ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ৭:৩১:৪০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানী বেড়ে ৭ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেল নারী শ্রমিকদের কারখানা আজ মহাসপ্তমী পাঁচ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি আজ খোলা থাকবে সব ব্যাংক এক দিনে হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের প্রাণহানি

নারী দিবস খেটে খাওয়া নারীদের কাছে আজও অচেনা

মানিক নূর | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৪ এএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

৮ মার্চ এলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আলোচনা, সেমিনার, র‍্যালি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী অধিকার নিয়ে নানা কথা ওঠে। পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। কিন্তু শহর ও গ্রামের অনেক খেটে খাওয়া নারীর কাছে এই দিবসের কোনো আলাদা অর্থ নেই। তারা জানেই না—নারী দিবস কী, কেন পালন করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত জীবিকার সংগ্রামে ব্যস্ত গৃহকর্মী, শ্রমিক, ক্ষুদে ব্যবসায়ী কিংবা কৃষিশ্রমিক নারীরা দিবসটির নামও ঠিকমতো শোনেননি। তাদের কাছে প্রতিটি দিনই সমান—সংগ্রামের দিন।

ধানমন্ডির একটি বাসায় কাজ করা গৃহকর্মী রহিমা খাতুন (৪৫) বলেন,
“নারী দিবস আবার কী? আমরা তো এসব বুঝি না। ভোরে কাজ শুরু করি, রাত করে বাসায় ফিরি। পেট চালানোই বড় কথা। দিবস-টিবস করার সময় কোথায়?”

রাজধানীর একটি নির্মাণস্থলে ইট বহনের কাজ করেন শিউলি বেগম (৩৮)। নারী দিবসের কথা জানতে চাইলে একটু হেসেই বললেন,
“আমাদের আবার দিবস কী! কাজ করলে টাকা পাই, না করলে পাই না। এইটাই আমাদের জীবন। যদি সত্যি নারী দিবস থাকে, তাহলে আমাদের মজুরি একটু বাড়লে ভালো হতো।”

নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে ছোট্ট চায়ের দোকান চালান সেলিনা আক্তার (৩২)। তিনি বলেন,
“কখনো শুনেছি টিভিতে হয়তো নারী দিবস বলে কিছু আছে। কিন্তু ওই দিন আর অন্য দিনের মধ্যে পার্থক্য দেখি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান সামলাই। সংসার চালাতেই হিমশিম।”

গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে মানুষের বাসায় কাজ করেন মালতি রানী (৫০)। তিনি বলেন,
“আমাদের জন্য কেউ দিবস করে নাকি? যদি সত্যি নারীর জন্য কিছু করা হয়, তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষের কষ্ট একটু কমানো দরকার।”

মিরপুরের একটি স্কুলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন পারভিন আক্তার (৪০)। তিনি বলেন,
“স্কুলে মাঝে মাঝে শুনি নারী দিবসের কথা। কিন্তু আমাদের জীবনে তো তেমন কিছু বদলায় না। বেতন কম, কাজ বেশি—এইটাই বাস্তব।”

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রি করেন নাসিমা বেগম (৩৫)। তার কথায়,
“আমরা দিন আনি দিন খাই মানুষ। নারী দিবস হলে কী হয়, না হলে কী হয়—আমাদের জীবন তো একই রকম থাকে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল লক্ষ্যই ছিল শ্রমজীবী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা। অথচ বাস্তবে সমাজের সবচেয়ে পরিশ্রমী ও বঞ্চিত নারীরাই অনেক সময় এই দিবসের কথা জানেন না।

তাদের দাবি খুব বড় কিছু নয়—নিরাপদ কাজের পরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, সম্মানজনক আচরণ এবং জীবনের একটু স্বস্তি।

নারী দিবসের নানা আনুষ্ঠানিকতা আর আলোচনার ভিড়ে তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—যাদের জন্য এই দিবসের সূচনা, সেই খেটে খাওয়া নারীদের জীবনে কবে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে?