ঢাকা, শুক্রবার ০৩, জুলাই ২০২৬ ১২:৪৮:২৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১১১৯ এলপি গ্যাসের দাম কমল নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, ত্রিশাল হবে ‘নজরুল সিটি’ জুনে নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার ৩৩৩ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বখাটেদের উৎপাত, স্কুলে ‘যাচ্ছে না’ ছাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৩:৫৬ পিএম, ৭ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি স্কুলের একাধিক ছাত্রী বখাটেদের উৎপাতে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পুলিশকে জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই ছাত্রীদের অভিভাবকরা।


তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলছেন, এসব ঘটনা সত্যি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ঠাকুরপলশা কালুপুরের ওই ছাত্রীদের অভিভাবকরা উত্ত্যক্তের বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পুলিশের কাছে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ছাত্রীদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি জানান।


অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলার ঠাকুরপলশা কালুপুর গ্রামের একাধিক ছাত্রী এলাকার চৌহদ্দিটোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিপুর বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। প্রতি দিনই স্কুলে যাতায়াতের পথে দ্বারিয়াপুর চৌহদ্দিটোলার স্থানীয় কয়েকজন বখাটে তাদের উত্ত্যক্ত করে। বখাটেরা স্কুলছাত্রীদের ওপর পানি ছিটানো, ওড়না ধরে টানাটানি, মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলা ও হাত থেকে বই কেড়ে নেওয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে।


স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি ছাত্রীরা তাদের পরিবারের কাছে জানালে তারা উত্ত্যক্তকারীদের অভিভাবকদের বলেন। পরে ওই উত্ত্যক্তকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে মাফ চায়। কিন্তু ওই দিন রাতেই বখাটেদের মধ্যে রকি, রানা, মিলন, ইসমাইলসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন ঠাকুরপলশা কালুপুর গ্রামে গিয়ে অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রকি, রানা ও মিলনকে মারধর করে স্থানীয়রা।


পরে গত ৩ ও ৪ এপ্রিল রকি, রানা, মিলন, ইসমাইলসহ আরও কয়েকজন পাল্টা মারধর করে ওই এলাকার এক স্কুলছাত্রীর মামা মানিক উদ্দিন, চাচা সাদিকুল ইসলাম ও নয়ন নামের অন্য এক প্রতিবেশীকে। পরে তারা সদর মডেল থানায় অভিযোগ করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয় ওই ছাত্রীরা।


এ বিষয়ে হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির আকতার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীদের বিকল্প পথ দিয়ে আসার জন্য পরামর্শ দেই। বিষয়টি ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলামকে জানালেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’


চৌহ্দ্দীটোলা এলাকার বাসিন্দা ও শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষে মারামারি হয়েছে শুনেছি। কিন্তু ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা হয়েছে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই।’


জানা গেছে, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী রকির আত্মীয়।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। কিন্তু কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যদি ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা হয়ে থাকে, তবে এটা আপোষযোগ্য নয়। মামলা হবে।’