ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩৮:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

গোল্ডম্যান পুরস্কার: তৃণমূলের লড়াই থেকে বিশ্বস্বীকৃতি

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৮ এএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বিশ্বজুড়ে যখন জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, নদী দখল আর দূষণের মতো সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে লড়ে যাচ্ছেন প্রকৃতিকে বাঁচাতে। না আছে বড় কোনো পরিচিতি, না আছে ক্ষমতার ছায়া—তবু তাদের ছোট ছোট উদ্যোগই অনেক সময় বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। এই তৃণমূলের লড়াকু মানুষদের স্বীকৃতি দিতেই চালু হয়েছে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ, যা আজ বিশ্বে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ সম্মাননা হিসেবে স্বীকৃত। এই পুরস্কারকে গ্রিন নোবেলও বলা হয়।

১৯৮৯ সালে মার্কিন দম্পতি রিচার্ড গোল্ডম্যান ও রোডা গোল্ডম্যান এই পুরস্কার চালু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল একেবারেই স্পষ্ট—পরিবেশ রক্ষায় যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা। বড় কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের উদ্যোগই যে পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হতে পারে, সেই বিশ্বাস থেকেই এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু।

প্রতি বছর বিশ্বের ছয়টি অঞ্চল থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়—আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা। বিজয়ীরা সাধারণত তৃণমূল পর্যায়ের পরিবেশকর্মী, যারা নিজেদের এলাকায় বন উজাড়, নদী দূষণ, শিল্প দূষণ বা জলবায়ু সংকটের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেন। অনেক সময় এই লড়াই তাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে—হুমকি, হয়রানি, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়। তবুও তারা পিছিয়ে যান না, কারণ তাদের লড়াই নিজের অস্তিত্বের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও।

গোল্ডম্যান পুরস্কারের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি শুধু একটি সম্মাননা নয়—এটি একটি শক্তিশালী বার্তা। এই পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে একজন কর্মীর স্থানীয় আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, তার কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে এবং নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি অন্যদেরও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে।

২০২৬ সালে এই পুরস্কার নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রথমবারের মতো সব বিজয়ীই নারী হওয়ায় পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্ব ও ভূমিকা নতুন করে সামনে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা থেকে শুরু করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা—সব ক্ষেত্রেই নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, যা এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে এই সম্মাননার পথ মোটেও সহজ নয়। অনেক বিজয়ী নিজ দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়েন, কখনো কখনো নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবুও তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান না। কারণ তারা জানেন, পরিবেশ রক্ষার এই লড়াই কেবল একটি অঞ্চলের নয়, পুরো পৃথিবীর অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে।

সবশেষে বলা যায়, গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের মধ্যেই। একজন সচেতন মানুষের উদ্যোগই বদলে দিতে পারে একটি সমাজ, এমনকি পুরো বিশ্বকেও।