ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩০:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ঢাকায় ‘ক্যাট কালচার’: সোশ্যাল ট্রেন্ডে বিড়াল পোষার জোয়ার

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৩১ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

রেগডল বিড়ালরা বড় এবং নরম পশমযুক্ত। তাদের নরম স্বভাবের কারণে, তারা সহজেই গৃহপালিত হয়। খাদ্যাভ্যাসে তারা সাধারণ ক্যাট ফুড এবং কাঁচা মাংস পছন্দ করে।

রেগডল বিড়ালরা বড় এবং নরম পশমযুক্ত। তাদের নরম স্বভাবের কারণে, তারা সহজেই গৃহপালিত হয়। খাদ্যাভ্যাসে তারা সাধারণ ক্যাট ফুড এবং কাঁচা মাংস পছন্দ করে।

রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত, কংক্রিটে ঘেরা জীবনে নীরব এক পরিবর্তন চোখে পড়ছে—মানুষের ঘরে ঘরে এখন নতুন সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে বিড়াল। কয়েক বছর আগেও যা ছিল সীমিত পরিসরের অভ্যাস, এখন তা রীতিমতো এক নগর-সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

কেন হঠাৎ এই বিড়াল-প্রীতি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে আছে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ।
করোনার পরবর্তী সময়ে শহুরে মানুষের মধ্যে একাকীত্ব বেড়েছে, আর সেই শূন্যতা পূরণে অনেকেই বেছে নিয়েছেন পোষা প্রাণী। গবেষণা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশে পোষা প্রাণীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে ।

ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বিড়াল পোষা সহজ—কম জায়গায় রাখা যায়, তুলনামূলক কম খরচ, এবং কম ঝামেলা। ফলে শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ পোষা প্রাণীর মালিকই বিড়াল পোষেন ।

এছাড়া ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবও রয়েছে। মুসলিম সমাজে বিড়ালকে পরিচ্ছন্ন প্রাণী হিসেবে দেখা হয়, যা বিড়াল পালনের প্রবণতা বাড়িয়েছে ।

কত বিড়াল এই শহরে?
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে পোষা বিড়ালের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি । এর বড় একটি অংশই রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত।

ঢাকায় সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকলেও, পোষা প্রাণী খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ—পেট ফুড, ক্লিনিক, পেট হোস্টেল—সবই এই প্রবণতার শক্ত প্রমাণ। শহরে ইতোমধ্যে পেট হোস্টেল ও ক্যাফে গড়ে উঠেছে, যা কয়েক বছর আগেও কল্পনাতীত ছিল ।

কোন বয়সীরা বেশি বিড়াল পোষে?
এই ‘ক্যাট কালচার’-এর মূল চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী শহুরে, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা সবচেয়ে বেশি বিড়াল পোষেন ।

নিউক্লিয়ার পরিবার, একা থাকা, চাকরিজীবী জীবন—সব মিলিয়ে বিড়াল যেন হয়ে উঠেছে ‘কম্প্যানিয়ন’। অনেকেই বিড়ালকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখছেন।

কোন রঙের বিড়াল বেশি জনপ্রিয়?

ঢাকায় বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে শুধু প্রজাতিই নয়, রঙও এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের কারণে অনেকেই ‘লুক’ বা ‘কিউটনেস’ বিবেচনায় রঙ বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে এবং শহুরে সমাজে সাধারণত যেসব রঙের বিড়াল বেশি জনপ্রিয়—

সাদা (White):
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও “ফটোজেনিক” হিসেবে ধরা হয়। পরিষ্কার, রাজকীয় লুকের কারণে ঢাকায় খুব জনপ্রিয়।

ধূসর/গ্রে (Gray/Blue):
স্মার্ট ও এলিগেন্ট দেখায়—বিশেষ করে Russian Blue টাইপের রঙ এখন ট্রেন্ডি।

কমলা বা অরেঞ্জ ট্যাবি (Orange Tabby):
খুব কিউট ও ফ্রেন্ডলি লুকের জন্য জনপ্রিয়। গবেষণায় দেখা যায়, এই রঙের বিড়াল অনেকের কাছেই বেশি আকর্ষণীয় লাগে ।

কালো (Black):
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন রঙ , তবে জনপ্রিয়তা একটু কম—কারণ অনেক জায়গায় কুসংস্কার আছে।

ক্যালিকো ও মিশ্র রঙ (Calico/Tortoiseshell):
তিন রঙের মিশ্রণ হওয়ায় দেখতে ইউনিক—বিশেষ করে নারী বিড়ালের মধ্যে বেশি দেখা যায় ।

ট্যাবি (ডোরাকাটা/স্ট্রাইপড):
সবচেয়ে কমন হলেও “ন্যাচারাল লুক” এর জন্য অনেকেই পছন্দ করেন ।

কী কী প্রজাতির বিড়াল জনপ্রিয়?
ঢাকায় সাধারণত তিন ধরনের বিড়াল বেশি দেখা যায়—

দেশি (ডেসি) বিড়াল: সহজে মানিয়ে নেয়, কম খরচ
পার্সিয়ান: লম্বা লোম, আকর্ষণীয় চেহারা—সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘শো-ক্যাট’
সাইবেরিয়ান, স্কটিশ ফোল্ডসহ বিদেশি জাত: ধনী ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে ট্রেন্ড

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি প্রজাতির বিড়াল বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেশি অসুস্থ হয়, ফলে যত্নের প্রয়োজনও বেশি।

শুধু শখ নয়, এখন ‘ইন্ডাস্ট্রি’
বিড়াল পোষার এই প্রবণতা ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন অর্থনীতি—

পেট ফুড মার্কেট
ভেট ক্লিনিক
গ্রুমিং সেন্টার
পেট হোস্টেল

বাংলাদেশে পোষা প্রাণী খাত এখন শত কোটি টাকার বাজারে পরিণত হয়েছে এবং দ্রুত বাড়ছে ।

ঢাকায় বিড়ালের দাম কেমন?

১. দেশি (ডেসি) বিড়াল

সাধারণত ফ্রি বা খুব কম দামে পাওয়া যায়
কেউ কেউ ৫০০–২,০০০ টাকায় বিক্রি করে
অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তা থেকে দত্তক নেন

২. পার্সিয়ান (Persian)

সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘পেট ক্যাট’
দাম: প্রায় ৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা
ভালো ব্রিড বা শো-কোয়ালিটি হলে ৩০,০০০+ পর্যন্ত যেতে পারে

৩. স্কটিশ ফোল্ড (Scottish Fold)

কানের ভাঁজের জন্য খুব আকর্ষণীয়
দাম: ২০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা

৪. সায়ামিজ (Siamese)

চিকন গড়ন ও আলাদা চোখের রঙ
দাম: ১৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা

৫. মেইন কুন (Maine Coon)

বড় আকারের ও লম্বা লোম
দাম: ৫০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি

কেন দামে এত পার্থক্য?
বংশ (Pedigree): খাঁটি জাত হলে দাম বেশি
বয়স: ছোট বাচ্চা (kitten) বেশি দামে বিক্রি হয়
ভ্যাকসিন/স্বাস্থ্য: টিকা দেওয়া থাকলে দাম বাড়ে
ইমপোর্টেড না লোকাল: বিদেশ থেকে আনা হলে দাম অনেক বেশি।

বাস্তব চিত্র
ঢাকার বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবার ৫–২০ হাজার টাকার মধ্যে বিড়াল কিনে থাকে। তবে উচ্চবিত্তদের মধ্যে ৫০ হাজার বা তার বেশি দামের বিড়ালও এখন ট্রেন্ড হয়ে উঠছে।

একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না কিনে দত্তক নেওয়া (adoption) অনেক ভালো বিকল্প। এতে খরচ কমে, আবার পথের অসহায় প্রাণীও আশ্রয় পায়।

সামাজিক মাধ্যমে বিড়ালের দাপট
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে এখন বিড়াল এক ধরনের ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’। বিড়ালের ছবি, ভিডিও, এমনকি ‘ক্যাট শো’—সবই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ঢাকায় আয়োজিত বড় ক্যাট শো-তে শত শত বিড়ালের অংশগ্রহণ এই প্রবণতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে ।

সাম্প্রতিক প্রবণতায় দেখা গেছে, অনেক তরুণ-তরুণী এমন রঙের বিড়াল পছন্দ করছেন যা ছবি ও ভিডিওতে ভালো দেখায়—বিশেষ করে সাদা, ধূসর ও অরেঞ্জ রঙ।

চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে এই প্রবণতার সঙ্গে এসেছে কিছু সমস্যা—

সঠিক যত্নের অভাব
চিকিৎসা ব্যয়
পরিত্যক্ত বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্বশীল পোষা সংস্কৃতি গড়ে না উঠলে ভবিষ্যতে এটি বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

শেষ কথা
ঢাকার দ্রুতগতির জীবনে বিড়াল যেন হয়ে উঠেছে নীরব সঙ্গী—
একাকীত্বের সান্ত্বনা, ভালোবাসার আশ্রয়।

কিন্তু এই ভালোবাসা যেন শুধু ট্রেন্ড না হয়ে দায়িত্বে পরিণত হয়—
সেটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।