ঢাকা, রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ ২:৪৩:৫৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে আসামি পলায়ন, বরখাস্ত ৭ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ ঢাবি অধ্যাপক নাজমুন নাহার মারা গেছেন অস্কারজয়ী প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী ফ্রিকার আর নেই এআই ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, অনিশ্চয়তায় নারীরা চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

ধর্ষণ : প্রতিরোধে সাহসী হতে হবে নারীকে

আপডেট: ০৪:৫৪ পিএম, ৪ জুন ২০১৫ বৃহস্পতিবার

Nমাজেদুল হক তানভীর : প্রতিবেশী দেশ ভারতের হাল ধরে বাংলাদেশে সম্প্রতি সময়ে বেড়ে গেছে ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ। চলন্ত গাড়ি, ভাসমান নৌকা, কর্মস্থল, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এসব ঘটনা। ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের মাসগুলোর তুলনায় মে মাসে ধর্ষণের মতো গর্হিত অপরাধ আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এ ব্যাপারে জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ এক সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিতে পারে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। সামাজিক এই অপরাধের বিস্তার রোধ করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে হবে। পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার চেতনাবোধ জাগ্রত করা গেলে এই অপরাধ প্রবণতা অনেকখানি কমে আসবে। সমাজকে মানুষের বসবাসযোগ্য রাখতে হলে এই অপরাধ প্রবণতাকে রোধ করার বিকল্প নেই। দুর্বৃত্তরা যাতে কোনোভাবেই আইনের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে সবার আগে। মনে রাখা দরকার, অপরাধির শাস্তি না হওয়া অপরাধ বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। আজকের ধর্ষণজনিত অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে একই কারণ বিদ্যমান। একই সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে অপরাধের বিরুদ্ধে। গড়ে তুলতে হবে শক্ত প্রতিরোধ। ধর্ষকদের পক্ষে কেউ যদি আদালতে না লড়েন, সেটা হবে অন্যতম একটি প্রতিরোধ। তবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ প্রবণতা দূর হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে যে সব উদ্যোগ নেওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো, প্রথমত, অপরাধির কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ধর্ষক যাতে বের হয়ে না যেতে পারে তা নিশ্চিত করা জরুরী। প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় না ঘটলে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে শুধু ধর্ষণ না সকল প্রকার অনাচার সমাজ থেকে উচ্ছেদ হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণকারীর শাস্তি হতে হবে দ্রুত এবং এই শাস্তির প্রচার করতে হবে জোরেশোরে । এতে করে অন্তত শাস্তির ভয়ে হলেও অপরাধিরা এ কাজ থেকে দূরে থাকবে। তৃতীয়ত, মেয়েরা যে মানুষ শুধু ভোগ্য বস্তু না এটা সর্বস্তরের পুরুষ এবং নারীকে বুঝতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। চতুর্থত, ধর্ষণ একটি চরম অপরাধ এবং প্রতিটি ধর্মে ধর্ষণকারীকে কঠোর শাস্তির বিধান আছে তা সম্ভাব্য সকল উপায়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে। পঞ্চমত, শিশু ধর্ষণকারীদের দ্রুত কঠোরতম শাস্তি প্রদান করা জরুরী। তাছাড়া সমাজের সর্বস্তরে শিশু ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা করার দরকার। অনেক মা-বাবাই জানেন না ছেলে শিশু ও মেয়ে শিশু বিভিন্ন সময় ধর্ষণ হয়। শিশুরা যৌননির্যাতনের শিকার হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচিত বা কাছের আত্নিয় দ্বারা। এ বিষয়ে সরকারসহ সমাজের প্রতিটি মানুষের ব্যাপক সচেতনতা দরকার । ষষ্ঠত, শুধুমাত্র আইন করে কোনদিনও ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। তাতে যত কঠোর শাস্তিরই বিধান থাক না কেন। আমাদের বুঝতে হবে যে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাই এই অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে। সপ্তমত, নারীদের নিজেদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি দরকার নৈতিকতা আর সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা এবং জনসচেতনতা। আমাদের বুঝতে হবে একজন ধর্ষিত মেয়ের কোন অপরাধ নেই। তিনি অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং সমাজ তার পাশেই আছে। তাকে সাহসী হতে হবে, ভয় বা লজ্জার কিছু নেই। যদি তিনি তাৎক্ষনিক কোন সহায়তা পান, তাহলে তার শরীর এবং পোষাক থেকেই অপরাধী সনাক্তকরণ এবং প্রমানের জন্য যথাযথ আলামত সংগ্রহ করা যাবে। সেই ক্ষেত্রে তিনি যেন কোন ভাবেই পানি দিয়ে বা পোষাক পরিবর্তন করে আলামতগুলো নষ্ট না করেন। বর্তমানে দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা নির্যাতিত নারীর পরিচয় গোপন রেখেই তাকে ন্যায় বিচার, ধর্ষণ পরবর্তী শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা এবং আইনগত সুবিধা দেয়ার কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে ‘মায়া ভয়েস’-এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে। ‘আইন ও শালিস কেন্দ্রের’ সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডায়াসপোরা ফিলানথ্রোপি অর্গানাইজেশন আছে নাম ‘দৃষ্টিপাত’। এছাড়াও আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা নির্যাতিত নারীকে ন্যায় বিচারের জন্য সাহায্য করে। সর্বোপরি আমাদের মনে রাখা উচিত ধর্ষণের প্রতিবাদ করা যেমন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তেমনি এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিও আমাদেরই কর্তব্য। ০৪.০৬.২০১৫