ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ১৮:১৪:৩৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে:পুলিশ শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

রাজধানীতে জমজমাট ইফতারি বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০২:৩১ পিএম, ২০ মে ২০১৮ রবিবার

প্রতি বছরের মত এবারও রোজায় রাজধানীর ইফতারি বাজার জমজমাট। দুপুর থেকেই হাজার রকম পসরা সাজিয়ে বসেছে খাবারের দোকানগুলো। ক্রেতা আসছে, দেখছে আর কিনছে। মাত্র দুদিনেই আমূল বদলে গেছে রাজধানীর প্রতি দিনের চেহারা।

 

হোটেল-রেস্তোরাঁ, মসজিদ, বিপণিবিতান, বাজারগুলোর পথের ধার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার ফুটপাতসহ পুরো শহরই পরিণত হয়েছে ইফতারি বাজারে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল, ঐতিহ্যবাহী চকবাজার আর বেইলি রোডে ইফতারির সবচেয়ে বড় আয়োজন। তবে বরাবরের মতো এবারও এমন কোনো মোড়, গলি, সড়ক নেই যেখানে বসেনি ইফতারির বাজার। ফুটপাতের টঙ্গ দোকান থেকে আরম্ভ করে পাঁচতারকা হোটেল সর্বত্রই ইফতারির সাজ সাজ রব।

 

তবে এবার ইফতারির মূল কেন্দ্র চকবাজারে ভিড় ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। মাসের মাঝখানে রোজা শুরু হওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন বিক্রেতারা। তবে উচ্চমূল্যের কারণে ভিড় কম বলে মনে করেন ক্রেতারা। রোজার প্রথম দিন থেকেই জোহরের নামাজের পর থেকেই দোকানে দোকানে শুরু যায় ইফতারি তৈরির প্রস্তুতি। ডুবো তেলে ভাজা চলছে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ, জিলাপিসহ হরেক পদেও মূখরোচক খাবার, সুগন্ধি বইতে শুরু করেছে। পাশেই টেবিল পেতে বিক্রি। দোকানের অভাব নেই।

 

চকবাজার শাহি মসজিদের সামনে বসেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ইফতারির বাজার। বড় বাপের পোলায় খায়, শিক কাবাব, সুতি কাবাব, মুঠিয়া, বটি কাবাব, জালি কাবাব, রেশমি কাবাব, পাখির রোস্ট, মুরগির রোস্ট, মুরগ মোসাল্লাম, সমুচা, শিঙ্গাড়া, ঘুড়নি, ছোলা, পেঁয়াজু, জিলাপি,দই বড়া, হালিমসহ শত শত পদের সমাহার চকে। দেখে মনে হয় আইটেম গুণে শেষ করা যাবে না। প্রায় দেড়শ` বছরের পুরনো এ ঐতিহাসিক বাজারে দুপুর থেকেই ক্রেতা আসেন। বিকেলে ভীড় একটু বেশি থাকলেও সন্ধ্যার আগে আগে ভিড় হালকা হয়ে যায়। চকের চরিত্রই এমন। দুপুরের পর জমে ওঠে সন্ধ্যার আগেই শূন্য। চকের প্রায় সব দোকানই ৩৫ থেকে ৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী।

 

চকে ইফতার করতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলেন দশজন বন্ধু। এদের একজন তামিম বলেন, চকবাজারের অনেক নাম শুনেছি। তাই সবাই মিলে এসে পড়লাম।

 

এবারও প্রথম ইফতারে স্যাটেলাইট টিভির ক্যামেরার ভিড় চকে। ক্রেতা-বিক্রেতারা বেশ করে লাইভ মতামত দিলেন। উচ্চমূল্যের ক্ষোভ ঝাড়লেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, চকের বেশিরভাগই খাবারই মাংসের তৈরি। গরুর মাংসের দাম চড়া। তাই দাম বেড়েছে খাবারের। কিন্তু সব দোকানে দাম কিন্তু এক রকম নয়। একই আইটেমের দাম এক এক দোকানে এক এক রকম। দামের ভিন্নতার ব্যাপারে বিক্রেতাদের একটাই খোড়া যুক্তি আমারটাই সেরা, আমারটায় কোন ভেজাল পাবেন না, তাই দাম বেশি।

 

রুম্মন বেপারী ৩৫ বছর ধরে চকে বিক্রি করছেন কাবাব, রোস্ট, `বড় বাপের পোলায় খায়`। সবই মাংসের খাবার। বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, হাঁসের রোস্ট ৫০০ টাকা, মুরগি ৪৫০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ১৫০ টাকা। গতবারের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি।

 

এছাড়া অন্যান্য দোকান ঘুরে দেখা গেল, দইবড়া বাটিভেদে দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, ফিরনি ৫০ থেকে ১০০, বোরহানি ১০০ থেকে ১২০ টাকা লিটার , হালিম প্রকারভেদে ৩০০ থেকেট ৫৫০ টাকা, জিলাপি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। শাহি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। ইফতারিতে শরবতে আম, বেল, কাশ্মীরি শরবত, লাবাংয়ের চাহিদা বেশি। আর ফালুদা তো চকের সব দোকানেই আছে।

 

বেইলি রোডে ঘুরে দেখা গেলো, ভিড় আগের মতোই। বরাবরের মত সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছে ফখরুদ্দিন ফুডস। ধানমন্ডির স্টারসহ অন্যান্য রেস্তোরাঁতেও ছিল ইফতারির বিশাল সমাহার।

 

এছাড়া পুরান ঢাকার হোটেল আল-রাজ্জাক, হোটেল স্টার, আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি, নান্নার মোরগ-পোলাও, ঝুন্নুর মোরগ-পোলাও, কলাবাগানের মামা হালিমও সাজিয়েছে ইফতারির পসরা।

 

রমজান উপলক্ষে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলটিতে অতিথিদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মনোমুগ্ধকর স্বাদের ইফতার সমাহার। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী আরবীয় স্বাদের হট এন্ড কোল্ড আরবীয় `মেজ্জে` যেমন থাকছে তেমনি প্রধান ডিশ হিসেবে থাকছে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার যেমন-সুস্বাদু মাংসের নানা পদ, গ্রিল ল্যাম্ব চপ, মাটন কাবাব, শিশ টাউক, ল্যাম্ব শ্যাঙ্ক এবং রসসিক্ত হামাস, মুতাব্বেল আর প্রাচ্যদেশীয় রাইস। তা ছাড়া সোনারগাঁও হোটেলের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় শাহী হালিম ও জিলাপী থাকছে।

 

এছাড়া হোটেল শেরাটন, হোটেল রেডিসনও ইফতারে এনেছে নতুনত্ব। পাশাপাশি পুরো ঢাকায় অগণিত ইফতারের দোকানে ভরে গেছে। এগুলো থেকেও ইফতার কিনতে দেখা গেল অনেক মুসল্লীকে।