লেখক-শিক্ষক মেঘনা গুহঠাকুরতার জন্মদিন আজ
উইমেননিউজ২৪ ডেস্কঃ | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ১০:৪১ এএম, ১১ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নারীবাদ, মানবাধিকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও শিক্ষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতার আজ জন্মদিন। ১৯৫৬ সালের ১১ আগস্ট ঢাকায় জন্ম নেওয়া মেঘনা গুহঠাকুরতা বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে শৈশবের গভীর যোগ। মেঘনা গুহঠাকুরতার জীবন ও চিন্তার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বাবা অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এবং জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইটে’ তিনি গুরুতর আহত হন এবং কয়েক দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মরদেহ পরবর্তীতে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই ব্যক্তিগত ইতিহাস পরবর্তী সময়ে মেঘনা।গুহঠাকুরতার গবেষণা ও লেখালেখিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, সহিংসতা, স্মৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত বেদনার পাশাপাশি ইতিহাসকে বোঝার একটি গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়।
মেঘনা গুহঠাকুরতা হলিক্রস স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের University of York থেকে রাজনীতি বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে নারীর ভূমিকার সম্পর্ক।
১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্ব, জেন্ডার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করেন। ২০০৬/২০০৭ সালের দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন।
মেঘনা গুহঠাকুরতার গবেষণার বিস্তৃতি অনেক। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, জেন্ডার সম্পর্ক, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, অভিবাসন, সংখ্যালঘু অধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন। এসব বিষয় তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে নারীর অবস্থান ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিমাপে না দেখে মানুষের অধিকার, অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রবণতা তাঁর গবেষণায় স্পষ্ট।
মেঘনা গুহঠাকুরতা Research Initiatives, Bangladesh (RIB)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। RIB-এর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রান্তিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে গবেষণার অংশীদার করা এবং তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া।
রোহিঙ্গা শরণার্থী, নারী, আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। RIB-এর গবেষণা পদ্ধতিতে শুধু বাইরে থেকে কোনো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে গবেষণা করা নয়; বরং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে গবেষণা প্রক্রিয়ার অংশ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মানবাধিকার প্রশ্নেও মেঘনা গুহঠাকুরতার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভূমি, পরিচয়, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারকে বৃহত্তর মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন তিনি।
শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি মেঘনা গুহঠাকুরতা নিয়মিত লিখেছেন। তাঁর লেখায় ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি, নারী ও জেন্ডার, মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
The Daily Star-এ তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে My ’71: Experiencing Genocide, Understanding Violence, Two women, one family, and divided nations এবং Shilalipi: A Legend Carved in Stone উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে My ’71: Experiencing Genocide, Understanding Violence লেখায় তিনি নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও সহিংসতাকে বোঝার চেষ্টা করেছেন। ফলে তাঁর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখাগুলো শুধু ইতিহাসের তথ্য নয়, একই সঙ্গে একজন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষের স্মৃতি ও বিশ্লেষণ।
মেঘনা গুহঠাকুরতার কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারীবাদী চিন্তা। নারীর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, শ্রম, সামাজিক অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে উন্নয়ন ও রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা তাঁর গবেষণায় রয়েছে। তাঁর প্রকাশিত কাজের মধ্যে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির লেখাও রয়েছে।
তাঁর চিন্তার মূল শক্তি হলো-নারী, সংখ্যালঘু কিংবা প্রান্তিক মানুষকে কেবল ‘সহায়তা পাওয়ার মানুষ’ হিসেবে না দেখে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখা।
মেঘনা গুহঠাকুরতার কর্মজীবনকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কিংবা গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে তাঁর অবদান পুরোপুরি বোঝা যায় না। তিনি একই সঙ্গে শিক্ষক, গবেষক, লেখক, মানবাধিকারকর্মী এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার একজন বুদ্ধিজীবী।
তাঁর কাজের কেন্দ্রে বারবার ফিরে আসে কয়েকটি প্রশ্ন—কে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, কার কথা শোনা হচ্ছে না, উন্নয়নের সুফল কার কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং রাষ্ট্র ও সমাজে প্রান্তিক মানুষের অধিকার কতটা নিশ্চিত হচ্ছে।
এই প্রশ্নগুলোই তাঁকে বাংলাদেশের সমকালীন সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে স্বতন্ত্র করে তুলেছে।
আজ তাঁর জন্মদিনে ড. মেঘনা গুহঠাকুরতার প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। শিক্ষকতা, গবেষণা ও লেখালেখির মধ্য দিয়ে তিনি যে জ্ঞানচর্চার ধারা তৈরি করেছেন, তা বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি, মানবাধিকার ও জেন্ডারবিষয়ক আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেছে। মেঘনা গুহঠাকুরতার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়-ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না; মানুষের স্মৃতি, বেদনা, সংগ্রাম এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও ইতিহাস বেঁচে থাকে। সেই ইতিহাসকে প্রশ্ন করা, বোঝা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই একজন সত্যিকারের শিক্ষক ও গবেষকের বড় দায়িত্ব।
শুভ জন্মদিন, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা।
- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানমের পদত্যাগ
- হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ছোটগল্প ‘সা র স’ : আইরীন নিয়াজী মান্না
- ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে
- মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ভূতিয়ার বিলের ‘পদ্ম-শাপলা’
- ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানী বেড়ে ৭
- মুক্তি পেলেন নেহা বোরা
- তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণানুষ্ঠান শুরু আজ
- নরসিংদীতে শিয়ালের কামড়ে আহত ১০
- পূজায় অসুস্থতা এড়াতে যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকবেন
- পূজায় লোভনীয় নানা পদ
- ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, বাড়তে পারে গরম
- কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, ৫ জনের প্রাণহানী
- সাবিলা নূরের ৭ বছরের সংসার ভাঙনের গুঞ্জন!
- এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন
- চীন দেশ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: অধ্যাপক ডং ইউ ছেন
- বিশ্ববাজারে আরও কমল তেলের দাম
- দুর্গাপূজায় ছুটির আমেজ, স্কুল ১০ ও কলেজে ১৬ দিন
- রাজধানীর ফুটপাত হকারমুক্ত করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ
- আজ বিশ্ব বিড়াল দিবস: চাই মমতা ও নিরাপদ আশ্রয়
- অবসর নেওয়ার আগে দলে ফিরতে চান জাহানারা
- আজ মহাষষ্ঠী, সারা দেশে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব
- নারী শিশুসাহিত্যেক সংখ্যা: ‘কিশোর লেখা’র অনন্য আয়োজন
- যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ নিহত ৪
- বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে সবজি-চাল-ডাল
- নিউইয়র্কের আদালতে অভিযোগ, নির্দোষ দাবি মাদুরো দম্পতির
- আজ মহাসপ্তমী
- তিন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা না কমার অভাস
- ছুটির দিনেও দূষণের কবলে ঢাকা, বিশ্বে তৃতীয়
- শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ল



