ঢাকা, শুক্রবার ১৭, জুলাই ২০২৬ ৭:৩৩:২৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজ রথযাত্রা কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী নাতনীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল নানীর ফাইনালের আগে ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা

শীর্ষ দশ অনন্যা পুরস্কার পেলেন ১১ নারী

আপডেট: ১১:৩৩ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ শনিবার

_MG_2892 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য শীর্ষ দশ অনন্যা পুরস্কারে ভূষিত হলেন খ্যাতিমান ১১ জন নারী।
রাজধানীর খামার বাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে পাক্ষিক অনন্যা এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— ভাষা সৈনিক অধ্যাপক লায়লা নূর, দেশের প্রথম নারী উপাচার্য (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ফারাজানা ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম নারী ও দেশের দ্বিতীয় নারী উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরাম, মহিলা শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, চিকিৎসক ডা. তাহমিনা বানু, সমাজসেবক রোকসানা সুলতানা, আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ভিজ্যুয়াল আর্ট’র শিল্পী নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা, বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন এবং দেশের প্রথম নারী সামরিক পাইলট নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুৎফি। এ ছাড়া এবার অনন্যা বিশেষ সম্মানান পেয়েছেন সাংবাদিক ও নারী অধিকারকর্মী দিল মনোয়ারা মনু। ‘প্রাণের দল’-এর জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এরপর একই দল ‘ও আমার দেশের মাটি রে’ গান ও নজরুলের সাম্যের গানের অবহে নৃত্য পরিবেশন করে সাধনা শিল্পী গোষ্ঠী। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হকের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে পুরস্কার প্রদান পর্বে তাসমিমা হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক, সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ট গীতি আরা সফিয়া ও নারী সংগঠক মনোয়ারা হাকিম। সম্মাননা প্রদান শেষে অনুভূতি প্রকাশ করেন এবারের শীর্ষ দশ ও বিশেষ সম্মানাপ্রাপ্তরা। অধ্যাপক ফারাজানা ইসলাম বলেন, ‘অনন্যার মতো পুরস্কার পেয়ে আমি রীতিমত আপ্লুত। আজ থেকে আমার দায়িত্ব আরও বহুগুণে বেড়ে গেল।’ এ সময় তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে যেসব প্রতিভাধর নারী কাজ করে যাচ্ছেন তাদের জন্য অনন্যা কাজ করছে, পুরস্কার দিচ্ছে। আর এরই ধারাবাহিতায় আমি পুরস্কারটি পেলাম। এটা সত্যিই আনন্দের এবং ভাল লাগার।’ ডা. তাহমিনা বানু বলেন, ‘শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আর তাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এরই স্বীকৃতি পুরস্কার পেলাম। এটা সত্যি আনন্দের।’ এ সময় পুরস্কারটি দেশের সকল শিশুদের উৎসর্গ করেন। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কাজ করছি। আমি মনে করি, আমি বর্তমানে যে কাজ করছি সেটাও আমার জন্য একাত্তর। আর সে কাজের জন্য মানুষের সহযোগিতা ভালবাসা দরকার। এরই ধারাবাহিতায় পুরস্কার পেলাম। এর ফলে আমার উৎসাহ আরও বেড়ে গেল।’ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন প্রমিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘যখনই কোনো স্বীকৃতি পাই, নিজের কোনো অর্জন হয় তখন আমার বাবাকে ভীষণ মনে পড়ে। বাবা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন।’ অনূভতি প্রকাশে দেশের প্রথম নারী সামরিক পাইলট নাইমা হক ও তামান্না-ই- লুৎফি দেশের জন্য আরও কিছু কাজ করে যেতে পারার অভিমত ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক ও নারী অধিকারকর্মী দিল মনোয়ারা মনু বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠা থেকেই অনন্যা সঙ্গে কাজ করে আসছি। কখনও পুরস্কার পাওয়ার জন্য কাজ করিনি। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করেছি। তারপরও পুরস্কার পেলাম, এটা অত্যন্ত আনন্দের।’ এ সময় তার সাংবাদিকতার পথিকৃৎ সওগাত পত্রিকার নাসির উদ্দিন, বেগম পত্রিকার নূরজাহান বেগম ও কচি কাঁচার মেলার রোকনুজ্জামান দাদু ভাইয়ের নাম বিশেষভাবে স্মরণ করেন। আয়োজনের তৃতীয় পর্বে ২৭ পাউন্ডের কেক কেটে অনন্যার ২৭ বছর পূর্তি উদযাপন করেন এবং দুইশ’ দশ জন অনন্যার ছবি সম্বলিত একটি অনন্যার বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সবশেষে ময়মনসিংহ থেকে আগত নারী বংশীবাদক সরশ্বতী দাশ একক বাঁশি বাদন পরিবেশন করেন।

এই বিভাগের জনপ্রিয়