ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩০:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

নারী সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব: প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:১৫ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ—এই বহুল প্রচলিত কথাটি আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই দর্পণে কি সমাজের সব কণ্ঠ সমানভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে? বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের কণ্ঠ—তা কি যথাযথভাবে উঠে আসছে, নাকি এখনও নানা সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে আটকে আছে?

বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, নারী সাংবাদিকদের জন্য আলাদা প্রেসক্লাব বা সংগঠনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে নারী সাংবাদিকরা মূলধারার প্রেসক্লাবে প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় নিজেদের সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। সেই সময়ের বাস্তবতা ছিল কঠিন—নারীদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা, গুরুত্বপূর্ণ বিট থেকে দূরে রাখা, এমনকি সদস্যপদ থেকেও বঞ্চিত করা হতো। ফলে প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় নারী প্রেসক্লাবের ধারণা।

সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির কিছু পরিবর্তন এলেও বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি। এখনও বিশ্বজুড়ে নারী সাংবাদিকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন, অনলাইন ও অফলাইনে হয়রানির শিকার হন, এবং নেতৃত্বের জায়গায় তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। তাই অনেক দেশে আলাদা প্ল্যাটফর্ম এখনও কার্যকর ভূমিকা রাখছে—নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটও খুব ভিন্ন নয়। গত এক দশকে নারী সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়েছে—এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু বাস্তবতার চিত্রে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত, রাতের ডিউটি বা দূরবর্তী এলাকায় কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগ বড় হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি অনলাইন ট্রলিং, কর্মক্ষেত্রে অঘোষিত বৈষম্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে নারীর স্বল্প উপস্থিতি—এসব সমস্যাও বিদ্যমান।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকদের জন্য আলাদা প্রেসক্লাব কি প্রয়োজন?

একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি। অনেক নারী সাংবাদিক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন। একটি নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থাকলে তারা নির্ভয়ে নিজেদের কথা বলতে পারেন, পরামর্শ নিতে পারেন, এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন। একইসঙ্গে এটি নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে—যেখানে নারীরা সংগঠন পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নেটওয়ার্কিং। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ তৈরি—এসব ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী নারী সাংবাদিক নেটওয়ার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা চর্চার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এর বিপরীত যুক্তিও আছে। অনেকেই মনে করেন, আলাদা প্রেসক্লাব তৈরি করলে বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে নারী সাংবাদিকরা মূলধারার সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন। সমতার মূল দর্শন হলো একই কাঠামোর ভেতর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা—আলাদা কাঠামো তৈরি নয়। এছাড়া একাধিক সংগঠন গড়ে উঠলে পেশাগত ঐক্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। বরং প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। মূল প্রেসক্লাবগুলোতে নারীদের সমান অংশগ্রহণ, নেতৃত্বে প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি নারী সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও সময়ের দাবি।

সবশেষে বলা যায়, নারী সাংবাদিকদের জন্য আলাদা প্রেসক্লাব কোনো বিলাসিতা নয়—এটি বাস্তব প্রয়োজনের প্রতিফলন হতে পারে। তবে সেটি যেন বিচ্ছিন্নতার প্রতীক না হয়ে, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণমাধ্যম গঠনের সেতুবন্ধন হয়ে ওঠে—সেই লক্ষ্যই হওয়া উচিত আমাদের সবার।

আইরীন নিয়াজী মান্না, সিনিয়র সাংবাদিক, সম্পাদক-উইমেননিউজ২৪.কম