ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ২৩:২৮:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে:পুলিশ শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ছায়ানটে বর্ষবরণ, গানে কবিতায় সম্প্রীতির আহ্বান

সালেহীন বাবু | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০২:১৬ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার

ঊষালগ্নে মর্তুজা কবিরের বাঁশিতে রাগ আহীর ভাঁয়রো পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে রমনা অশত্থমূলে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তিনি পরিবেশন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অরুণকান্তি কে গো যোগি ভিখারি গানের সুর।

 

এর পর একক সঙ্গীত পর্বে অভয়া দত্ত পরিবেশন করেন ‘শুভ প্রভাতে পূর্ব গগনে’, সুমা রাণী রায় শোনান ‘প্রথম আলোর চরণধ্বনি’, খায়রুল আনাম শাকিল গাইলেন ‘জাগো অরুণ ভৈরব’, সত্যম কুমার দেবনাথ গেয়েছেন ‘প্রাণের প্রাণ জাগিছে তোমারি প্রাণে’, সেঁজুতি বড়ুয়া শোনান ‘তোমার হাতের রাখীখানি’। তাদের গানের মধ্যেই চলতে থাকে ছায়ানটের শিশু ও বড়দের দলের সম্মেলক গানের পরিবেশনা।


পরে সুস্মিতা দেবনাথ শুচি শোনান ‘আজি গাও মহাগীত’, মাহমুদুল হাসান শোনান ‘গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কাবেরী যমুনা ঐ’, লাইসা আহমেদ লিসা শোনান ‘জল বলে চল’, শামীমা নাজনীন গাইলেন ‘পৃথিবীজোড়া গান’।


পরে সেমন্তী মঞ্জরী শোনান ‘মালা হতে খসে পরা’, এ টি এম জাহাঙ্গীর শোনান ‘তোমার দ্বারে কেন আসি’, শামীমা পারভিন শিমু গাইলেন ‘শ্যামল বরণ বাংলা মায়ের’, মঈদুল ইসলাম গাইলেন ‘ধূলি পিঙ্গল জটাজুল মেলে’, নুসরাত জাহান রুনা শোনান ‘ও আমার বাংলাদেশের মাটি’ গানগুলো।


মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম শোনান ‘শিরনি খাওয়ার লোভ যার আছে’, আবুল কালাম আজাদ শোনান ‘জীবন আমার ধন্য যে হয়’, গানগুলো।


সম্মেলক গান পর্বে ছায়ানটের ‘বড়দের দল’ পরিবেশন করে ‘পূর্ব গগনভাগে দীপ্ত হইল সুপ্রভাত’, ‘ওই পোহাইল তিমিররাতি’, ‘শুভ সমুজ্জ্বল হে চির নির্মল’, ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’, ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন’, ‘ও আমার দরদী আগে জানলে’ গানগুলো।


‘ছোটদের দল’ পরিবেশন করে ‘প্রভাত বীণা তব বাজে’, ‘আজি নূতন রতনে’, ‘মেঘ বিহীন খর বৈশাখে’, ‘এলো এলো রে বৈশাখী ঝড়’, ‘বাঁধন ছেঁড়ার সাধন হবে’ গানগুলো। পরে আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ পরিবেশন করেন হুমায়ূন আজাদের ‘শুভেচ্ছা’ কবিতাটি।


প্রভাতী আয়োজনের একেবারে শেষ অংশে ছোট ও বড়দের দল যৌথভাবে পরিবেশন করে ‘ওরে আইল বৈশাখ নয়া সাজে’ গানটি।


পরে ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন বৈশাখি কথন পর্বের পর রীতি অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারকার ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন।


প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এবারকার আয়োজনে ১২টি সমবেত ও ১৬টি একক গান, দুইটি কবিতা আবৃত্তি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে আবাহন করে ছায়ানটের শিল্পীরা। এটি ছিল ছায়ানটের ৫১ তম বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।


কাকডাকা ভোর থেকেই রমনার অশ^ত্থমূল ও আশপাশ এলাকায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব এই পহেলা বৈশাখ। একে অন্যকে শুভেচ্ছা আর শুভ কামনার মাঝে শিল্কপ্পীদের কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হাজারো মানুষ মেতেছিলেন বর্ষকে বরণ করে নেওয়ার উৎসবে। একইসঙ্গে এবারও সব অশুভকে পরাহত করে বাঙালি এগিয়ে যাবে নতুন বছরে, এই প্রত্যয় ছিল সবার কণ্ঠে। ছায়ানটের এই আয়োজনটি বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করে।