ঢাকা, বুধবার ১৮, মার্চ ২০২৬ ১৪:১৪:৪৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে মিত্রদের ‘না’, হতাশ ট্রাম্প মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ, ধীরগতিতে চলছে গাড়ি চিকিৎসার অভাবে ৪৯ লাখ শিশুর মৃত্যু, জাতিসংঘের উদ্বেগ বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩ ধর্ষণ রোধে সমন্বিত সরকারি অ্যাকশন ঈদে ফিরতি ট্রেনযাত্রা: ২৮ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে মিত্রদের ‘না’, হতাশ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩২ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত ইতোমধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুদ্ধ থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় ইরান ড্রোন ও নৌ-মাইন ব্যবহার করে কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করেছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জার্মানি, স্পেন, ইতালিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তাদের এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত চাপ তৈরি করছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বার্লিনে বলেন, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তাদের পক্ষে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব জার্মানির সঙ্গে পরামর্শ করেনি।

হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, কিছু দেশ সহায়তার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে অনীহা স্পষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, যেসব দেশ অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা অন্তত আরও তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাদের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, “শাসনব্যবস্থার সব সক্ষমতা দুর্বল করাই আমাদের লক্ষ্য।”

একই সময়ে ইরানের ড্রোন হামলায় দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাতেও আঘাত হানে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযান শুরু হয়েছে, যা হিজবুল্লাহর রকেট হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছে, বড় আকারে ইসরায়েলি স্থল অভিযান শুরু হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এছাড়া ইরানের সামরিক মুখপাত্র আবুলফজল শেখারচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খারগ দ্বীপে হামলায় যেসব দেশ সহায়তা করবে, তাদের তেল-গ্যাস স্থাপনাও নিশানায় পরিণত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা কোনো যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বার্তা বিনিময়ও হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিয়ে ইরানের ওপর হামলা চালাতে সহযোগিতা করছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু রয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিত্র দেশগুলোর অনীহা এবং সংঘাতের বিস্তার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। 

তথ্যসূত্র : রয়টার্স