ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৪৩:৩২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

গাছের ডালে হলুদের ঝলক, বাংলার আকাশে ‘হলদে বউ’

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:৫২ পিএম, ১ জুন ২০২৬ সোমবার

হলদে বউ।

হলদে বউ।

দুপুরের রোদ যখন গাছের পাতায় সোনালি আগুন জ্বেলে দেয়, ঠিক তখনই কোনো আমগাছ কিংবা কাঁঠালগাছের ডালে হঠাৎ চোখে পড়ে এক টুকরো হলুদ আলো। মনে হয় যেন গাছের পাতার ভেতর লুকিয়ে আছে একখণ্ড রোদ। সেই রোদেরই নাম—হলদে বউ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও সহজে চেনা পাখিগুলোর মধ্যে অন্যতম এই পাখি। উজ্জ্বল হলুদ শরীর, কালো মাথা ও ডানার অপূর্ব মিশেলে হলদে বউকে দূর থেকেই চিনে ফেলা যায়। প্রকৃতির রঙতুলিতে আঁকা যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।

বাংলাদেশে এই পাখিকে অঞ্চলভেদে নানা নামে ডাকা হয়। সবচেয়ে পরিচিত নাম ‘হলদে বউ’ বা ‘বেনেবউ’। কোথাও একে বলা হয় ‘হলদেপাখি’, ‘সোনাবউ’, ‘কালোমাথা বেনেবউ’, আবার অনেকে আদর করে ডাকে ‘ইষ্টিকুটুম’ নামেও। পাখিবিদদের ভাষায় এর ইংরেজি নাম Black-hooded Oriole এবং বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus xanthornus।

‘বেনেবউ’ নামটির পেছনেও আছে মজার লোককথা। গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, নতুন বউয়ের মতোই লাজুক, রঙিন আর সৌন্দর্যময় বলেই পাখিটির নাম হয়েছে বেনেবউ বা হলদে বউ। আবার এর ঝকঝকে হলুদ রঙের কারণে অনেকেই একে শুধু ‘হলদে পাখি’ বলেই চেনেন।

হলদে বউ সাধারণত একা কিংবা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। বড় বড় গাছের উঁচু ডালে বসে থাকতে ভালোবাসে। গ্রামের বাগান, শহরের পার্ক, বনাঞ্চল কিংবা বাড়ির আঙিনার পুরোনো গাছ—সবখানেই দেখা মিলতে পারে এই পাখির। তবে গাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকার অভ্যাসের কারণে অনেক সময় চোখের সামনে থাকলেও তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

শুধু রূপেই নয়, কণ্ঠেও মুগ্ধ করে হলদে বউ। এর সুরেলা বাঁশির মতো ডাক অনেকের কাছে বর্ষা কিংবা গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা। ভোরের নরম আলোয় কিংবা বিকেলের নিস্তব্ধতায় তার ডাক শুনলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজেই গান গাইছে।

ওদের খাদ্যতালিকায় থাকে ফল, পোকামাকড়, ফুলের মধু ও ছোট ছোট কীটপতঙ্গ। তাই কৃষকেরও বন্ধু এই পাখি। গাছের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ওরা।

একসময় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে হলদে বউয়ের দেখা মিলত খুব সহজে। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়া, পুরোনো গাছ কেটে ফেলা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে অনেক এলাকায় এদের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে মনে করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। পাখিপ্রেমীদের ভাষায়, বাংলার আকাশ থেকে একে একে হারিয়ে যাচ্ছে বহু রঙিন পাখি; হলদে বউকে টিকিয়ে রাখতে তাই প্রয়োজন নিরাপদ আবাসস্থল ও সবুজ গাছপালা।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, কবিতা ও প্রকৃতির স্মৃতিতে হলদে বউ শুধু একটি পাখি নয়; সে যেন গ্রামবাংলার রোদমাখা এক টুকরো সৌন্দর্য। গাছের ডালে তার হঠাৎ উড়ে এসে বসা আজও মানুষের মনে আনন্দের ঢেউ তোলে। তাই প্রকৃতির এই সোনালি অতিথিকে বাঁচিয়ে রাখা মানে আমাদের নিজেদেরই এক টুকরো সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখা।

লেখক-শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও পাখি পর্যবেক্ষক। আহবায়ক- বাংলাদেশ বার্ড ওয়াচার সোসাইটি।