ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ২১:৩৭:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

বেগম রোকেয়া দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০২ এএম, ৯ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার

আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৮তম জন্ম এবং ৮৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে ঢাকা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।


রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোকেয়া পদক-২০১৮ প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।


বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। সেসময় সমাজ ছিল নানাবিধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 


জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার ও রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানীর কন্যা বেগম রোকেয়া। রোকেয়ার দুই বোন ও তিন ভাই।

 

তিনি বড় ভাই ইব্রাহিমের হাতে বাংলা ও ইংরেজি শেখেন। ১৮৯৬ সালে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।


পরে স্বামী সাখাওয়াত হোসেন রোকেয়ার লেখাপড়া ও সাহিত্য চর্চায় আগ্রহ দেখে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেন। ১৯০২ সালে ‘পিপাসা’ নামের বাংলা গল্পের মধ্যে দিয়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি।

 

১৯১৬ সালে রোকেয়া মুসলিম বাঙালি নারীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিন ইসলাম’। স্বামীর মৃত্যুর পর ভাগলপুরে মেয়েদের জন্য সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

 

বেগম রোকেয়ার লেখায় নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই নারী সমাজ নীরব সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে বিশ্বাস করতেন তিনি।

 

এ মহিয়সী নারীর নামে রংপুরের পায়রারন্দরে নিজ বাড়িতে সরকারী উদ্যোগে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র, পাঠাগার স্থাপন, রোকেয়া গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে।

 

২০০৮ সালের ৮ অক্টোবর এ মহিয়সী নারীর নামে রংপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বাঙালি নারী হিসেবে বেগম রোকেয়ার অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলের নামকরণ তার নামে করা হয়।


বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো- পিপাসা (১৯০২), মতিচূর (১৯০৪), সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮), সওগাত (১৯১৮), পদ্মরাগ (১৯২৪) ও অবরোধবাসিনী (১৯৩১)।


এদিকে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় রেঞ্জার কাউন্সিলের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে বেইলী রোডে অবস্থিত গাইড হাউজ, জাতীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘রেঞ্জারদের চিন্তা ও চেতনায় বেগম রোকেয়া’। বেগম রোকেয়ার জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেঞ্জার ইউনিটের সদস্য জেসমিন আক্তার।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রেঞ্জার ও অফিস স্টাফদের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।