ঢাকা, রবিবার ০৯, আগস্ট ২০২০ ১৩:৩৪:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
করোনা আক্রান্ত প্রায় ২ কোটি, মৃত্যু ৭ লাখ ২৯ হাজার বায়ুদূষণে গড় আয়ু কমছে ২ বছর: গবেষণা ভারতে আরেক কোভিড হাসপাতালে আগুন, নিহত ৭ যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত ৯৭ হাজার শিশু বাংলাদেশও পাবে করোনার টিকা, প্রতি ডোজ ২৫৪ টাকা

উদ্ভিদবিদ ড. এ কে এম নুরুল ইসলামের মৃত্যুদিবস আজ

ফিচার ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:২৬ এএম, ১ জুলাই ২০২০ বুধবার

জাতীয় অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম, সংগৃহীত ছবি

জাতীয় অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম, সংগৃহীত ছবি

এ কে এম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উদ্ভিদবিদ এবং শিক্ষাবিদ। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০০৬ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ১ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এমন মেধাবী একজন জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিত্বকে সময়ের বিবর্তনে আজ আমরা ভুলে যেতে বসেছি।

এ.কে.এম নূরুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮  সালের ২৭ অক্টোবর নাটোর শহরে। তাঁর আদি বাড়ি নওগাঁ জেলা সদরে।

১৯৪৫ সালে তিনি নাওগাঁ কেডি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৪৭ কোলকাতার রিপন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে  বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৫১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি (শৈবালতত্ত্ব, ১৯৬০), ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে কুষ্টিয়া কলেজে উদ্ভিদবিদ্যার প্রভাষক হিসাবে (১৯৫২) যোগদান করেন। কিন্তু তার মাত্র এক মাস পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক (১৯৫২-৬২) হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি ক্রমান্বয়ে এই বিভাগের রিডার (১৯৬২-৭২), অধ্যাপক (১৯৭২-৯০), অতিরিক্ত অধ্যাপক (১৯৯১-২০০০), অবৈতনিক অধ্যাপক (২০০১-০৬) নিযুক্ত হন। সেই সঙ্গে তিনি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সিনেট সদস্য প্রভৃতি   গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

২০০৬ সালে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইরাক, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক ও গবেষক হিসাবে কাজ করলেও অনুরোধ সত্ত্বেও কোথাও স্থায়ী কোনো পদ গ্রহণ করেননি। দেশের টানে তিনি বার বার ফিরে এসেছেন বাংলাদেশে।

অধ্যাপক নুরুল ইসলাম শৈবালতত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন কর্মজীবনের শুরু থেকেই। এ বিষয়ে নিবিষ্ট থেকেছেন আমৃত্যু। শৈবাল নিয়ে লিখিত এবং দেশ-বিদেশের নামী বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত তার নিবন্ধের সংখ্যা ১৯৪টি।

অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম শৈবালের একটি নতুন গণ (জেনাস) ও দুই শতাধিক নতুন প্রজাতির আবিষ্কারক। যেগুলির অধিকাংশ এখন শৈবালের বিশ্ব মনোগ্রাফে অন্তর্ভুক্ত। আর এই আবিস্কারই তাকে দেশের সীমান পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিধিতে নিয়ে গেছে। পরিচিতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক শৈবাল বিজ্ঞানী হিসেবে।

ড. নুরুল ইসলাম নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে শৈবালতত্ব ও উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি মৌলিক বিজ্ঞান ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান নিয়ে যেসব বই লিখেছেন সেগুলির মধ্যে উল্লেখ্য, Revision of the Genus stigioclonium, Contribution to the Study of the Marine Algae  of Bangladesh (J. Cramer, Germany, 1963, (1976), Two Centuries of Plant Studies in Bangladesh and Ajacent Regions (Asiatic Society, Bangladesh, 1991), গাছগাছালি (বাংলা একাডেমী, ১৯৭৬),  বাংলাদেশের সামুদ্রিক শৈবাল অধ্যয়ন (১৯৭৬), বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে শতাব্দী পরিকল্পিত অধ্যয়ন (১৯৯১), কোরানের গাছপালা এবং ‘অন্য কোনো সুর’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও লিখেছেন (হাসান-বুক হাউস, ১৯৯১)।

জাতীয় অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম অনেকগুলি বই ও সংকলনের সম্পাদকও। তার মধ্যে অন্যতম Plant Science and Man: Problems and Prospects (বাংলাদেশ উদ্ভিদবিজ্ঞান সমিতি, ১৯৯৪), বিজ্ঞান বিশ্বকোষ ১-৪ খন্ড (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৮-২০০৬) প্রভৃতি। দেশ ছাড়াও তার একাধিক গ্রন্থ বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফারেন্স বকু হিসেবে পড়ানো হয়।

অধ্যাপক ইসলামের পাওয়া বহু সম্মাননার মধ্যে আছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের স্বর্ণপদক (১৯৯৩, ২০০৪), বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী, বাংলাদেশ উদ্ভিদবিজ্ঞান সমিতি ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলোশিপ (১৯৮০, ১৯৯৬, ২০০৪) প্রভৃতি।

১৯৯২ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি ছিলেন। তার আগে এই সংস্থার কোষাদক্ষের দায়িত্বও পাল করেছেন। ১৯৮৫-১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. নুরুল ইসলাম।

অধ্যাপক ইসলামের তত্ত্বাবধানে উল্লেখ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর সখ ছিল প্রকৃতিচর্চা, উদ্যান নির্মাণ, ডাকটিকিট সংগ্রহ ও প্রাচীন মুদ্রা সংগ্রহ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণের বোটানিক্যাল গার্ডনটি এই মহান গাছপ্রেমী শিক্ষকের অপার চেষ্টায় সৃষ্টি। এছাড়াও এই ক্যাম্পাসে তিনি একাধিক রিবল গাছ লাগিয়েছিলেন, যার অধিকাংশই এখনও তার স্মৃতি লালন করে বেঁচে আছে।

২০০৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

তাঁর মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের এই শিক্ষকের রুমটিকে তার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে।