ঢাকা, মঙ্গলবার ২৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:৩৭:২৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গাজীপুরে গাড়িচাপায় মা-মেয়ে নিহত ভারত ও নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয়, নিহত ৭০ মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে নামছে আরও ১০০ ‘পিংক বাস’ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম নেপালে তুষারধসে ২ মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১০ জন

কাশফুলের শুভ্রতার চাদরে ঢেকে গেছে পদ্মার চরে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৬ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে এবার সেই চিরচেনা শরৎ যেন নতুন করে ধরা দিয়েছে। দিগন্তজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলে পুরো চর ঢেকে গেছে শুভ্রতার চাদরে।

 পদ্মার বাতাসে একসঙ্গে দুলছে হাজার হাজার কাশফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, পলিমাটির বিস্তীর্ণ প্রান্তরে কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।
ওপরে নীল আকাশ আর সাদা মেঘ, নিচে কাশফুলের সারি, প্রকৃতির এই মেলবন্ধন মুহূর্তেই মন ভালো করে দেওয়ার মতো।
সদরপুর উপজেলার ২ নম্বর আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বিশাল চরজুড়ে তৈরি হয়েছে এই কাশবন।

সরেজমিনে দেখা যায়, যতদূর চোখ যায় ততদূরই কাশফুলের শুভ্রতা। বাতাস একটু জোরে বইলেই হাজার হাজার কাশফুল একসঙ্গে দুলে ওঠে।
তখন পুরো চরজুড়ে তৈরি হয় ঢেউয়ের মতো দৃশ্য।
কাশবনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো পথও তৈরি হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। কোথাও কাশফুল কোমরসমান, কোথাও আবার মানুষের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। নীল আকাশের নিচে কচি কাশের এমন দৃশ্য পথচারী ও দর্শনার্থীদের সহজেই টেনে নিচ্ছে।

শরতের এই রূপের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় বহু পুরোনো। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতিতে দেখা দেয় নতুন রঙ ও সৌন্দর্য। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর মাঠের ধারে কাশফুল, এসবই যেন শরতের নিজস্ব পরিচয়। তবে সদরপুরের পদ্মার চরে এবারের কাশবন সেই পরিচিত সৌন্দর্যকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের ভাষ্য, একসময় সদরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শরৎ এলেই দেখা মিলত অসংখ্য কাশবনের। নদীর তীর, ফসলের আইল, খালের পাড় কিংবা পতিত জমিতে আপনাআপনি জন্ম নিত কাশফুল। শরতের বাতাসে সেসব কাশবন দুলে উঠত শুভ্র ঢেউয়ে।

কালের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য অনেকটাই কমে এসেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ, কৃষিজমির নিবিড় ব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক জায়গা থেকেই হারিয়ে গেছে কাশবন। সেই বাস্তবতায় আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার চরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশাল কাশবন স্থানীয়দের কাছে যেমন বিস্ময়ের, তেমনি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে।

এই কাশবনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু বা সহপাঠীদের সঙ্গে ছুটে আসছেন প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে।

কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, গল্প-আড্ডা, টিকটক ও রিলস ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত তরুণ-তরুণীদের দেখা যাচ্ছে। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে এসে অনেকেই শরতের এই সৌন্দর্য স্মৃতিতে ধরে রাখছেন।

দিনের আলো ফুরিয়ে গোধূলি নামার সময় কাশবনের সৌন্দর্য যেন আরও বদলে যায়। পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়লে নরম আলো এসে পড়ে কাশফুলের ওপর। শুভ্র কাশের সঙ্গে তখন মিশে যায় সোনালি আভা।

পাশে পদ্মার জলরাশি, নদীর বাতাসে নুয়ে পড়া কাশফুল আর দূরে সূর্যাস্ত, সব মিলিয়ে তৈরি হয় শান্ত ও মায়াময় এক পরিবেশ। দিনের কোলাহল পেরিয়ে এই সময়টুকু যেন চরের প্রকৃতির নিজস্ব এক আয়োজন।

ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী আবেগপ্লুত হয়ে জানান, ইট-কাঠের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় মুক্তি পেতেই পরিবার নিয়ে পদ্মার চরে এসেছেন তিনি। তাঁর মতে, শহুরে জীবনের দেয়ালের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুরা প্রকৃতির সৌন্দর্য থেকে অনেকটাই দূরে থাকে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও প্রকৃতির কাছাকাছি এনে মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার জন্য এমন চরাঞ্চলের জুড়ি নেই।

আরেক দর্শনার্থীর মতে, আধুনিকতার প্রভাব ও নদীভাঙনে নদীর পাড় ও চরাঞ্চলের আগের চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে। একসময় যেখানে মাইলের পর মাইল কাশফুল দেখা যেত, এখন সেখানে অনেক জায়গায় দু-একটি কাশের গোছাই চোখে পড়ে। তাঁর মতে, সদরপুরের এই কাশবন শুধু সৌন্দর্যের জায়গা নয়; এটি দেশের স্থানীয় প্রকৃতির একটি অমূল্য অংশ।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন, পদ্মার চরের এই প্রাকৃতিক কাশবন রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। দর্শনার্থীরা যেন কাশফুল না ছেঁড়েন, গাছপালা নষ্ট না করেন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকেন, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা গেলে শরৎ এলেই এই চর হয়ে উঠতে পারে সদরপুরের অন্যতম আকর্ষণ। কাশফুলের এই বিস্তীর্ণ প্রান্তর শুধু মানুষের বিনোদনের জায়গা নয়, নদীর চরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্যেরও অংশ।

শরৎ চলে যাবে, কাশফুলও একসময় ঝরে পড়বে। কিন্তু পদ্মার চরের এই শুভ্রতা যদি যত্নে টিকে থাকে, তাহলে পরের বছর আবারও নীল আকাশের নিচে দুলবে কাশফুল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষ এসে উপভোগ করবে শরতের সেই চিরচেনা সৌন্দর্য, পদ্মার বাতাসে দুলতে থাকা দিগন্তজোড়া শুভ্রতার মেলা।