ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ২২:১৭:৫২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে:পুলিশ শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের কর্ম-পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছি

বাসস | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৩:২৯ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।

 

শনিবার বিকেলে সিডনেীতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অষ্ট্রেলিয়া সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অষ্ট্রেলিয়া শাখা এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।সিডনীর সোফিটেল হোটেলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।


শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের গৃহিত বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্যই আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হবার যোগ্যতা অর্জনে সমর্থ হয়েছে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আগামী ছয় বছর পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এর অবস্থানকে ধরে রাখার লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এখন আমরা পরিকল্পনা করছি কিভাবে দেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।



প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সকল ধরনের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’ তিনি বাংলাদেশের এই উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা যাতে কোনভাবে ব্যাহত না হয় সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধাপরাধী, খুনী এবং দেশের উন্নয়নের প্রতি অনাস্থাশীল চক্র যাতে কোনভাবে আর কোনদিন এ দেশের রাষ্ট্রীয় রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে।


দেশের মর্যাদার বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যে যেখানেই বাস করুন না কেন, আপনাদের দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করে দেশের সম্মানকে তুলে ধরতে হবে, যে সম্মান আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি।


তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্যদিয়েই আমরা এই শহীদদের প্রতি যথাযথভাবে সন্মান জানাতে পারি।’


শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করে দেশের অর্থনীতিকে সম্ভাবনাময় রূপ দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় থাকার স্বল্প সময়ে তিনি যে বিপুল কাজ করেছিলেন তা ভাবলে আমাদের বিম্মিত হতে হয়। তাঁর হত্যাকা-ের পর বাংলাদেশ সবক্ষেত্রে পিছিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু সত্যকে কেউ দামাচাপা দিয়ে রাখতে পারে না। আর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এর জ্বলন্ত উদাহরণ।


শেখ হাসিনা বলেন, ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরেন তখন বাংলাদেশের মানুষ এক কঠিন সময় পার করছিল এবং দেশ খুনিদের শাসনে কাতরাচ্ছিল।


তিনি বলেন, বারবার তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা সত্ত্বেও দেশের মানুষের নিঃস্বার্থ সমর্থন এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অপরিসীম ত্যাগের কারণে তাঁর দেশে ফেরা সম্ভব হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘আমি তাদের হুমকি-ধামকিকে কখনো ভয় পাইনি। জনগণের জন্য কাজ করা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা অব্যাহত রেখেছি এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়েছি।’


শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে তখন বাংলাদেশে সত্যিকার উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি হয়।


গ্রামের মানুষ এখন উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের শাসন এবং ২০০৮ সাল থেকে আমরা যেসব উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করেছি তার সুফল ভোগ করছে।’


বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রসঙ্গ বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমন করা ছিল অগ্রাধিকার কাজ, যা তাঁর সরকার কয়েক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করেছে।


বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি পাকিস্তানি কায়দায় দেশ চালিয়েছে। এই দলটি দেশে সন্ত্রাস, হত্যা ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে আমাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার আদালতে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।


বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়া পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হবে বলে কেউ চিন্তা করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক আমাদেরকে দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করেছিল। আমরা তাই তাদের কাছ থেকে একটি টাকাও নিইনি এবং আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থেই এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’


তিনি বলেন, জনগণের সেবার জন্যই রাজনীতিতে এসেছেন, নিজের ভবিষ্যত তৈরির জন্য নয়।


শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার পিতা দেশকে স্বাধীন করে গেছেন এবং এই দেশের জনগণের জন্যই তিনি তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে বাংলাদেশকে গঠন করাই এখন আমার দায়িত্ব।’


নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণে তাঁর সরকারের সিদ্ধান্তকে সর্বাত্মকরণে সমর্থন দেয়ায় তিনি দেশের সাধারণ জনগণ ও প্রবাসীদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।


অস্ট্রেলিয়ার অনেক রাজনৈতিক নেতার আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দৃঢ় সমর্থন দানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকার ভুয়সী প্রশংসা করেন। উন্নয়নশীল দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


স্বাধীনতার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক বজায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতাসহ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপক অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অষ্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.শামসু রহমান,আওয়ামী লীগ নেতা ড. মিল্টন হাসনাত,গামা আব্দুল কাদির,আনিসুর রহমান রিতু, প্রদ্যুত সিং চুন্নু এবং নিরাজুল ইসলাম অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহবায়ক শেখ শামিমুল হক।


অষ্ট্রেলিয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।