ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৯:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

হাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

দীপালি হাসান | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১০ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দেশে আবারও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই রোগ শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি নয়, বরং টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতারও একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে—টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় একটি বড় জনগোষ্ঠী এখন হামের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হওয়া বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

হাম নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, অসম কভারেজ এবং নির্ধারিত ডোজ সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে অনেক শিশুই সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ এখন সংক্রমণ বিস্তারের বড় কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রথম ও প্রধান করণীয়—জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করা। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।

দ্বিতীয়ত, নজরদারি ও দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। কোথায় সংক্রমণ বাড়ছে, কোন এলাকা ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে—এসব দ্রুত চিহ্নিত করতে পারলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অনেক সহজ হয়। এজন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনো অনেক অভিভাবকের মধ্যে টিকা নিয়ে ভুল ধারণা বা অনীহা রয়েছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে টিকার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে—হাম শুধু একটি সাধারণ রোগ নয়, এটি মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।

চতুর্থত, স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং কমিউনিটি নেতাদের যুক্ত করতে হবে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

সবশেষে, কোভিড-১৯ পরবর্তী শিক্ষা কাজে লাগানো জরুরি। মহামারির সময় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল না করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।

হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ—এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মানে আমাদেরই অবহেলা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই সময় এসেছে দ্রুত, সমন্বিত এবং টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার—শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য।