ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪১:২৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ছদ্মনামে লিখে সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে বাঙালি মহীয়সী নারী ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদফতর রাজধানীর বাইরে অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ইনানীর রিসোর্ট টুপটুপ কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে ১৩ নারীসহ ১৯ জনের প্রাণহানী হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সামগ্রিক দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ফলে নতুন করে অন্তত ১৬ জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে দেশের সাত জেলায় প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৪৭৯টি ঘরবাড়ি, প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমি, অসংখ্য নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

শুক্রবার রাজধানীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে শুকনো খাবার, চাল, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অনেক এলাকায় এখনও নিচু বসতবাড়িতে পানি রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সিলেট, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলার নদীতীরবর্তী মানুষ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি আরও বাড়তে পারে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, "পানি কিছুটা নামলেও ঘরে এখনো কাদা। রান্নাবান্না স্বাভাবিক হয়নি। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির জন্য।"

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, "নদীর পানি বাড়ছে। সবাই আতঙ্কে আছি। আমনের বীজতলা ডুবে গেলে বড় ক্ষতি হবে।"

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির গৃহিণী রওশন আরা বলেন, "বাচ্চাদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। ঘরে কবে ফিরতে পারব জানি না। এখন সবচেয়ে বেশি দরকার নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানি।"

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বন্যাদুর্গত এলাকায় ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ ও সাপের কামড়ের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন। তারা বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক দিন দেশের বন্যা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।