ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ১১:১৯:৫৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ঢাবি অধ্যাপক নাজমুন নাহার মারা গেছেন অস্কারজয়ী প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী ফ্রিকার আর নেই এআই ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, অনিশ্চয়তায় নারীরা চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল কমছে না ঢাকার ভ্যাপসা গরম, দেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়েছেন কয়েদি দাবানলের ধোঁয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে শঙ্কা

ঈদ বাজার : ক্রেতাশূন্য শাড়ির দোকান

আপডেট: ০৫:১১ পিএম, ৩০ জুন ২০১৫ মঙ্গলবার

20_Benarasi-Palli_Mirpur_200215_0014মাজেদুল হক তানভীর,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : ঈদ এগিয়ে আসছে। কিন্তু জমছে না শাড়ির মার্কেট। রোজার এ সময়ে শাড়ির দোকানে ক্রেতার ভিড় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম কম। হতাশ দোকানীরা। নানা রকম শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা। কিন্তু ক্রেতাশূন্য শাড়ি দোকান। অনেক দোকানী গল্প-গুজব করে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা আশা করছেন আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি-বিট্টা বাড়বে। এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ এবছর তুলনামূলকভাবে শাড়ির দাম অনেক বেশি। সরজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল,বেইলী রোড, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট,নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক,চন্দ্রীমা সুপার মার্কেট,গাউছিয়া,গুলিস্তান,রাইফেলস স্কোয়ার শপিং সেন্টারসহ আকর্ষণীয় সব দেশি ও বিদেশি শাড়ির শপিংমলে একই চিত্র দেখা গেছে। এবারের ঈদের বেচা-কেনা কম কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ক্রেতা কিছুটা কম। তাছাড়া মাসের শেষ হওয়াতে অনেকেই মার্কেটে ভিড়ছেন না। তবে আশা করা যাচ্ছে সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঈদের মূল কেনাকাটা শুরু হবে। SAREEঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বসুন্ধারা শপিংমলে পাওয়া যাচ্ছে রকমারি জামদানি, টাঙ্গাইল, সিল্ক, বোম্বে কাতান, তশর কাতান, ক্যাটালগ শাড়ি ও ভারতীয় চাওলা সিল্ক। এ শপিং মলে প্রতিটি বোম্বে ও তশর কাতান শাড়ি তিন থেকে ১০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে,ভারতীয় চাওলা সিল্ক শাড়ি ১৪শ’ দেশি কটন শাড়ি আট থেকে ১২শ’ টাঙ্গাইল শাড়ি ৫শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। জানা গেছে, এবারও তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় বোম্বে কাতান ও তশর কাতান। বিশেষ করে একটু বেশি কারুকাজ করা শাড়ি তাদের প্রথম পছন্দ। তবে অনেকের পছন্দ দেশীয় শাড়ি। তবে বরাবরের মতো এবারও বাঙালি নারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জামদানি শাড়ি। প্রতিটি ঢাকাইয়া জামদানি শাড়ি ৮শ’থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা গেছে, চিকন সুতা ও হাতের কারুকার্যের ওপর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে ঢাকাইয়া জামদানির। মোটা সুতা ও কারুকার্য কম এমন জামদানি ৮শ’ টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। তবে চিকন সুতা ও হাতের কারুকাজ বেশি এমন জামদানি কিনতে হলে গুনতে হবে আট থেকে ৫০ হাজার টাকা। রাজধানীর বসুন্ধারা মার্কেটের ‘জ্যোতি’ স্টোরের বিক্রয়কর্মী ফিরোজ উইমেননিউজকে বলেন, বরাবরের মতো এবারও ঢাকাইয়া জামদানি শাড়ি সকল বয়সী নারীদের বেশি পছন্দ। ঈদের বেচা-কেনা নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমলের চতুর্থ তলার ‘শুভময় শাড়িজের’ ম্যানেজার বাবু বলেন, প্রত্যাশিত বিক্রি ও কাস্টমারের আগমন হচ্ছে না। তিনি জানান, বিয়ের শাড়ি,কাঞ্চিপুরন,কাঠিয়াল,দুপি কাতান,খাড্ডি সিল্ক,উপরা কাতানসহ হরেক রকমের পাটি শাড়ি নিয়ে কেনাকাটার বিশাল পসরা সাজিয়েছেন তিনি। বাবু বলেন, বিগত বছরগুলোতে এ দিনগুলোতে প্রতিদিন পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিক্রি হতো। এখন প্রতিদিন ত্রিশ হাজার বেচা-বিক্রির অঙ্ক মেলানো দায়। চোখ জুড়ানো ডিজাইন আর নন্দিত নকশায় শপিংমল সাজিয়েছেন দোকানিরা। রাজধানীর মার্কেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই জামদানি, মিরপুরের কাতান, বালুচুরি, টাঙ্গাইলের সিল্ক, টাঙ্গাইলের কাতান, সুতি, পাবনা কাতান, জুট কটন, জুট কাতান, সম্বরপুরী ও মনিপুরী। এছাড়া শিপন, সিল্ক, লেহেঙ্গা শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ হাজার, ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু এসব দোকানে ক্রেতার পদচারনা না থাকায় নেই কোনো দরকষাকষি। নেই সেই ক্রেতা গুঞ্জন। ঈদ মার্কেটের চিরচেনা রূপ এখনও ফুটে ওঠেনি। ক্রেতাদের মধ্যেও নেই কেনাকাটার সেই উচ্ছ্বাস আনন্দ। ঈদ বাজারের হতাশা প্রকাশ করেন বসুন্ধরার সিল্ক হাউসের তানভির, শাড়ি সেন্টারের নজরুল ইসলাম ও শাড়ি সাগরের সুমন। তারা বলেন,অন্যান্য বার এ সময় বাজার জমতে শুরু করলেও এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। খুব কম ক্রেতাই আসছেন শাড়ি কিনতে। অনেকে দেখছেন কিন্তু দরদামে সামঞ্জস্য না হওয়ায় অনেকেই কিনছেন না। MG_3614বিক্রির এ বেহাল দশা সম্পর্কে তারা বলেন,দেশের জাতীয় অর্থনীতির কারণে ঈদের বাজারে এমন মন্দাভাব যাচ্ছে। বিশেষ করে বেতন-বোনাস না হওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকরা মার্কেটে আসছেন না। বসুন্ধরায় স্বামীর সঙ্গে শাড়ি কিনতে আসা পুরানো ঢাকার মাসুমা আক্তার জানান, একাধিক দোকান ঘুরছেন আর শাড়ির দাম জেনে আবার রেখে দিচ্ছেন। ঈদের কেনাকাটার ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, কিছুই দেখছি সবই আকাশছোঁয়া দাম। আমি কয়েক বছর ধরে এ মার্কেটে আসি। গত বছর যেসব শাড়ির দাম ছিলো কম, এ বছর সেই একই শাড়ির গায়ে ট্যাগ বসানো হয়েছে দুই-তিনগুণ বেশি। মাসুমা আক্তারের মতো হাজারো ক্রেতার অভিযোগ, শাড়ি গত বছর ১২শ’-১৩শ’ টাকায় কিনেছি এ বছর তা ২২শ’-২৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের এ ধরনের অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের বিষয়টি সরকারের মনিটর করা দরকার বলে দাবি করেন তারা। ৩০.০৬.২০১৫