ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৩০:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

বিচারের অপেক্ষায় এক দশক: তনুর জন্য ন্যায়বিচার কবে?

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২৭ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

একটি রাষ্ট্র, একটি বিচারব্যবস্থা এবং একটি সমাজ—তিনটির সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে তনু হত্যা মামলা। দশ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে তলব করা হয়েছে। এ যেন ন্যায়বিচারের পথে এক হতাশাজনক বিলম্বের আরেকটি অধ্যায়, যা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

২০১৬ সালের মার্চে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নির্মমভাবে নিহত হন কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে ক্ষোভ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন—সবকিছুই হয়েছিল। মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষোভ স্তিমিত হয়েছে, আর মামলাটিও হারিয়েছে গতি। আজ, এক দশক পর, তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করার ঘটনাটি তাই প্রশ্ন তোলে—এতদিন কোথায় ছিল এই তৎপরতা?

বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার—এই বহুল উচ্চারিত সত্যটি যেন আবারও প্রমাণিত হলো। একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত মামলার তদন্ত যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তদন্তে গাফিলতি, প্রভাবশালী মহলের চাপ, কিংবা প্রশাসনিক অদক্ষতা—যে কারণই থাকুক না কেন, এর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়েও মামলার সুরাহা না হওয়ায় অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে করে সমাজে একটি বিপজ্জনক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে—যেন অপরাধ করে পার পাওয়া সম্ভব। এটি কেবল একটি মামলার ব্যর্থতা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর আস্থাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।

তনুর পরিবার বছরের পর বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে। তাদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা শুধু ব্যক্তিগত বেদনা নয়, এটি রাষ্ট্রের কাছে এক নৈতিক দায়। কিন্তু সেই দায় পালনে যে গড়িমসি দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশ্ন জাগে—একটি রাষ্ট্র কি তার নাগরিকের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে এতটাই অক্ষম?

এখন যখন আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন, তখন এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই পদক্ষেপ যেন আরেকটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত—যেখানে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

একটি সভ্য সমাজে ন্যায়বিচার শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থার ভিত্তি। তনু হত্যা মামলা সেই ভিত্তিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এখন সময় এসেছে এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার—যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো তনুর পরিবারকে এভাবে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়।

ন্যায়বিচারের এই দীর্ঘ বিলম্ব শুধু সময়ের অপচয় নয়, এটি একটি জাতির বিবেকের ওপর চাপা পড়ে থাকা এক গভীর ক্ষত—যার নিরাময় একমাত্র সম্ভব সত্য উদঘাটন ও অপরাধীদের শাস্তির মাধ্যমে।

আইরীন নিয়াজী মান্না-শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। সম্পাদক-উইমেননিউজ২৪.কম