ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:১১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

মা, এক অনন্ত ভালোবাসার নাম, আজ মা দিবস

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১৮ পিএম, ১০ মে ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের পরে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে...।
পৃথিবীতে এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলো উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। “মা” তেমনই একটি শব্দ। ছোট্ট এই শব্দের ভেতরে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভালোবাসা, সবচেয়ে নির্ভরতার আশ্রয়, সবচেয়ে নিঃস্বার্থ সম্পর্ক।
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ এই দিনে তাদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। কেউ ফুল দেয়, কেউ উপহার, কেউ ফোন করে দূরে থাকা মায়ের কণ্ঠ শুনে। আবার কেউ কেউ স্মৃতির ভেতর ফিরে যায়—যেখানে মা আছেন, কিন্তু ছুঁয়ে দেখার দূরত্বে নেই।
মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের শুরু হয় পৃথিবীতে আসারও আগে। দশ মাস দশ দিন বুকের ভেতর ধারণ করা, অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে নতুন প্রাণকে পৃথিবীর আলো দেখানো—এ এক এমন বন্ধন, যার গভীরতা মাপার কোনো উপায় নেই।
শিশুর প্রথম কান্না থামাতে যে মানুষটি বুকের কাছে টেনে নেয়, প্রথম হাঁটতে শেখায়, প্রথম কথা বলতে শেখায়, ভুল করলে শাসন করে আবার পরক্ষণেই আদরে জড়িয়ে ধরে—তিনি মা।
একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না; তিনি একজন মানুষকে গড়ে তোলেন। তার হাত ধরেই আমরা শিখি ভালো-মন্দের পার্থক্য, শিখি মানবতা, শিখি ভালোবাসতে।
মায়ের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এতে কোনো শর্ত নেই।
সন্তান সফল হলে মা হাসেন, ব্যর্থ হলে তিনি আরও বেশি করে পাশে দাঁড়ান। পৃথিবী যখন আঙুল তোলে, তখনও মা বলেন, “আমার সন্তান পারবে।”
একজন মা নিজের সুখ, স্বপ্ন, ইচ্ছা—সবকিছু নিঃশব্দে বিসর্জন দেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। সন্তানের মুখে এক চিলতে হাসি দেখার জন্য তিনি নির্ঘুম রাত কাটান, নিজের কষ্ট আড়াল করেন।
আমরা বড় হতে হতে অনেক সময় ভুলে যাই, আমাদের সাফল্যের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির কথা। যিনি হয়তো নিজের নতুন শাড়ির ইচ্ছা ছেড়ে দিয়েছেন আমাদের বই কেনার জন্য, নিজের ওষুধ কেনা পিছিয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রয়োজন মেটাতে।
মা কখনও হিসাব রাখেন না।
কিন্তু সন্তানদের রাখা উচিত।
এই ব্যস্ত জীবনে আমরা কতবার মায়ের পাশে বসে গল্প করি? কতবার জিজ্ঞেস করি, “মা, তুমি কেমন আছো?”
অনেক সময় আমরা ধরে নিই—মা তো আছেনই। অথচ একদিন হয়তো বুঝতে পারি, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়টি আর নেই।
তখন শত ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ কানে বাজে—“খেয়ে নিস”, “সাবধানে যাস”, “দেরি করিস না”—এই সাধারণ কথাগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে অসাধারণ স্মৃতি।
মা দিবস শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করার দিন নয়। এটি আত্মজিজ্ঞাসারও দিন। মায়ের জন্য আমরা কী করেছি? তার ত্যাগের কতটুকু ফিরিয়ে দিতে পেরেছি?
সত্যি বলতে, মায়ের ঋণ শোধ করার মতো কিছু নেই। এই ঋণ ভালোবাসা দিয়ে শুধু কিছুটা স্পর্শ করা যায়।
আজ যদি মা পাশে থাকেন, একটু সময় দিন। তার হাতটা ধরুন। বলুন, “মা, তোমাকে ভালোবাসি।”
আর যাদের মা দূরে আছেন, ফোন করুন।
যাদের মা আর এই পৃথিবীতে নেই, তারা চোখ বন্ধ করে মায়ের মুখটা মনে করুন। কারণ মা কখনও হারিয়ে যান না; তিনি থেকে যান স্মৃতিতে, প্রার্থনায়, আমাদের প্রতিটি শ্বাসে।
পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
কারণ, মা শুধু একটি সম্পর্ক নয়—মা হলো জীবনের প্রথম কবিতা, প্রথম আশ্রয়, প্রথম ভালোবাসা।