সৌদিতে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের সমস্যা
অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কমআপডেট: ০১:৪০ পিএম, ২২ মে ২০১৮ মঙ্গলবার
সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশী নারী শ্রমিকরা প্রতারণা, নিয়মিত বেতন না পাওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ভাষা সমস্যাসহ নানা ধরনের বিপদের শিকার হচ্ছেন। চুক্তি অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ শেষ না করেই দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন অধিকাংশ নারী।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বিবিসিকে জানান, এই সব সমস্যার কিছু অংশ বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে। সৌদি নিয়োগকর্তাদের তরফ থেকেও নারী শ্রমিকরা নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে লেনদেন:
নিয়ম অনুযায়ী সৌদি নিয়োগকর্তা যখন তার দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে গৃহকর্মী চান, তখন তিনি সেই এজেন্সিকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করেন। সেই এজেন্সি আবার বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী শ্রমিককে কোন অর্থ লেনদেন করতে হয় না।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। মধ্যস্বত্ত্বভোগী এজেন্সিগুলো আর্থিক মুনাফার জন্য শ্রমিকদের `বিক্রি` করে দিচ্ছে। জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা থেকে এক লক্ষ টাকাও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে।
তিন মাসের দায়িত্ব:
চুক্তি অনুযায়ী চাকরির প্রথম তিন মাস পর্যন্ত শ্রমিকের দায়দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সিকে বহন করতে হয়। কিন্তু তারপর গৃহকর্মী শ্রমিকের দায়দায়িত্ব আর রিক্রুটিং এজেন্সির থাকে না। এটি মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে বলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পুরুষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে এটা যদি দু`বছর হতে পারে, তাহলে নারী শ্রমিকের বেলায় এটি কেন তিন মাস হবে তা ঠিক যুক্তিগ্রাহ্য নয়।
চুক্তির দুর্বলতা:
প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, ২০১৫ সালে শ্রমিক পাঠানোর চুক্তিতে নানা ধরনের দুর্বলতা রয়েছে যার খেসারত দিতে হচ্ছে নারী শ্রমিকদের। দেশে ফিরে আসার জন্য অনেককেই বাড়ি থেকে অর্থ চেয়ে পাঠাতে হচ্ছে। এখনও বহু নারী রিয়াদ এবং জেদ্দার `সেফহোমে` বসবাস করছেন এবং বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এছাড়া বিশাল সংখ্যক নারী অবৈধভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যান কাজ করার আশায়। তারা যখন বিপদে পড়েন তখন তাদের সাহায্য করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।
রিয়াদে ১১ মাস গৃহকর্মের কাজ করে দেশে ফিরে এসেছেন সুনামগঞ্জের তসলিমা আক্তার। তিনি বিবিসিকে জানান, ১১ মাস কাজ করার পরও পাওনা বেতন পাননি। দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করায় `কফিল` (নিয়োগকর্তা) উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এজেন্সিকে দেয়া অর্থ তাকে ফেরত দিতে বলে।
নির্যাতন:
দেশে ফেরত আসা নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ যেসব বাড়িতে গৃহকর্মী পদে তাদের নিয়োগ করা হয় সেগুলো প্রায়শই যৌথ পরিবার। ফলে সেখানে কাজের চাপ থাকে মাত্রাতিরিক্ত।
গৃহকর্মী শ্রমিক তসলিমা আক্তার জানান, তিনি যে বাড়িতে কাজ পেয়েছিলেন সেখানে লোক ছিল ৪৫ জন।
যে বাড়িতে শ্রমিকদের কাজ করতে হয় সেখানে প্রায়ই তারা নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের অনেকেরই দেহে থাকে ক্ষতচিহ্ন। মন থাকে ভাঙা। কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলছেন এটি সৌদি আরবে কর্মরত নারী শ্রমিকদের ২০%-এর সমস্যা। বাকি ৮০% নিরাপদেই আছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ড. হালদার জানান, "সৌদি সরকারের সাথে বৈঠকে গৃহকর্মী নির্যাতন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলায় তারা আমাদের জানিয়েছে, ৪৫% নারী শ্রমিক চুক্তি ভঙ্গ করে দেশে ফেরত আসে এবং সেটা ঘটে তিন মাসের ভেতরে।"
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সেফ হোমে রয়েছে এমন অনেকের সাথে কথা বলে দেখেছি, তাদের পক্ষ থেকে করা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সব সময় সত্যি না। অনেককেই জেরা করে দেখেছি, তারা মারধরের বানোয়াট অভিযোগ করেছে।
ভাষা সমস্যা:
সৌদি আরবে যেসব নারী শ্রমিক যাচ্ছেন তাদের অনেকেরই আরবি ভাষার নূন্যতম জ্ঞানও নেই বলে ড. হালদার উল্লেখ করেন। ফলে গৃহকর্তার সাথে কথাবার্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রায়ই আকার ইঙ্গিতের সাহায্য নিতে হয় গৃহকর্মীদের।
তিনি জানান, সৌদি আরবে শ্রমিকদের জন্য আট ভাষার যে হটলাইন চালু রয়েছে, তাতে ছয় মাসে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মোট তিনটি কল লগ করা হয়েছে।
এই ভাষাগত জটিলতা দূর করার জন্য ৭০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আরবিভাষী প্রশিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
ড. হালদার বলেন, আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যে যেসব নারী কাজ করতে যাবেন ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা তাদের থাকে, তারা যেন আরবিতে নূন্যতম কথাবার্তা চালাতে পারেন, তাদের বয়স যেন ২২ থেকে ৪৫ বছর হয় এবং সৌদি পরিবারে কাজ চালানোর জন্য তাদের যেন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকে।
সূত্র : বিবিসি অনলাইন
- নির্বাসনের অবসান, কলকাতায় তসলিমা
- শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
- `সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে`
- সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে অফিসার ক্যাডেট পদে চাকরি
- সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে ছোট্ট যে ভুলে, বদলান অভ্যাস
- শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক
- মেসি-এমবাপে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
- প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতি
- এবার পর্দায় ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা
- ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
- সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত
- ৩ মাসের শিশুর পা মোচড় দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩
- রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা
- ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
- ৩ মাসের শিশুর পা মোচড় দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩
- সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
- ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল
- ‘বউ’ বানানোর নামে নারীদের চীনে পাচার
- জলাবদ্ধতায় চলাচলে যেসব ভুলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, সতর্ক হোন
- ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন
- ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
- রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ
- টানা বৃষ্টিতেও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
- মাদক বহনকারীরাই ধরা পড়ে, কারবারিরা সংসদে যায়
- রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা
- মেসি-এমবাপে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
- বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪
- ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
- শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর











