ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৭:০৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

ফোন নয়, আপনার শিশুর হাতে বই তুলে দিন

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪৫ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে শিশুরা ক্রমেই বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অবসর সময় মানেই এখন অনেকের হাতে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা টেলিভিশনের রিমোট। ফলে গল্পের বই, ছড়া, রূপকথা কিংবা জ্ঞানমূলক বইয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও অভিভাবকরা বলছেন—এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এখনই সময়, শিশুদের হাতে ফোন নয়—বই তুলে দেওয়ার।

পাঠাভ্যাস কেন জরুরি

শিশুর মানসিক বিকাশে বই পড়ার ভূমিকা অপরিসীম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া শিশুদের ভাষাগত দক্ষতা, শব্দভাণ্ডার, কল্পনাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। বই পড়ার মাধ্যমে শিশু নতুন নতুন ধারণা শেখে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখে এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করার দক্ষতাও অর্জন করে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের মধ্যে মনোযোগ কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, আচরণগত পরিবর্তন এমনকি চোখের সমস্যাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অল্প বয়সে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটানো শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবার থেকেই শুরু

শিশুর প্রথম শিক্ষক তার মা-বাবা। তাই পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার দায়িত্বও পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা গেলে শিশুর মধ্যে ধীরে ধীরে বইয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। বিশেষ করে মায়েরা যদি নিয়মিত গল্প পড়ে শোনান, তাহলে শিশুর সঙ্গে বইয়ের একটি আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি হয়, যা তাকে দীর্ঘমেয়াদে বইমুখী করে তোলে।

শুধু বই কিনে দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়—শিশুর সঙ্গে বসে বই পড়া, গল্প নিয়ে আলোচনা করা, চরিত্র নিয়ে কথা বলা—এসবই তাকে বইয়ের জগতে গভীরভাবে যুক্ত করে।

কীভাবে আগ্রহ বাড়ানো যায়

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ কৌশলের কথা বলছেন—

ছোটবেলা থেকেই ছবি ও রঙিন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করানো
শিশুর আগ্রহ অনুযায়ী বই নির্বাচন করা (গল্প, প্রাণী, বিজ্ঞান, অ্যাডভেঞ্চার ইত্যাদি)
ঘরে একটি ছোট “বুক কর্নার” বা লাইব্রেরি তৈরি করা
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় “স্ক্রিন ফ্রি” রেখে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করা
বাবা-মা নিজেরাও বই পড়ার অভ্যাস দেখানো
গল্প বলা বা গল্প শোনার সময় নির্ধারণ করা

এছাড়া শিশুদের বইমেলা, লাইব্রেরি বা সাহিত্যভিত্তিক আয়োজনগুলোতে নিয়ে গেলে তাদের মধ্যে বইয়ের প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ তৈরি হয়।

স্কুল ও সমাজের ভূমিকা

শুধু পরিবার নয়, স্কুল ও সমাজকেও এ ক্ষেত্রে সক্রিয় হতে হবে। বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্পের বই পড়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। লাইব্রেরি কার্যক্রম জোরদার করা, বই পড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা বা “রিডিং ক্লাব” গড়ে তোলা—এসব উদ্যোগ শিশুর মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।

সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

যে শিশুর ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস থাকে, সে বড় হয়ে বেশি মনোযোগী, বিশ্লেষণধর্মী ও সৃজনশীল হয়ে ওঠে। তারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নতুন প্রজন্মের ওপর। আর সেই প্রজন্ম যদি বই থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে তা জাতীয় উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

করণীয় এখনই

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করা এবং বই পড়াকে আনন্দময় করে তোলা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে সুস্থ অভ্যাস।

অভিভাবকদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের আহ্বান—শিশুর হাতে ফোন তুলে দেওয়ার আগে একবার ভাবুন। একটি ভালো বই হয়তো তাকে শুধু আনন্দই দেবে না, বরং গড়ে তুলবে তার চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ।

সবশেষে বলা যায়, একটি বই হতে পারে একটি শিশুর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শক্তি। তাই এখনই সময়—ফোন নয়, শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার।