ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ৪:৩২:৪৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীর সড়কে যেন গর্তের রাজত্ব, প্রতিদিন দুর্ভোগে লাখো মানুষ বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: ফাইনালে গুরু-শিষ্য মুখোমুখি ৬ মাসে ২৩৮ শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণ: এইচআরএসএস গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক নারীকে মুক্তি দিল ইরান আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা

ঈদ বাজার : জমজমাট বেইলি রোড

আপডেট: ০৬:১৬ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৫ রবিবার

5_84745মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : ঈদ কড়া নাড়ছে দরজায়। হাতে সময় নেই বেশি। আকাশে রোদ-বৃষ্টির খেলা। সঙ্গে ভ্যাপসা গরমও। তাতে কি! এর মধ্যেও ফ্যাশন সচেতন নারীরা তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে বিরামহীন ছুটছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। শেষ মুহূর্তে এবার তো নিজের জন্য কিছু কেনা চাই। রাজধানীর বেইলি রোডে গিয়ে দেখা যায় মনকাড়া ডিজাইনের বাহারি শাড়ি,সালোয়ার কামিজের খোঁজে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা। মূলত দেশি ডিজাইনের শাড়ির জন্য বিখ্যাত বেইলি রোড। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও বেইলি রোডের বসেছে বাহারি শাড়ির বর্ণীল আয়োজন। পাওয়া যাচ্ছে টাঙ্গাইল,মিরপুর,ডেমরা,কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তৈরি শাড়ি। এবার বেইলি রোডের বিভিন্ন দোকানে দেশি শাড়ির পাশাপাশি দেখা গেল বিদেশি শাড়িও। এসব শাড়ির দাম অন্যবারের চেয়ে একটু বেশি। নামকরা বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ির দোকান ঘুরে দেখা গেল ভারতীয় কাঞ্জিভরম,ধুপিয়ান,তসা ও বাহামনিসহ বিভিন্ন নামের শাড়ি তুলেছেন বিক্রেতারা। বেইলি রোডের প্রিয়দর্শিনী শাড়ি ঘরের বিক্রয়কর্মীরা জানান,এবারের ঈদে চাহিদা বাড়ায় তারা দেশি শাড়ির পাশাপাশি বেশকিছু ভারতীয় শাড়ি তুলেছেন। মধ্যবিত্তরা পার্টি ড্রেস হিসেবে এসব শাড়ি কিনে নিচ্ছেন। 13_16704টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমনা শারমিন উইমেননিউজকে জানান,ভারতীয় এসব বাহারি শাড়ির ক্রেতার তুলনায় দেশি শাড়ির ক্রেতা এখনো বেশি। তিনি বলেন,এখনো উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আকর্ষণের জন্য নানা ডিজাইনের ঐতিহ্যবাহী মসলিন,রাজশাহী সিল্ক, জামদানি,মিরপুরী কাতান,বালুচরি,টাঙ্গাইলের সিল্ক,টাঙ্গাইলের কাতান,সুতি,পাবনা কাতান,জুট কটন,জুট কাতান,হাফসিল্ক,চোষা,সম্বরপুরীর চাহিদা অনেক বেশি। এসব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। বেইলি রোডের শাড়ির দোকানের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে সজনী, রমনী,এম ক্রাফট,টাঙ্গাইল শাড়ি,টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির,নাভিলা,বুনন, প্রিয়দর্শিনী। এসব শাড়ির দোকানগুলো ছাড়াও রয়েছে অঞ্জনস,দেশাল,সাদাকালো, কে ক্রাফট,রঙ, অনন্যা,প্রেয়সী,রুমঝুম,উনিশ-কুড়ি,ঝলক,পলক, শিল্প বিতান,লুবনান,লাল-সাদা-নীল-হলুদ,বাংলার মেলা,ঘাসফুল, বুনন,সাইমা ফ্যাশনসহ বিভিন্ন হাউস। 2_127616বেইলি রোডের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেছে,এবারের ঈদের সংগ্রহে সুতি,তসর,কাতান,হাফসিল্ক,মসলিন শাড়ির প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এসব ফ্যাশন হাউসে হাতের কাজ করা সুতি শাড়ি পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫শ’ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া সিল্কের মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি পাওয়া যাবে ১ হাজার ৮শ’ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। জামদানি শাড়ি পাওয়া যাবে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। 69ec1f2714c62ce7c36d038512405904-7এছাড়া বেইলি রোডের অধিকাংশ ফ্যাশন হাউসে শাড়ি ছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের পোশাক। দামও তুলনামূলক কম। মেয়েদের সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ৯৫০ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। আনস্টিচ থ্রিপিস ৭৫০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের টুপিস পাওয়া যাচ্ছে ৯৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। সিঙ্গেল কামিজ ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকার মধ্যে। সুতি ও সিল্কের স্টিচ থ্রি পিস পাওয়া যাবে ৬৫০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়াও রয়েছে টপস,লেগিংস,বিভিন্ন ধরনের ম্যাচিং অর্নামেন্টস। বাচ্চাদের বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট,প্যান্ট,টি শার্ট ও পাঞ্জাবি কেনা যাবে ২৫০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। image_137_25301নাবিলা শাড়ি কমপ্লেক্সে নতুন আসা শাড়ির মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের ঐহিত্যবাহী সুতি কাপড়ের কানাইয়া শাড়ি। এক রঙা এ শাড়ির পাড় ও আঁচলে রয়েছে সুতার ভারী কাজ। দাম পড়ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া এ দোকানের উল্লেখযোগ্য শাড়ির মধ্যে কালেঙ্গা সিল্ক আড়াই থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা,পারাপার কাতান সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার, বলরাম সিল্ক ২ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার,মিরপুরের তাঁতিদের তৈরি জমলট কাতান আড়াই থেকে সাড়ে ৩ হাজার এবং ক্লিওপেট্রা টাঙ্গাইল সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির হাউসে জামদানি পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। তাঁতের শাড়ি ৬৩০ থেকে ৩ হাজার, টাঙ্গাইল সিল্ক সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার,টাঙ্গাইল হাফ সিল্ক ১২০০ থেকে ৫ হাজার,মিরপুর কাতান ২৭০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এসবের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সুতির ওপর হাতের কাজ করা শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১৫০০ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। অন্য দোকানগুলোতে সিঁড়ি কাতান ১ থেকে ৬ হাজার,সল্ক ২ থেকে ৮ হাজার, ড্রিম গার্ল সিল্ক ১৫০০ থেকে ৯ হাজার,টাঙ্গাইলের মসলিন ৪ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং রাজশাহীর মোগা সিল্ক এক হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বেইলি রোডের সাদাকালো শো-রুমে ৯০০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া সাদা,কালো ও ছাই রঙের নিত্যনতুন নকশার শাড়ি। এছাড়া কে ক্রাফটে সুতি শাড়ি ৪৬৫ থেকে ১১০০০,সিল্ক ৩৫০০ থেকে ৫০০০ এবং মসলিনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০০ থেকে ১১০০০ টাকার মধ্যে। দেশালে বস্নকের শাড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ এবং জামদানি শাড়ির দাম পড়ছে ৩০০০ থেকে ১৩০০০ টাকা। অঞ্জনস-এ এন্ডি কটন ৪৫০০ থেকে ২০০০০,মসলিন ৪৫০০ থেকে ৩০০০০,হাফ সিল্ক ২০০০ থেকে ৫০০০,টাঙ্গাইলের সুতি ৭০০ থেকে ২০০০ এবং এন্ডিসিল্ক পাওয়া যাবে ৫০০০ থেকে ২০০০০ টাকার মধ্যে। এসব শাড়িতে রয়েছে ব্লক,স্ক্রিন প্রিন্ট,অ্যামব্রয়ডারি,হাতের কাজ ও কারচুপির কাজ। shari_396তবে বিক্রেতারা জানান,এবার গরমের মধ্যে ঈদ পড়ার কারণে হালকা সবুজ,আকাশি এমন সব হালকা রঙের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাদের মতে,ভারতীয় ঝলমলে শাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশীয় শাড়ির বাজার বেশ চাঙ্গা। ১৩.০৭.২০১৫