ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ২১:৫৪:৪১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যায় প্রাণহানী বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দেশজুড়ে আজও অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের পথে ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:৫০ পিএম, ৪ মার্চ ২০১৯ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুরুতর অসুস্থ ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল ৪টা ১২ মিনিটের দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর সদস্য (পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পৌনে চারটার দিকে ওবায়দুল কাদেরকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

এদিন দুপুরে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে আসেন ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি। এর কিছুক্ষণ পরই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর প্রস্তুতি নেন।

ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলোজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রিন্সিপাল ডক্টর ফিলিপ কোহ এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেবেন।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। সেইসঙ্গে কিছু নেতাকর্মীও রয়েছেন। এছাড়া বিএসএমএমইউতে যেসব চিকিৎসক ওবায়দুল কাদেরর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন তারাও তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন।

এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানান বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া। বিএসএমএমইউর মিলটন হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের নামকরা হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি ওবায়দুল কাদেরকে দেখেছেন। সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার পর তিনি মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেবী শেঠি বলেছেন, আপনারা যে চিকিৎসা দিয়েছেন, চমৎকার চিকিৎসা হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকা হলেও একই চিকিৎসা হতো। এই রোগে এর বেশি কিছু করা সম্ভব না। ওনার অবস্থা কালকের চেয়ে মোটামুটি ভালো। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। কালকের চেয়ে অবস্থা ভালো হওয়ার কারণে তাকে আজ শিফট করা যেতে পারে। কারণ, এর চেয়ে অবস্থা খারাপ হলে তখন আর শিফট করা যাবে না।’

কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তার এখনো ঝুঁকি আছে। তবে এ অবস্থায় চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—তাকে শিফট করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সৈয়দ আলী আহসান (কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান) বলেন, আজ সকাল নয়টার পর থেকে তার অবস্থা স্থিতিশীল। প্রেশার ১১০ থেকে ৭০ হচ্ছে। মাঝেমধ্যে ১২০-১৩০ হচ্ছে। ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্সের যে বিষয়টি ছিল, সেটাও এখন নরমাল। তাঁর হাই ব্লাড সুগার ছিল, সেটাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক জটিলতার বিষয়ে ও তিনি ঝুঁকিমুক্ত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তার ডায়াবেটিক অনিয়মিত পরীক্ষা করা হতো। আগেও হার্ট অ্যাটাক করেছিল। এরপর ঠিকভাবে শরীর চেকআপ করা হয়নি। তাঁর রক্তে ইনফেকশনের ব্যাপার আছে। সেটাও বেড়ে গেছে। তাঁকে শিফট করার এখনই ভালো সময়।

ওবায়দুল কাদেরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের রবিবার ভোরে তার রাজধানীর সংসদ ভবন সংলগ্ন সরকারি বাসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফজরের নামাজের পর হঠাৎ করেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৭টায় হাসপাতালের ডি-ব্লকের কার্ডিওলজি বিভাগের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় সেতুমন্ত্রীকে। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের দোতলায় সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রের (ভেন্টিলেশন) সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে সিটি স্ক্যান ও পরে এনজিওগ্রাম করা হলে ওবায়দুল কাদেরের হৃদযন্ত্রের তিনটি রক্তনালিতে (আর্টারি) ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটিতে রিং পরানো হয়। পরে তার চিকিৎসায় বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

-জেডসি