ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ৯:৪৬:৩৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০১:০৪ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার

শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরকারের সময় শেষ হয়ে আসছে। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। এ জন্য কোনো আক্ষেপ নেই। তবে দেশটাকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি, তা যেন অব্যাহত থাকে।


অাজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং জনপ্রশাসন পদক-২০১৮ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সরকারি কর্মচারিদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, একটা সময় ছিল যখন সরকারি চাকরিতে কাজ করলেও বেতন, কাজ না করলেও বেতন পাওয়া যেত। কাজেই কাজ করলে-করলাম বা না করলে নাই- এই চিন্তা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের মনে রাখতে হবে যে দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে সকলের ট্যাক্সের টাকাতেই তাদের বেতন হয়। এজন্য দেশের মানুষের সেবা করার মানসিকতা লালন করতে হবে। তারা যেন অন্তত ভালো থাকে-সেই চিন্তাটা সবসময় মাথায় থাকতে হবে।

 

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের দিকে দৃষ্টি রেখেই এই চিন্তাটা করার আহ্বান জানাই আমি। আমরা চাই দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মচারিরা তাদের নিজ-নিজ ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাবেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারি কর্মচারিরা যথেষ্ট মেধাবী। মেধা আছে বলেই তারা পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাচ্ছেন। কাজেই তাদের মেধা, তাদের যোগ্যতা, তাদের দক্ষতাকে আমাদের দেশ গড়ার কাজে যেমন লাগাতে হবে তেমনি তাদের গুণাবলী ও উদ্ভাবনী শক্তিরও মূল্যায়ন করতে হবে।


তিনি বলেন, এসব লক্ষ্য রেখেই আমরা যেমন পদোন্নতি দিয়ে থাকি এবং আজকের যে পুরস্কার বিতরণ সেটাও সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করে যাচ্ছি।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।


সরকারি কর্মচারিদের উদ্ভাবনী ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজে উৎসাহ প্রদানের জন্য ২০১৬ সাল থেকে এই পদক চালু করা হয়।প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ৩৯ জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জনপ্রশাসন পদক-২০১৮ বিতরণ করেন।

কোন কাজ ফেলে রাখা এবং কাজের ক্ষেত্রে প্রচলিত লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধের জন্যও প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারিদের প্রতি আহবান জানান।


তিনি বলেন, আমরা প্রচলিত লাল ফিতার ধারণার অবসান ঘটিয়ে সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। তাহলেই আমাদের উন্নয়নটা স্বার্থক হবে। দেশ আরো উন্নত হবে এবং দেশে কোন দারিদ্র্য থাকবে না। দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারবো, সেটাই আমাদের মাথায় রাখতে হবে।


সরকারি পর্যায়েও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০১২ সাল থেকে গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট নামে একটি আলাদা শাখা খোলা হয়েছে। এই ইউনিটের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, নতুন-নতুন উপায় উদ্ভাবন করে সরকারি সেবা প্রদান পদ্ধতি সহজ করা। পাশাপাশি সরকারি কাজের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এগিয়ে যাওয়ার জন্যই আমাদের সবসময় উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে, যেন আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে পারি।


তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রির জন্য আপনাদের অনেক সময় বিদেশ পাঠানো হয়। ডিগ্রি নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবেন। মানুষের জীবনমানের যেন উন্নয়ন হয়, সে কাজে লাগাবেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। ঢাকায় মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে, দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, সারাদেশে বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হয়েছে।


বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, রাজধানীকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী অতি অল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনায় রয়েছে। এজন্য বুলেট ট্রেন (দ্রুতগতির ট্রেন) আমরা করতে পারি। আমরা যদি ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাক -সিলেট, ঢাকা -দিনাজপুর ও ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর এবং ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালু করতে পারি, তাহলে সমগ্র দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত ও দ্রুত হবে।


তিনি বলেন, সেইসাথে ঢাকাকে ঘিরে একটা এলিভেটেড রিং রোড তৈরি করা হবে। নদীগুলো খনন করে নৌপথ তৈরি এবং পাশাপাশি রেলপথ তৈরি করা। এছাড়া মাল্টি স্টোরেড বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে আবাসনের সৃষ্টি করে নতুন-নতুন নগর আমরা গড়ে তুলতে পারি। এভাবে আমাদের দেশটাকে আমরা উন্নত করতে পারি।


তিনি বলেন, মানুষ কাজের জন্য দিনে রাজধানীতে আসলেও রাতে যেন তারা নিজ শহরে ফিরে যেতে পারে-জনসংখ্যার আধিক্যের কথা মাথায় রেখে সেভাবেই চিন্তা করতে হবে। 


সরকার প্রধান বলেন, দেশ চালানোর জন্য ভিশন লাগে। লক্ষ্য স্থির করতে হয়। এই লক্ষ্য স্থির করে কাজ করেছি বলে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারছি। আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চাই, সেই লক্ষ্য স্থির করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।