ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১৪:৪৭:০৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

এক বছরে সড়কে ঝরেছে ১ হাজার ২৭৪ নারী-শিশুর প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৪০ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাত হাজার ২২১ জন। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫১৪টি। সড়কে নিহতের মধ্যে ৭৮৭ জনই নারী, ৪৮৭ জন শিশু। এছাড়া ১ হাজার ২৫২ জন চালক ও শ্রমিক, ৮৮০ শিক্ষার্থী, ২৩১ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৬ জন শিক্ষক, ৩৪ সাংবাদিক রয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক লিখিত বক্তব্যে জানান, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদের আলোকে সমিতির প্রতিবেদনে তৈরি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়লেও হতাহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে চার হাজার ৯৭৯টি সড় দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। যা বিগত বছরের তুলনায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ১৭৬ জন।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর রেল পথে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭০টি। এতে মারা যান ৩৯৪ জন, আহত হন ২৪৮ জন। নৌ-পথে ১৫৯টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১২৬ জন, আহত হন ২৩৪ জন। এসব দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন ৩৮৭ জন। ২০১৮ সালে আকাশ পথে পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ৫৫ জন, আহত হন ৩২ জন।

দুর্ঘটনাকবলিত বাস শতকরা ১৮.৯২ ভাগ, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ২৮.৬৮ ভাগ, কার-মাইক্রোবাস-ফোর হুইলার (জিপ) ৭.৯৩ ভাগ, অটোরিকশা ৯.৬১ ভাগ, মোটরসাইকেল ২৫.৩০ ভাগ, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ৩.৭২ ভাগ, নছিমন-করিমন-হিউম্যান হলার ৫.৮০ ভাগ।

৪১ দশমিক ৫৩ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে গাড়ি চাপায়, ২৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ক্ষেত্রে দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ঘে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, আর গাড়ি খাদে পড়ে ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে।

সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপদজনক ওভারটেকিং, সড়ক-মহাসড়ক ও রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ক্রটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পরা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, যানবাহনে অতি পণ্য বা যাত্রী বহন এবং সড়কে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। সেখানে বলা হয়েছে- ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধিবিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে টিভি-অনলাইন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সড়ক সচেতনতামূলক বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রাক্রসিং দেওয়া, চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাত্রীবান্ধব সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতিগত উন্নয়ন-আধুনিকায়ন, জাতীয় মহাসড়কে কমগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা এবং লাইসেন্স নবায়নের সময় চালকদের জন্য ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করার কথা এসেছে তাদের সুপারিশে।

-জেডসি