ঢাকা, শুক্রবার ০৬, নভেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৭:২১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান ফের গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী উর্মি পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম নাসিরের মামলায় আত্মসমর্পণ, জামিন পেলেন পরীমনি

গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৭ এএম, ৬ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর অসুস্থ অবস্থায় রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অমানবিক জরিমানা, দুই ছাত্রীর হোস্টেলের সিট বাতিল এবং রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার রাত ২টা ১০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ও কঠোর দাবি তুলে ধরেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত পূজার আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। শম্পা আখতার নামের এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে না পারায় অধ্যক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে দুজন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করেন। পরে ছাত্রীরা ক্ষমা চাইতে গেলে অধ্যক্ষ তাঁদের কাছে অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, এত বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়া তাঁদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জরিমানা ও সিট বাতিলের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কলেজের ক্যান্টিনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে আন্দোলনে নামেন।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা মিথ্যাচার করছেন। রাত ১০টায় শেষ হওয়ার কথা থাকা একটি অনুষ্ঠান তাঁরা ভোর ৫টা পর্যন্ত চালিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী এই অতিরিক্ত সময়ের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল চাওয়াটা কোনো অপরাধ নয়।

অধ্যক্ষ দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা যখন ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁদের প্রতি যথেষ্ট নমনীয় আচরণই করেছিলেন।

দিনভর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিল হোসেন জানান, অবরুদ্ধ অবস্থায় অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় রাত ১১টার দিকে পুলিশ কলেজের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

তবে শিক্ষার্থীদের জোরালো অভিযোগ, রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে এনে বিনা উসকানিতে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। পুলিশি হামলার অভিযোগ ও অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন, অধ্যক্ষ লিখিতভাবে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া এবং যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এই হামলার বৈধতা দিয়েছেন, তাঁদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে তামান্না ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে তাঁরা পুনরায় এই দাবি আদায়ের কর্মসূচি শুরু করবেন। তবে এদিন ক্যাম্পাসে পূর্বনির্ধারিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার সময়টুকু আন্দোলন সাময়িক বন্ধ রেখে পরীক্ষা শেষে তাঁরা আবারও বিক্ষোভে নামবেন।