বিলকিস। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ে আর আর তার পরের বছরেই গর্ভধারণ। ১৪ বছর বয়স কিশোরী মেয়েটি মা হতে গিয়ে অকালেই হারায় তার প্রথম সন্তান। তারপরের বছর আবারও গর্ভধারণ। কিন্তু মাত্র সাত মাসের মাথায় জন্ম নেওয়া শিশুটিও পৃথিবীর আলো দেখেনি। বিয়ের চতুর্থ বছরে আবারও মা হন বিলকিস। এবার বেঁচে যায় তার সন্তানটি।ততদিনে কিশোরী মা বিলকিসের শরীর ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে। অসংখ্য রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরজুড়ে। আর বাচ্চাটিরও সারাক্ষণ অসুখ-বিসুখ লেগে থাকে। বিলকিস জানান, তার গ্রামে ১৫ বছর বিয়ের জন্য অনেক বেশি বয়স। বেশিরভাগ মেয়েদের ১৩-তেই বিয়ে দেওয়া হয়। এমন চিত্র বাংলাদেশের এখনও অধিকাংশ অঞ্চলে, অধিকাংশ গ্রামেই লক্ষ্য করা যায়। image দেশে বর্তমানে ২৯ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছর বয়সের আগে। বাল্যবিয়ের এ হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। আর ২ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ১১ বছরের আগে। এর অন্যতম কারণ প্রশাসনের ব্যর্থতা, দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক দূর্যোগ। উন্নয়নের অনেক সূচকে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করলেও বাংলাদেশে বাল্য বিবাহের হার এখনো উদ্বেগজনক। ২০১৪ সালে ইউনিসেফের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাল্যবিবাহের হারে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ। বিশ্লেষকরা বলছেন দরিদ্রতা, পুরোনো ধ্যান-ধারণা, সামাজিক কাঠামো, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতাই বাল্যবিবাহের জন্য দায়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। তারা অজ্ঞতা, সামাজিক সংস্কার আর দরিদ্রতার কবলে পড়ে সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই ৩৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের মধ্যে ৭৪ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। এদেশে বাল্যবিবাহের গড় হার ৬৫ শতাংশ। প্রতিবেশি দেশ ভারতের বাল্যবিবাহের গড় হার ৫০ শতাংশ, নেপালে ৫৭ শতাংশ এবং আফগানিস্তানে ৫৪ শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ১৫ বছরের কম বয়সী বিবাহিত মেয়েদের ২০ শতাংশ ২৪ বছর বয়স হওয়ার আগেই দুই বা ততধিক সন্তানের মা হয়ে যান। এর ফলে প্রসূতি মৃত্যুর হার এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যাও বেশি হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেছেন, এখনই বাল্য বিবাহের পরিমান না কমালে নারীর প্রতি সহিংসতা, মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি, অপরিণত গর্ভধারণ, প্রসবকালীন শিশু মৃত্যুঝুঁকি, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, নারী শিক্ষার হার হ্রাস, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষমতা ও সুযোগ কমে যাওয়াসহ নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে। এছাড়াও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। ড. নেহাল করিম বলেন, “অজ্ঞতা, সংস্কারবদ্ধতার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনের শাসনের অভাবের কারণে সমাজে বাল্য বিবাহের পরিমান বাড়ছে। দেশে সকল অনিয়ম, অন্যায় রোধে আইন আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। সমাজে পেশী শক্তির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকে সাধারণ মানুষ। আইনের শাসন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল বাল্য বিবাহ সহ সকল অনিয়ম দূর করা সম্ভব। না হলে প্রতিযোগিতার বিশ্বে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।” মেয়েরা বাল্য বিবাহের শিকার বেশি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকার, সংসদ উপনেতা মহিলা- একারণে দেশের নারী উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। উন্নয়নের পূর্ব শর্ত আইনের শাসন। সেটি না থাকলে সমাজে নানা সমস্যা বিষ ফোঁড়ার মত গজাবে।” 0,,18504525_302,00 বিয়ে মানুষের জীবনে একটি অন্যতম সন্ধিক্ষণ। কিন্তু তাদের একটা বড় অংশ অল্প বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসে।  চরম দারিদ্র্য এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মেয়েদের জীবনে নিয়ে আসে এক অন্যরকম ঝড়, যা তাদের ধ্বংশের মুখে ঠেলে দেয়। স্থানীয় সরকার বাল্যবিবাহ রোধে কোন পদক্ষেপ নেয় না। বরং বাল্যবিবাহকে সহজ করে দেয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “বাল্য বিবাহ শুধু মায়ের স্বাস্থ্য নষ্ট করে না। সমাজের স্বাস্থ্যও নষ্ট করে। তাই দেশের উন্নয়ন করতে হলে বাল্য বিবাহ রোধ করতে হবে। আর বিয়ের বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী।” অনেক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, সুরক্ষা পচ্ছে না মেয়েরা। তাই মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই, যাতে আরেকটি মেয়েদের প্রজন্ম হারিয়ে না যায়।

এই বিভাগের জনপ্রিয়