ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ২:৩৪:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে আঝোর বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী, দুর্ভোগে নগরবাসী বন্যা-পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে ৬ দিনে ৪৩ জনের মৃত্যু ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ, কিছু স্কুলে পরীক্ষা বন্ধ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা

খুনি ও অর্থ পাচারকারীদের ক্ষমা নাই: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:০৩ পিএম, ১০ মে ২০১৯ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুনি ও অর্থপাচারকারীদের অবশ্যই শাস্তি হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে লন্ডনের তাজ হোটেলে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলো এই সভার আয়োজন করে।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। চিকিৎসা শেষে তার দেশে ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি দেশে আসেননি।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানের পাসপোর্টেও মেয়াদ শেষ হলেও তারা নবায়নের আবেদন করেননি। আর ২০০৪ সালের ২ জুলাই তারা পাসপোর্ট জমা দেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

এর মধ্যে দুর্নীতির দুই মামলায় তারেক রহমানের মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২২ কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি জরিমানা হয়েছে। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আজীবন কারাদণ্ড হয়েছে তারেক রহমানের।

যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে এই আগে দুইবার তারেক রহমানকে ফেরানোর বিষয়ে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল এক মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, তার (তারেক রহমান) উচিত আদালতের মুখোমুখি হওয়া। আমরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলছি। অবশ্যই একদিন আমরা তাকে ফেরত নেব।

গতকাল লন্ডনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে দেশে ফেরাতে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। খুনি ও অর্থপাচারকারীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, যত টাকাই খরচ করুক, তাদের কোনো ক্ষমা নেই এবং জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত খুনি ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আমরা এই রায় কার্যকরের পদক্ষেপ নেব। তারা যত স্লোগানই দিক, যত তিরষ্কারই করুক, তাদের অবশ্যই শাস্তি হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা অবৈধভাবে, এতিমের টাকা চুরি করে, মুদ্রাপাচার করে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছে।’ অর্থপাচারকারীদের অবশ্যই শাস্তি হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ‘প্রোপাগান্ডার’ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

গত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিএনপি সকালে একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, বিকেলে আরেকজনকে দিয়েছে। টাকা দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করেছে। লন্ডনে এবং দেশের বাইরে অন্যান্য জায়গায় বাণিজ্য হয়েছে। একেক প্রার্থীর কাছ থেকে কোটি, কোটি টাকা নিয়েছে। ৩০০ আসনে ৬০০ এর বেশি মনোনয়ন দিয়েছে।’

সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যাদের জন্মের কোনো বৈধতা নেই তারাই সবকিছুতে অবৈধ খুঁজে বেড়ায়।

‘মিথ্যা নিয়ে কারবার করাই বিএনপির ব্যবসা এবং তারা এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎ করে এবং বিদেশে অর্থ পাচার করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছে। তবে, আমি বিশ্বাস করি, সত্যের জয় হবেই।’-যোগ করেন তিনি।

গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে এবং দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করতে না পারে।’

নিজের চোখের অপারেশন দেশেই করতে চেয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ডাক্তাররা সাইকোলজিক্যাল কারণে আমার চোখ অপারেশনের ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। তাই বাধ্য হয়ে ব্রিটেনে এই চিকিৎসা নিতে হলো।’

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমানের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, সর্ব ইউরোপিয়ান আ.লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ১ মে ১০ দিনের সরকারি সফরে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনা। সফরে চোখের চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি পরিবার সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

১০ মে (শুক্রবার) লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভিভিআইপি ফ্লাইট নম্বর বিজি ২০২ যোগে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন তিনি। শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের।

-জেডসি