ঢাকা, বুধবার ৩০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫:০৯:২৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে চড়া ফলের বাজার, নজরদারির আশ্বাস গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেন, টিকে থাকতে স্কুল ছেড়ে কাজে শিশুরা বিশ্ব হৃদরোগ দিবস: দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জনের মৃত্যু দেশের বাজারে ফের কমলো সোনার দাম ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’ সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কতা

নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৩৮ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ শিশুর পরবর্তী জীবনে অটিজম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মগত এসব সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের অটিজমের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি সাত গুণেরও বেশি হতে পারে।


গবেষণায় সিফিলিস, রুবেলা, টক্সোপ্লাসমোসিস, সাইটোমেগোভাইরাস (সিএমভি) ও হার্পিসভাইরাসের মতো জন্মগত সংক্রমণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব সংক্রমণ সম্মিলিতভাবে টর্চ সংক্রমণ নামে পরিচিত।


সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ১৯৮৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ৩৭ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের মধ্যে ৯৭৫ জনের জন্মগত টর্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। গবেষকেরা প্রায় তিন দশক ধরে অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন।


গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, জন্মগত টর্চ সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অটিজম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষকদের ধারণা, গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু জীবাণু ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেখা দিতে পারে।


শিশুদের শিক্ষাজীবনেও এসব সংক্রমণের প্রভাবের ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকেরা। গবেষণায় সংক্রমণে আক্রান্ত এমন কিছু শিশুর বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে, যাদের অটিজম বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত হয়নি।


গবেষকদের মতে, জন্মগত টর্চ সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাইটোমেগালোভাইরাস নবজাতকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে এই সংক্রমণের প্রকোপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন এবং কিছু স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশে এর বোঝা বেশি হতে পারে।


গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টিকাদান, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা। রুবেলার মতো টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের আগে টিকাদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব টিকা গর্ভাবস্থায় দেওয়া যায় না তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন।


এ ছাড়া জন্মগত সংক্রমণ শনাক্ত করার কার্যকর পদ্ধতি উন্নত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নবজাতকদের পরীক্ষা করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, কিছু সংক্রমণে আক্রান্ত মা বা নবজাতকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার ফলাফল ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালেও জন্মগত সংক্রমণে আক্রান্ত সব শিশুর অটিজম বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা হবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ব্যক্তিভেদে ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ।


সূত্র: ইউরো নিউজ