ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ৮:১২:৩১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানী বেড়ে ৭ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেল নারী শ্রমিকদের কারখানা আজ মহাসপ্তমী পাঁচ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি আজ খোলা থাকবে সব ব্যাংক এক দিনে হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের প্রাণহানি

রাবিতে নিজামী-সাঈদীদের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড নিয়ে বিতর্ক 

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫০ এএম, ৩ আগস্ট ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করা কয়েকজন নেতার ছবিসংবলিত একটি বিলবোর্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে শনিবার (১ আগস্ট) টাঙানো হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রসংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের’ চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। তারা বিলবোর্ডটি সরানোর দাবি জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।
 
‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে বিলবোর্ডটি টাঙিয়েছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচার’। এতে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে সেই দণ্ড কার্যকর করা হয়। বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

কর্মসূচিতে বাম সংগঠনগুলোর জোট গনতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিক না কেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজেশন) আমরা মেনে নেব না। যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু। ২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।

ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালে আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর চিহ্নিত সদস্যদের আমরা ঘৃণাভরে স্মরণ করি। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

রাকসুর জিএস ও নভো কালচারের পরিচালক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের বিলবোর্ডের মূল বিষয় জুডিশিয়াল কিলিং। অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালিত বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে।

আম্মার আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, আয়নাঘর, শাপলা হত্যাকাণ্ড এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই বিলবোর্ডটি তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য কাউকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া নয়; বরং তাদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল কি না তা তুলে ধরা।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, তারা বিলবোর্ড টাঙানোর অনুমতি চেয়েছিল, প্রক্টর দপ্তর থেকে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিলবোর্ড টাঙানো হবে এটা আমাদের জানা ছিল না। এ বিষয়ে দুই পক্ষেরই মতামত আমরা শুনছি। আমরা একটা সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করব।