ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:৫০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

মুসুর ডালের পুষ্টিগুণ: উপকারিতা আছে, আছে ঝুঁকিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:২০ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার

মুসুর ডাল

মুসুর ডাল

বাংলাদেশের রান্নাঘরের পরিচিত খাদ্য মুসুর ডাল। স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য এই ডাল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, মুসুর ডাল যেমন শরীরের জন্য উপকারী, তেমনি মাত্রাতিরিক্ত খেলে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

মুসুর ডালের পুষ্টিগুণ
মুসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আয়রন, ফাইবার ও বি-ভিটামিন থাকে। এতে চর্বির পরিমাণ কম এবং কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মুসুর ডাল খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়।

যেসব উপকার পাওয়া যায়

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক:
মুসুর ডালে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা কমাতে ভূমিকা রাখে।

হজমশক্তি বাড়ায়:
ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় মুসুর ডাল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখে।

হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী:
কম চর্বি ও বেশি ফাইবার থাকায় এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
মুসুর ডালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

শক্তি ও পেশি গঠনে ভূমিকা:
প্রোটিন থাকায় শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয় পূরণে মুসুর ডাল উপকারী।

বেশি খেলে কী ক্ষতি হতে পারে

তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করছেন—অতিরিক্ত মুসুর ডাল খেলে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা:
ডালে থাকা কিছু কার্বোহাইড্রেট হজমে সময় নেয়। বেশি খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে:
মুসুর ডালে পিউরিন থাকে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেঁটেবাত বা কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অ্যালার্জির আশঙ্কা:
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ডালজাতীয় খাবারে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে—যেমন চুলকানি, বমি বা পেটব্যথা।

খনিজ শোষণে বাধা:
মুসুর ডালে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড অতিরিক্ত হলে আয়রন ও জিঙ্কের শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কীভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ—ডাল রান্নার আগে ভালোভাবে ভিজিয়ে রাখা উচিত। অতিরিক্ত ঝাল ও তেল দিয়ে রান্না না করাই ভালো। সবজি মিশিয়ে ডাল রান্না করলে পুষ্টিগুণ বাড়ে। দিনে এক বেলা পরিমিত পরিমাণে মুসুর ডাল খাওয়াই যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুসুর ডাল স্বাস্থ্যকর খাদ্য হলেও একে একমাত্র প্রোটিন উৎস হিসেবে না রেখে মাছ, ডিম, দুধ ও শাকসবজির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে খাওয়াই উত্তম।

মুসুর ডাল পুষ্টিকর ও উপকারী খাবার হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিয়মিত কিন্তু পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার মধ্যেই এর প্রকৃত উপকার পাওয়া সম্ভব।