রাজধানীর সড়কে যেন গর্তের রাজত্ব, প্রতিদিন দুর্ভোগে লাখো মানুষ
জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৫:৫১ পিএম, ১৭ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
রাজধানীর সড়কে যেন গর্তের রাজত্ব। এক বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাস্তা, খানাখন্দে ভাঙছে গাড়ি—প্রতিদিন দুর্ভোগে লাখো মানুষ
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম সড়ক। সকাল আটটা। অফিসগামী মানুষের ভিড়। হঠাৎ একটি বাস ব্রেক কষতেই সামনে থাকা মোটরসাইকেলটি গর্তে পড়ে কাত হয়ে যায়। চালক ও আরোহী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দীর্ঘ যানজট। বৃষ্টির পানিতে গর্তটি ঢেকে থাকায় সেটি আগে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না।
এটি রাজধানীর একটি সড়কের চিত্র হলেও এমন দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশন এলাকার অসংখ্য সড়কে।
সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, কাজীপাড়া, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ডেমরা, পুরান ঢাকা, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, বসিলা ও কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও খানাখন্দ, কোথাও দেবে যাওয়া সড়ক, কোথাও আবার ভাঙা ড্রেনের ঢাকনা। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যায়। তখন সড়ক আর ড্রেনের পার্থক্য বোঝা যায় না।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যকর সমন্বয়ের অভাবের কারণে রাজধানীর সড়কব্যবস্থা এখন ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বৃষ্টির পানি যেন বিপদের ফাঁদ: শুধু খানাখন্দ নয়, বৃষ্টি হলেই রাজধানীর অনেক এলাকায় পানি জমে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
এই পানির নিচে কোথায় গর্ত, কোথায় ড্রেনের মুখ কিংবা কোথায় রাস্তার অংশ ভেঙে গেছে—তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও রিকশাচালকরা।
রামপুরা এলাকায় দেখা যায়, কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থী জুতা হাতে নিয়ে হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। পাশেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গর্তে আটকে গেছে। যাত্রীরা নেমে ধাক্কা দিয়ে সেটি তুলছেন।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট: রাস্তার গর্তের কারণে অনেক গাড়িকেই ধীরে চলতে হয়। কোথাও কোথাও একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে উঠে যাচ্ছে যানবাহন। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা। একই অবস্থা মিরপুর, কাজীপাড়া, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায়।
পরিবহন চালকদের অভিযোগ, ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত গাড়ির চাকা, সাসপেনশন, অ্যাক্সেল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়।
"প্রতিদিন মনে হয় যুদ্ধ করে অফিসে যাচ্ছি": মালিবাগের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, "সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পরই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। কোথায় গর্ত, কোথায় পানি—বোঝা যায় না। প্রতিদিন মনে হয় যুদ্ধ করে অফিসে যাচ্ছি।"
মিরপুরের গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, "বাজারে যেতে ভয় লাগে। ছোট ছেলেটাকে নিয়ে বের হলে সব সময় ভয় থাকে যদি গর্তে পড়ে যায়। কয়েকদিন আগে আমি নিজেই পিছলে পড়ে আহত হয়েছি।"
বাড্ডার কলেজছাত্রী সাবরিনা ইয়াসমিন বলেন, "বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। পোশাক নষ্ট হয়, জুতা নষ্ট হয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, কেউ জানে না পানির নিচে কী আছে।"
যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, "কর দিচ্ছি, কিন্তু তার বিনিময়ে ভালো রাস্তা পাচ্ছি না। দোকানে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। মানুষ এই রাস্তা এড়িয়ে চলে।"
রিকশাচালক মো. আলমগীর বলেন, "দিনে দুই-তিনবার রিকশার টায়ার পাংচার হয়। গর্তে পড়ে যাত্রীও রাগ করে। আমাদের আয় কমে গেছে।"
মোহাম্মদপুরের স্কুলশিক্ষক শাহীন আহমেদ বলেন, " আমি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতাম তাহলে সবার আগে জরুরী ভিত্তিতে রাজধানীর অলি-গলিগুলো ঠিক করার উদ্যোগ নিতাম। এবং তা করতাম ২৪ ঘন্টার মধ্যে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই রাস্তাগুলো এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। একটি উন্নত রাজধানীর সঙ্গে এই চিত্র যায় না।"
দুর্ঘটনা বাড়ছে: ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ভাঙা রাস্তা ও পানিতে ঢাকা গর্তের কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ত মেরামতে দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে ইট বা খোয়া ফেলে দায়সারা সংস্কার করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বক্তব্য: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "বর্ষা মৌসুমে অনেক সড়কে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মেরামতের কাজ চলছে। বৃষ্টি কমলে স্থায়ী সংস্কার আরও দ্রুত করা হবে। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি।"
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বক্তব্য: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "রাজধানীর অনেক সড়ক বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় পরিসরে পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হবে।"
বিশেষজ্ঞদের মত: নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টেকসই সড়ক নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সব সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়।
তাঁদের মতে, রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা যদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার আওতায় না আনা হয়, তবে প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্র ফিরে আসবে।
নাগরিকদের দাবি: রাজধানীবাসীর দাবি, সাময়িক মেরামত নয়, টেকসই সমাধান প্রয়োজন। কারণ ভাঙা রাস্তা শুধু চলাচলের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, অপচয় হচ্ছে কর্মঘণ্টা এবং বাড়ছে মানুষের আর্থিক ক্ষতি।
এক সময় যে রাজধানীকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার নানা পরিকল্পনার কথা শোনা যেত, আজ সেই শহরের বহু সড়কই পরিণত হয়েছে গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার এক নির্মম বাস্তবতায়। নগরবাসীর প্রশ্ন—এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়? বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই কি অন্তত রাজধানীর মানুষ নিরাপদে চলাচলের মতো রাস্তা ফিরে পাবে?
- রাজধানীর সড়কে যেন গর্তের রাজত্ব, প্রতিদিন দুর্ভোগে লাখো মানুষ
- ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ফাইনালে গুরু-শিষ্য মুখোমুখি
- বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম
- ঢাবিতে নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’
- ছয় মাসে ৩৮৩ সাংবাদিক নির্যাতন-হয়রানির শিকার: এইচআরএসএস
- ৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস
- স্মার্টফোনের ডিসপ্লে পরিষ্কারের সময় ভুলেও যা করবেন না
- এভারকেয়ার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ
- গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান
- ইংল্যান্ড অধিনায়ককে উদ্দেশ করে পরীমনির ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল
- আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা
- ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজ রথযাত্রা
- কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী
- জুলাই শহীদ দিবস আজ
- ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
- ঢাবিতে নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’
- কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী
- গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান
- নাতনীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল নানীর
- ইংল্যান্ড অধিনায়ককে উদ্দেশ করে পরীমনির ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল
- ৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস
- ছয় মাসে ৩৮৩ সাংবাদিক নির্যাতন-হয়রানির শিকার: এইচআরএসএস
- ফাইনালের আগে ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা
- আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা
- ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম
- জুলাই শহীদ দিবস আজ
- সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজ রথযাত্রা
- স্মার্টফোনের ডিসপ্লে পরিষ্কারের সময় ভুলেও যা করবেন না








