ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ৭:৪৮:২১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যায় প্রাণহানী বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা

বাংলা ভাষার অপচর্চা, ভবিষ্যতের অশনি সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১৭ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বাংলা ছাড়া অন্য সব বিষয় পড়তে খুব ভালো লাগে- কথাটা বলছিল রাজধানীর ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাস্টার মাইন্ড স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াফি। বাংলা ভাষা চর্চার ব্যাপারে অভিভাবকদের উদাসিনতাও যে চরমে সেটা বোঝা গেলো ইয়াফির মায়ের মন্তব্যে। 

তিনি বলেন, বাংলা ছাড়া অন্য সব বিষয়েই ইয়াফি অনেক ভালো নম্বর পায়। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে আগে বাংলা বাধ্যতামূলক ছিলো না। কিন্তু এখন সব শ্রেণিতেই বোর্ডের বাংলা বইটিকে বাধ্যতামূলক পাঠ্য বইয়ের তালিকাভূক্ত করেছে শিক্ষা বোর্ড। এতে বাচ্চাগুলোর খাটনি বেড়েছে খামোখা।

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরই বাংলা ভাষার প্রতি মনোভাব ইয়াফি ও তার মায়ের মতো। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকালেই নিজের ভাষা শেখার উপযুক্ত সময়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি তারপর ইংরেজী শেখার পত্তন’। বিশ্ব কবির এ কথাতেই বোঝা যায় বাংলা ভাষার গুরুত্ব কত। বাংলা ভাষার ইতিহাস বাঙালি জাতির গর্বের ইতিহাস, প্রতিবাদের ইতিহাস, পরাধীনতার শেকল ভাঙ্গার ইতিহাস।

মাতৃভাষার জন্য ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতসহ আরো অনেকে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া মায়ের ভাষা রক্ষায় কতটুকু সচেষ্ট আমরা। আজকাল দেখা যায় কিছু টিভি চ্যানেল ও এফএম রেডিওতে বাংলা ভাষাকে বিকৃত করে উচ্চারণ করা হয়। এছাড়াও নাটক, সিনেমা, সাহিত্য রচনায় ভাষার বিকৃতি চোখে পড়ে।

অন্যদিকে পথে বের হলেই চোখে পড়ে ভুল বাংলা বানানে ভরা সাইনবোর্ডের সারি। ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাংলা ভাষা ব্যবহার হচ্ছে যাচ্ছেতাইভাবে। 

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে বলা আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।’ এর মানে সংবিধান যেদিন প্রণীত হয়েছে সেদিন থেকেই এই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে বাংলার ব্যবহার বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটগুলোতেও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বাংলায়। তা সত্বেও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ভাষার মধ্যে ইংরেজি ভাষার অকারণ প্রয়োগ দেখা যায়। যা ভাষার প্রতি কেবল অবমাননাই নয়। আমাদের একুশের চেতনাকে আঘাত করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  নিজেরাই যদি বাংলা ভাষাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে বিদেশী ভাষার স্টাইলে উচ্চারণ করি তাহলে এই লজ্জা গোটা জাতির। 

তারা বলছেন, মনে রাখা দরকার, একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন বাঙালির গর্ব ও আত্ম পরিচয়। তাই ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার লালন-পালন করতে হবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। তাহলেই বেঁচে থাকবে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর জন্য বাংলাভাষাকে আমাদের বৃত্তির সঙ্গে, চাকুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ভালো বাংলা বলতে পারলে, ভালো বাংলা লিখতে পারলে আগে চাকুির পাবে, ভালো চাকুরি পাবে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার।

তিনি বলেন,‘ভাষা বেঁচে থাকে সাহিত্যে। ভাষা বেঁচে থাকে মানুষের মুখে। আমাদের বাংলা ভাষা এখন পৃথিবীতে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি মানুষ ব্যবহার করে। আমরা বাংলাদেশে যে সতের কোটি মানুষ তার মধ্যে তরুণের সংখ্যা অনেক। এই তরুণরা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে বাংলা ভাষাকে তখনই ভালোভাবে ব্যবহার করবে যখন দেখবে যে, বাংলাভাষা ব্যবহার করে সে উন্নত জীবনের সন্ধান পাচ্ছে, চাকুরি পাচ্ছে এবং সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে।’