ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২, ডিসেম্বর ২০২১ ৪:৩১:৫৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভারত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত ব্রাজিলে করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত ২৩ দেশে ছড়িয়েছে ওমিক্রন,৭০ দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কাল শুরু এক দিনে করোনায় শনাক্ত ২৮২, মৃত্যু ২

অবিসংবাদিত নেতা ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৪ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০২১ শুক্রবার

ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ইন্দিরা গান্ধী

ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ইন্দিরা গান্ধী

ইন্দিরা গান্ধী পরিচিত ছিলেন রাজনীতির ক্ষেত্রে তার আপোসহীন মনোভাব এবং ক্ষমতার অভূতপূর্ব কেন্দ্রীকরণের জন্য। তুখোর এই রাজনীতিবিদ রাজনৈতিক জীবনে এক অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন৷ আর তাই তো মৃত্যুর এত বছর পরও ভারতসহ বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গন স্মরণ করছে তাকে৷ আজ ১৯ নভেম্বর তার জন্মদিন।  

তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী এবং ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। ইন্দিরা গান্ধী একমাত্র নারী যিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। 

১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর এলাহাবাদে এক কাশ্মীরী পণ্ডিত পরিবারে ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম। পারিবারিক পরিচয়ে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর একমাত্র সন্তান ইন্দিরা গান্ধী। তার মার নাম কমলা নেহেরু।

বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন তিনি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ভারতের জনগণ সর্বোপরি ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অপরিসীম। বিশ্বের সবেচেয়ে শক্তিশালী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন করা ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী নির্ভীক চিত্তে সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের কথা বাঙালি জাতি আজীবন স্মরণে রাখবে।

ইন্দিরা জন্মের পর থেকেই রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। রক্তের সঙ্গেই তার মিশেছিল রাজনীতি। যেটা কি না সময় পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠেছিল আরও গভীর। তিনি পড়াশোনা শেষ করেন অক্সফোর্ডে। সেখান থেকে ফিরে ১৯৩৪-৩৫ সালে যোগ দেন শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার নামকরণ করেন প্রিয়দর্শিনী গান্ধী। সেই থেকে প্রিয়দর্শিনী গান্ধী নামেই পরিচিত হন ইন্দিরা। তবে ১৯৪২ সালে ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজের মূল জায়গা অর্থাৎ রাজনীতিতে যোগ দিতে শুরু করেন ইন্দিরা। ১৯৬৪ সালে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর কেবিনেটে তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন তিনি। তবে তার রাজনৈতিক জীবনে বড় রকমের ঢেউ আসে যখন ১৯৬৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন অলংকৃত করেন তখন। মাঝখানে বেশ কিছু ঝামেলা পোহাতে হলেও নিজের কাজ দিয়ে অনেকটা এগিয়ে যান এই নারী। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও স্বীকৃতি পান ইন্দিরা। মোট ১৫ বছর ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

স্বর্ণমন্দিরে অপারেশন ব্লু স্টার সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পরে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী তার নিজের শিখ জাতীয়তাবাদী দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

তার ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান এবং বড় ছেলে রাজিব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা যান। দুই পুত্র বধু মানেকা গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী।

১৯৯৯ সালে বিবিসির সমীক্ষায় ইন্দিরা গান্ধীকে ‘সহস্রাব্দের নারী’ আখ্যা প্রদান করা হয়। ২০২০ সালে ইন্দিরা গান্ধীকে টাইম পত্রিকা কর্তৃক বিগত শতাব্দীর সংজ্ঞা-নির্ধারণকারী ১০০ শক্তিশালী নারীর তালিকাভুক্ত করা হয়।