ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১০:৫২:০৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যায় প্রাণহানী বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা

নারী জাগরণের অগ্রপথিক হেনা দাসের জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নারী জাগরণের অগ্রপথিক কমরেড হেনা দাসের জন্মদিন। ‘হেনা দাস’ একটি নাম, এটি ইতিহাস। তার মত মহান ব্যক্তিত্বরা মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন নিজ কর্মের মাধ্যমে। চিরদিন বেঁচে থাকেন তারা। 

অবিভক্ত বাংলার নারী আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম পথিকৃতি হেনা দাস ১৯২৪ সালের এই দিনে সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবা রায় বাহাদুর সতীশচন্দ্র দত্ত ছিলেন আইনজীবী। তার মায়ের নাম মনোরমা দত্ত। মনোরমা দত্ত সিলেট চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামের জমিদার জগৎচন্দ্র বিশ্বাসের বড় মেয়ে।
 
ছাত্রজীবনেই স্বদেশি আন্দোলন এবং পরে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন ও সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন হেনা দাস। পরবর্তী সময়ে তিনি নানকার বিদ্রোহ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এ ছাড়া নারী ও শিক্ষা আন্দোলন, চা শ্রমিক, আদিবাসী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন কমরেড হেনা।

তখন তিনি সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। পরে নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থাতেই তিনি ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ-বিরোধী-আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সব ধরণের সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য ছিলেন হেনা দাস। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্যও ছিলেন। এ ছাড়া বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া কমরেড হেনা কর্মজীবনে ছিলেন একজন শিক্ষিকা। 

সিলেট জেলা কৃষক আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা রোহিনী দাস তাঁর স্বামী। হেনা দাসের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে দীপা ইসলাম গাইনোকোলোজিস্ট। ছোট মেয়ে চম্পা জামান কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়েছেন।

সিলেট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন হেনা দাস। ১৯৪০ সালে এই স্কুল থেকেই মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। প্রথম বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন  ১৯৪২ সালে। এরপর রাজনীতির কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর তার লেখাপড়া বন্ধ ছিলো। পরে ১৯৪৭ সালে বিএ এবং ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এমএ পাশ করেন।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ও আন্দোলনের সুচনাকাল ছিল ত্রিশের দশক। শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা হেনা দাসের বাড়ি থেকে তখন মিছিল, সভা, স্লোগান সবই লক্ষ্য করা যেতো। এই কর্মকান্ডগুলোই তাঁকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে প্রভাবিত করে। 

হেনা দাস ১৯৫৮ সালে ঢাকার ‘গেণ্ডারিয়া মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়ে’ শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৬১ সালে ‘নারায়ণগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পদে নিয়োগ পান তিনি। ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১২ বছর বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। কর্মজীবন শুরুর আগে রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ ১০ বছর তাঁকে আত্মগোপনে থাকতে হয়।

সংগ্রামী এই নারী তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ রাষ্ট্রীয়ভাবে পেয়েছেন রোকেয়া পদক। এছাড়াও সুনামগঞ্জ পৌরসভা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ঢাকেশ্বরী মন্দির, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আহমেদ শরীফ ট্রাস্টসহ  বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মাননা প্রদান করেছে।

২০০৯ সালের ২০ জুলাই ৮৫ বছর বয়সে ঢাকাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।