ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ২৩:৫৭:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ খেলাধুলা মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: ট্রমা কাটেনি, নিঃস্ব অনেক পরিবার রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে পথশিশুরা

আপডেট: ০৩:৩২ পিএম, ১৩ জুন ২০১৫ শনিবার

imagesরাতুল মাঝি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : রাজধানীসহ সারাদেশে আশঙ্কাকাজনক হারে বাড়ছে পথশিশুর সংখ্যা। আইনের অপব্যবহার, আইন অমান্য করা, সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব ও বিনা পারিশ্রমিকে শিশু শ্রমিক পাওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে শিশুশ্রম। শুধু জীবন বাঁচাতে এসব পথশিশুরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজসহ বিভিন্নরকম অপরাধ মূলক কার্মকান্ডে। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পানির দামে শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম দিয়েও তাদের অনেকের ভাগ্যেই জোটে না দু’বেলা খাবার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৩৫ লাখ শিশু শ্রমিকদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১৩ লাখ শিশু। যার শতকরা হার মোট শিশু শ্রমিকের ৪১ শতাংশ। আইএলও’র সাম্প্রতিক এক তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের শিশু শ্রমিকরা প্রায় ৩শ ৪৭ ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে ৪৭ ধরণের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৩ ধরনের কাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপহৃর্ণ কাজ হিসেবে চিহিুত করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই পথশিশু। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে জানা গেছে, এসব পথশিশুরা ৫৪ শতাংশ সকালে, ৩২ শতাংশ দুপুরে ও ১৩ শতাংশ রাতে কাজ করে। তারা একবেলা খাবার জোগাড় করতে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত পরিশ্রম করে। জরিপ থেকে আরো জানা যায়, পথশিশুদের ৬৯ শতাংশ কোনো না কোনা শিশুশ্রমে জড়িত রয়েছে। তাদের গড় আয় দৈনিক জনপ্রতি ৩১ টাকার বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠানিক খাতের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে শিশু শ্রমিক নেই। দারিদ্র্যের নির্মম কষাখাতে জর্জরিত বাবা-মা অল্প একটু স্বস্তির জন্য তাদের অল্প বয়সী সন্তানদের ঠেলে দেয় উপার্জনের পথে। এমনি লক্ষ লক্ষ অসহায় নিরুপায় শিশু এক রকম বাধ্য হয়েই কঠিন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ন্যুনতম বেতনে শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হয়। জানা যায় প্রায় দশ লক্ষাধিক শিশু শ্রমিক অপ্রতিষ্ঠানিক ভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকাধীন খাতে কাজ করছে। মূলত ঢাকা শহরের শিশু শ্রমিকের একটি বড় অংশই এই খাতে শ্রম দিচ্ছে। এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ধাতব কারখানা, অটো-মোবাইলের কারখানা, গ্যারেজ, বাঁধাই কারখানা, বেকারি, তালার কারখানা, জুতার কারখানা, ব্রাশ ফ্যাক্টরি, ষ্টীল ফ্যাক্টরি, কাঠের ফার্নিচার তৈরির ফ্যাক্টরি, গ্লাস ফ্যাক্টরি, এমব্রয়ডারি, ব্যাটারি ফ্যাক্টরি, ট্যানারি, খাবার উৎপাদনকারী কারখানা, পলিথিন ফ্যাক্টরি, সাবানের ফ্যাক্টরি, জুয়েলারি, ভাঙারি, কসমেটিক্স ফ্যাক্টরি, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেট্রনিক্স যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা, স্যানিটারি ফ্যাক্টরি, মশার কয়েল হোশিয়ারি, মোমবাতির ফ্যাক্টরি ইত্যাদি খাত বিশেষ ভাবে শ্রম বিক্রি করছে। রাড্ডা করনেন বাংলাদেশ পরিচালিত ‘চাইল্ড ইন ইনফরমাল সেক্টর: অ্যা ঢাকা সিটি সিনারিও’ শীর্ষক ঢাকা শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শিশুদের নিয়ে এক সমীক্ষায় শহরের ৭০৯ টি ফ্যাক্টরির মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা যায় মোট ৯১৯৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ৪১.৫% অর্থাৎ ৩৮২০ জন শিশু। পথশিশুরা ঝুঁকিপহৃর্ণ শ্রমের পাশপাশি নিয়োজিত হয় অপরাধমূলক কাজে। মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র বহন, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে বোমা বহন ও নিক্ষেপ, ছিনতাই, রাহাজানি, পকেট মারার মতো অপরাধগুলোতে জড়িয়ে পড়ের তাদের অনেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই না বুঝে এসব সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ে তারা। অথচ এক ঝুঁকি এবং বিপদ মাথায় নেয়ার পরও তাদের পারিশ্রমিক থাকে খুব কম। অনেক সময় শুধু দুবেলা খাবারের বিনিময়ে তারা এসব কাজ করে থাকে। আবার এরকম কাজ করতে গিয়ে তারা ফেরারী আসামি, জেল খাটে, চিরদিনের জন্য হয় পঙ্গু । এমনকি মৃত্যুবরণও করে থাকে। পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা তাদের প্রয়োজনে এসব শিশুকে সোর্স হিসেবে কাজে লাগায়। মেয়ে শিশুরা নিয়োজিত হয় পতিতাবৃত্তিতে। ইউনিসেফের ২০০১ সালের এত তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ৬১ লাখ শিশুশ্রমিকের মধ্যে মেয়েদের শতকরা ৩২ জন পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত। দিনভর অমানুষিক পরিশ্রম করে যে অর্থ আয় করে পথশিশুরা তাতেও ভাগ বসায় পুলিশ, নাইটগার্ড। আর সন্ত্রাসীরা তো আছেই। নিজের কাছে অনিরাপদ মনে হয় অনেকেই মহাজনদের কাছে টাকা জমা রাখে। অল্প অল্প করে সঞ্চিত সেই টাকা অনেক মহাজনই পরে আর ফেরত দেয় না। কোনো প্রমাণ না থাকায় কিছু করার থাকে না এসব ছোট ছোট শিশুর। নিজের প্রাপ্য টাকা চাইতে গেলে বরং উল্টো খেতে হয় মারধর। বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করে বলেছেন, ঢাকা শহরের শিশু শ্রমিকদের সবচেয়ে বড়ো অংশটির বিচরণ ক্ষেত্র হলো যত্রতত্র যেনতেন ভাবে গড়ে ওঠা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। এই বিশাল খাতের কোথাও আইএলও কনভেনশন, শিশুশ্রম সংক্রান্ত দেশীয় আইনের প্রয়োগ ঘটে না। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য কোনো ট্রেড ইউনিয়নও নেই। অথচ বাংলাদেশ সরকার কনভেশন নং ১৮২ সহ আই.এলও-র ৭টি মৌলিক আইএলও কনভেনশনসহ মোট ৩৩টি কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। অন্যদিকে শিশু অ্যাক্ট ১৯৩৮, শিশু নিয়োগ আইন ১৯৫৫, সড়ক পরিবহন অধ্যাদেশ ১৯৬১, কারখানা আইন ১৯৬৫, দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৬৫, কারখানা নীতি ১৯৭০ এবং ১৯৭৪ সালের শিশু আইনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপহৃর্ণ শিশু শ্রম সংক্রান্ত আইন বাংলাদেশে প্রচলিত আছে। ঢাকা শহরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসবের কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। ১২.০৬.২০১৫