ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২, জুলাই ২০২৬ ১:৪৬:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৪০ বছর পর নকআউটে জয় মেক্সিকোর ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর তিন বছরের শিশুকে উদ্ধার এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে ঢাবি সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী কাল শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, সব শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ

বিশ্ব মশা দিবস আজ: ডেঙ্গু নিয়ে আতংকে ঢাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:০০ পিএম, ২০ আগস্ট ২০২১ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব মশা দিবস। দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেই এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শত শত লোক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর দেশে নানা সময় মশা নির্মূলে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলে তা কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে রাজধানীবাসী মশার কবল থেকে মুক্তি পায়নি। বরং ফের এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন আড়াইশ থেকে তিনশ রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে করোনা ‘ভুলে’ এখন ডেঙ্গু আতংকে রাজধানীবাসী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা দিবসের গুরুত্ব থাকলেও মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের হারে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও দিবসটি পালনে তেমন কোনো কর্মসূচি দিতেও দেখা যায়নি। দেশে একপ্রকার অবহেলিত মশা দিবস। গবেষকরা বলছেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে লক্ষাধিক মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য হলেও দিবসটি পালন করা দরকার। কীটতত্ত্ববীদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু দিবসটি পালন নিয়ে কারো তেমন কোনো কর্মসূচি নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সাত হাজার ২৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৩১ জন। আক্রান্ত ও মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭২ জন। কিন্তু জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পায়। জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাসের প্রথম ১৯ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৫৯৩ জনে। আর মারা গেছেন ১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এখন এক হাজার ২৩৮ জন। তাদের মধ্যে এক হাজার ১৪৫ জন ঢাকার হাসপাতালে এবং ঢাকার বাইরে ৯৩ জন ভর্তি রয়েছেন।

উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও মানুষের অসচেতনতার কারণে বাংলাদেশ মশার প্রজননের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান ঢাকায় রয়েছে ১৪ প্রজাতির মশা। মশা নিয়ন্ত্রণ ও মশাবাহিত রোগের চিকিত্সায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস।

-জেডসি