ঢাকা, শুক্রবার ২৫, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:০০:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ভারতে স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন, নারীসহ ৯জনের প্রাণহানী খুলনায় ফ্ল্যাট থেকে বিউটিশিয়ানের লাশ উদ্ধার শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫৩ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন

দেশের বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আখতার হুসেন আর নেই। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতা নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চার দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি বলে তার ছেলে প্রমিত হুসেন জানিয়েছেন।

আখতার হুসেন দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। এর আগে প্রস্টেট ক্যানসারেও আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত নানা শারীরিক জটিলতায় মৃত্যুর কাছে হার মানলেন এই প্রবীণ শিশুসাহিত্যিক।

তার স্ত্রী মল্লিকা হুসেন আগেই মারা গেছেন। দুই ছেলে পান্থ হুসেন ও প্রমিত হুসেনকে রেখে গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার তেজকুনীপাড়ায় নিজেদের বাসার কাছের রেলওয়ে কলোনি জামে মসজিদে আখতার হুসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার কফিন রাখা হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পরে মরদেহ সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই স্ত্রী মল্লিকা হুসেনের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ছয় দশকের সাহিত্যজীবন

আখতার হুসেনের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর। তার পৈতৃক নিবাস নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে। বাবা টি আই এম সিকান্দার রেলে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় কেটেছে তার। খুলনা, গফরগাঁও ও কুলাউড়ার মতো জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার বেড়ে ওঠার স্মৃতি।

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন আখতার হুসেন। ছড়া, শিশুতোষ সাহিত্য, জীবনী, অনুবাদ ও সম্পাদিত গ্রন্থ মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিক সংখ্যক ভুক্তি লেখার কৃতিত্বও রয়েছে তার। শিশুদের জন্য লেখা তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ এবং ‘ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে

শিশুসাহিত্যের পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন আখতার হুসেন। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। সংগঠনটির শুরুর দিকে বেশ কিছু নাটক রচনা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’-এর সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সম্পৃক্ততা।

ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সংগীত হিসেবে জনপ্রিয় ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ গানটির রচয়িতাও আখতার হুসেন।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক, মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক, মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও বজলুর রহমান স্মৃতিপদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

বাংলা একাডেমির ফেলো আখতার হুসেনের প্রয়াণে বাংলা শিশুসাহিত্যে একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো।