দেশে একটিও পথশিশু থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কমআপডেট: ১২:১৭ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৮ রবিবার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার। তাদেরই কেউ প্রাইম মিনিস্টার হবে আমার মতো, কেউ বড় বড় চাকরি করবে, এ দেশকে গড়ে তুলবে। দেশে একটিও পথশিশু থাকবে না।
আজ দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং গোপালগজ্ঞ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। গোপালগঞ্জের এস এম সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র আরাফাত হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। গোপালগঞ্জের সোনালী স্বপ্ন একাডেমীর চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী প্রিয়ন্তি সাহা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালযের সচিব নাসিমা বেগম, ঢাকা এবং গোপালগঞ্জের বিভাগীয় কমিশনার বজলুল আহমেদ এবং মোখলেসুর রহমান সরকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটির স্মরণে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নামে একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তার রচিত এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী প্রকাশিত ‘আমাদের ছোট্ট রাসেল সোনা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় শিশু একাডেমির পরিচালক আনজির লিটন উপস্থিত ছিলেন। ‘উঠবো জেগে ছুটবো বেগে’ শীর্ষক একটি ভিডিও চিত্রও অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে একটি বই মেলার উদ্বোধন করেন এবং ‘আমার ভাবনায় ৭ মার্চ’ শীর্ষক শিশুদের একটি চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এবং কোটালিপাড়ার দু’জন দুঃস্থ মহিলার মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুণর্ব্যক্ত করে ছেলেমেয়েদের এসব অপশক্তির বিষয়ে সচেতন করতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আমাদের শিশু থেকে যুবক শ্রেনী কোথায় যায়, কি করে, কার সঙ্গে মেশে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। যেন কেউ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাশক্তির সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারে। তারা যেন সুস্থ জীবন পায়। আর বাবা-মা, ভাইবোনকে নিয়ে সুখে শান্তিতে কাটাতে পারে তারই পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া খোকা একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আশা আকাঙ্খার ধারক, বাহক। তার নেতৃত্বে সংগ্রামের পথ ধরেই ১৯৭১ সাল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হয় স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই খোকা পরে পরিচিত হয়ে উঠেন ‘বাংলার বন্ধু’ বা বঙ্গবন্ধু নামে, পান জাতির জনকের উপাধি।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মুক্তিকামী জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দু লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
জাতির পিতা দেশ শাসনের জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ের মধ্যেই তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্থ একটি প্রদেশকে গড়ে তুলে স্বল্প আয়ের দেশে উন্নীত করে যান। তিনি যদি আরেকটু সময় পেতেন তা হলে বাংলাদেশ আরো আগেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারতো। কিন্তুু আমাদের দুর্ভাগ্য ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুটি বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলাম। ছয়টি বছর বিদেশে শরণার্থী হিসেবে কাটাতে বাধ্য হন, তাদের দেশে ফিরতে দেয়া হয়নি। একটা দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যদিয়ে স্বজন হারাবার বেদনা নিয়েই তাদের দিন কাটে। তারপরেও তাঁর বাবার স্বপ্ন- দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের একটিও পথশিশু থাকবে না, সে লক্ষ্য বাস্তায়নেই সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি শিশু লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে। এ দেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, খাদ্য পাবে, রোগে চিকিৎসা পাবে, সুন্দর জীবন পাবে এবং তাঁরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে।
’৭৫ এর পর ২১ বছর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারায় দেশ পিছিয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ফলে আরো ৭ বছর পিছিয়ে যায় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই তাঁর সরকারের নানামুখি পদক্ষেপে দেশে আবারও উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়।
সরকার প্রধান বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম, যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশে, যে বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলি যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ উন্নয়নশীল দেশ। আমরাও সে কাতারে সামিল হয়েছি। আমরা একধাপ পিছিয়ে পড়েছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার যে স্বপ্ন- ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে এই সুখবরটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট অর্জন বলে আমি মনে করি। সেজন্য সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন হবে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এরমধ্যে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমি বিশ্বাস করি আমরা তা করতে পারবো।
এ সময় তিনি শিশুদের মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করার তাগিদ দেন। উল্লেখ করেন শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের উপবৃত্তি ও বিশেষ ভাতার কথা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলা যেন ভিক্ষুকমুক্ত হয় সে ব্যবস্থা করেছি আমরা। গ্রামেও যেন উন্নত জীবন যাপন করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যত যেন সুন্দর হয় সেজন্য আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি। তারাই এদেশকে গড়ে তুলবে, এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শিশুদের মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আজকের শিশুরা আগামী দিনের যারা ভবিষ্যত কর্ণধার এ দেশের। তাদের কেউ প্রাইম মিনিস্টার হবে আমার মতো, কেউ বড় বড় চাকরি করবে, কেউ বিভিন্ন জায়গায় যাবে, উন্নত হবে, এ দেশকে গড়ে তুলবে।
তার সরকার শিশুদের মন মানসিকতা, শরীর, স্বাস্থ্য সব কিছু উন্নত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খেলাধূলা, সংস্কৃতি চর্চার দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের খেলা, এমনকি গ্রামের হারিয়ে যাওয়া খেলাধূলাগুলোও এখন যাতে প্রতিযোগিতা হয় তারও পদক্ষেপ নিয়েছি।
- নির্বাসনের অবসান, কলকাতায় তসলিমা
- শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
- `সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে`
- সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে অফিসার ক্যাডেট পদে চাকরি
- সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে ছোট্ট যে ভুলে, বদলান অভ্যাস
- শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক
- মেসি-এমবাপে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
- প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতি
- এবার পর্দায় ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা
- ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
- সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত
- ৩ মাসের শিশুর পা মোচড় দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩
- রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা
- ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
- ৩ মাসের শিশুর পা মোচড় দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩
- সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
- ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল
- ‘বউ’ বানানোর নামে নারীদের চীনে পাচার
- জলাবদ্ধতায় চলাচলে যেসব ভুলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, সতর্ক হোন
- ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন
- ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
- রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ
- টানা বৃষ্টিতেও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
- মাদক বহনকারীরাই ধরা পড়ে, কারবারিরা সংসদে যায়
- রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা
- মেসি-এমবাপে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
- বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪
- ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
- শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর











