ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১৪:৫২:৫১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের আনন্দে গুলিবর্ষণ; পাকিস্তানে ৫ বছরের শিশু

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত :

পাকিস্তান রাষ্ট্রটিকে যেসব কারণে উদ্ভট বলা হয় এই ঘটনাটিত তার একটি উদাহারণ। ওখানে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। সন্ত্রাস-জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত পাকিস্তানে অস্ত্র যেন কাঁচা বাজারের সবজির মত বিক্রি হয়। যে কোনো আনন্দ উৎসবে ফাঁকা গুলি ছোড়া তাই পুরনো ঘটনা। কিন্তু গত জুনে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপার জয় উদযাপন করতে গিয়ে এই ফাঁকা গুলি প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ৫ বছর বয়সী এক শিশুর!

ঘটনার পর ৪ মাস কেটে গেলেও এতদিন পর তা মিডিয়ায় আসল। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশের নওশেরা নামক একটি প্রত্যন্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছিল। যে কারণে বিষয়টি এতদিন আড়ালেই ছিল। ঘটনার দিন ওই অঞ্চলের বাসিন্দা লায়েক শাহ তার ৫ বছর বয়সী পুত্র নোইনকে  নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিজয় উদযাপন করতে গ্রামের রাস্তায় গিয়েছিলেন। লায়েক শাহ কি জানতেন, নিজে হাতে প্রিয় পুত্রকে মৃত্যুর কাছে পৌঁছে দিলেন তিনি!
যুদ্ধ-সন্ত্রাসের মধ্যেও পাকিস্তানে ক্রিকেট ভীষণ জনপ্রিয়। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় মানে বাড়তি কিছু পাওনা।
তাই এই আনন্দের রেশ সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সব এলাকায় আগ্নয়াস্ত্র একটি স্মার্টফোনের চাইতেও কম দামে পাওয়া যায়! আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতা নেই। তাছাড়া আশির দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী পরাজিত হওয়ার পর গোটা পাকিস্তানেই আনন্দ উদযাপনে গুলি ছোড়ার সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল।
এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওইদিন লায়েক শাহ তার ছেলেকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের আনন্দ উদযাপন করছিলেন। এর মধ্যেই অতি উৎসাহী কয়েকজন ফাঁকা গুলিবর্ষণ করতে শুরু করে। সেই `ফাঁকা গুলি`র একটি বিদ্ধ করে ৫ বছর বয়সী নোইনকে। এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। ছেলের মৃত্যুর পর এখন `বন্দুক সংস্কৃতি` থেকে মুক্তি চেয়েছেন লায়েক শাহ। তিনি বলেছেন, `একজনের অসতর্কতা আমার ছেলের জীবন শেষ করে দিল! আমি এই গোলাগুলির অবসান চাই।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, এই `বন্দুক সংস্কৃতি`র বড় মূল্য চুকাতে হচ্ছে পাকিস্তানের বাসিন্দাদের। স্রেফ চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এভাবে আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে! পাকিস্তানের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই সংখ্যা আরও বেশি। আইন, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় না। তাই বন্দুকবাজদের উন্মাদনায় এভাবেই বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের!