ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬ ৫:৫২:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৪০ বছর পর নকআউটে জয় মেক্সিকোর ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর তিন বছরের শিশুকে উদ্ধার এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে ঢাবি সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী কাল শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, সব শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ

ভারতে একদিনে ৬৪ হাজার করোনায় আক্রান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২০ বুধবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

করোনার ভয়াল রূপ দেখছে প্রতিবেশি ভরাত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪,৫৩১ জন। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১০৯২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৬০,০৯১ জন। ভারতে এখন সুস্থতার হার ৭৩.৬৪ শতাংশ। আর মৃত্যুহার ১.৯১ শতাংশ।

দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বুলেটিন অনুসারে ১৯ অগস্ট বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২৭,৬৭,২৭৩। এ যাবৎ দেশে করোনার সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫২,৮৮৯ জনের। এখনও পর্যন্ত কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২০,৩৭,৮৭০ জন। ভারতে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৬,৮৬,৫১৪।

ভারতের কোভিড পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬,০৪,৩৫৮। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ২০,২৬৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪,২৮,৫১৪ জন। মহারাষ্ট্রে অ্যাকটিভ কেস ১,৫৫,৫৭৯।

দ্বিতীয় এখানে রয়েছে তামিলনাড়ু। এখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৪৩,৯৪৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮৬ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২,৮৩,৯৩৭ জন। তামিলনাড়ুতে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৫৪,১২২।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। এখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২,৯৬,৬০৯ জন। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ২৭৩২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২,০৯,১০০ জন। অন্ধ্রপ্রদেশে অ্যাকটিভ কেস ৮৪,৭৭৭।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে কর্নাটক। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২,৩৩,২৮৩। মৃত্যু হয়েছে ৪০৬২ জনের। কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১,৪৮,৫৬২ জন। কর্নাটকে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৮০,৬৫৯।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে দিল্লি। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,৫২,৩৬৭। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৪২১৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১,৩৮,৩০১ জন। দিল্লিতে অ্যাকটিভ কেস ১০,৮৫২।

কোভিড নেগেটিভ মানে পুরোপুরি সুস্থ নয়

ভারতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৭৩ শতাংশের বেশি। দিন দিন তা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে এই হার আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসক মহল এক নতুন আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে। কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরেও দেখা দিচ্ছে অনেক সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্বাসের সমস্যা ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। তাই সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও নাকি হাসপাতালে ফিরে যাচ্ছেন অনেক রোগী। এই নতুন সমস্যায় উদ্বেগ বেড়েছে চিকিৎসক মহলে।

গত সপ্তাহে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে স্বাধীনতা দিবসের দিন নিজের বাড়িতে পতাকা উত্তোলন করতেও দেখা যায় তাঁকে। তারপরে ফের দিল্লির এইমস-এ ভর্তি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। জানা গিয়েছে তিন-চারদিন থেকে মাথা ঘুরছিল ও গা ব্যথা হচ্ছিল তাঁর।

করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরে যে অমিত শাহেরই প্রথম এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা নয়, অনেকের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আর তাই দিল্লি সরকারের পরিচালনায় চলা রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল একটি পোস্ট কোভিড ক্লিনিক শুরু করছে। বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই ক্লিনিক। যাঁরা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁদের জন্য চালু হয়েছে এই ক্লিনিক।

রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডক্টর বি এল শেরওয়াল জানিয়েছেন, “করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও অনেক ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কিছু রোগী বলছেন, তাঁদের কাশি হচ্ছে, কেউ বলছেন মাথা ঘুরছে, কেউ আবার বলছেন গা-হাত পা ব্যথা করছে। এই রোগীরা বিভিন্ন বয়সের রয়েছেন। ছেলে-মেয়ে সবার শরীরেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”

গত শনিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরে তাঁদের অক্সিজেন লেবেল কমে যাচ্ছে। এর ফলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরে যাঁরা বাড়ি যাচ্ছেন, তাঁদের বাড়িতেও অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যসভার সাংসদ কেজে আলফোন্স জানিয়েছেন, তাঁর ৯১ বছর বয়সী মায়ের দেহে গত ২৮ মে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। দু’বার তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু গত ১১ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। কেজে আলফোন্স সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনি কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও এই ভাইরাস আপনার সব সিস্টেমকে খারাপ করে দিচ্ছে। আমার মায়ের হৃদযন্ত্র খারাপ হয়ে যায়। প্রথমবার অ্যাটাক তিনি সামলে নেন। কিন্তু ১১ জুন দ্বিতীয়বার অ্যাটাক আর তিনি সামলাতে পারেননি। অনেক সময় আপনি সুস্থ হওয়ার পরেও বেশিদিন নাও বাঁচতে পারেন। কারণ এই ভাইরাসের প্রভাব অনেকদিন থাকে। এই ভাইরাস আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে নষ্ট করে দেয়।”

জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের কিছু কিছু হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠার পরে ৪০ শতাংশ রোগী ফিরে আসছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাঁদের শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা হচ্ছে। ফলে শুকনো কাশি হচ্ছে ও শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

বম্বে হাসপাতালের ডক্টর গৌতম বনশালী জানিয়েছেন, “করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার প্রায় এক মাস পরে রোগীরা হাসপাতালে ফিরে আসছেন। বেশিরভাগেরই শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা এক্স রে ও সিটি স্ক্যান করছি। তারপরে বোঝা যাচ্ছে তাঁদের হৃদযন্ত্রে সমস্যা হয়েছে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রোগীদের ক্ষেত্রে এটা হচ্ছে।”

সইফি হাসপাতালের ডক্টর দীপেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, “যাঁরা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন, তাঁরা দু’সপ্তাহের মধ্যে ফিরে আসছেন। এমনি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা এক মাসের মধ্যে ফিরে আসছেন। তাঁদের বেশিরভাগেরই হৃদযন্ত্র ফুলে উঠছে, মাথা ঘুরছে। এই সবগুলিই লাং ফিব্রোসিসের লক্ষণ। কারও তো হৃদযন্ত্রে বড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।” এই নতুন সমস্যা দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে চিকিৎসক মহলে। সূত্র: দ্য ওয়াল

-জেডসি