ঢাকা, রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ ১১:৩১:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস, ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন এমবাপের গোলের বন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে আসামি পলায়ন, বরখাস্ত ৭ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ ঢাবি অধ্যাপক নাজমুন নাহার মারা গেছেন

তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন মোদি

আপডেট: ০৪:১৮ এএম, ৩১ মে ২০১৫ রবিবার

33001_1স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : আসন্ন বাংলাদেশ  সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। আর এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। এমন আশ্বাস দেয়ার পরই ঢাকা সফরে মমতা ব্যানার্জিকে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন মোদি। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় শনিবার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়—নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। সেই বৈঠকেই মোদি জানিয়েছেন—তার সফরের অগ্রাধিকার কী হবে। তিনি মনে করেন—স্থলসীমান্ত চুক্তি করাটা একটি বড় ব্যাপার। এর ফলে দুই দেশের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘ কয়েক দশকের সমস্যার সমাধান হবে। এই চুক্তি নিয়ে নানা রাজ্যে বহু মতপার্থক্য ছিল। সে সব পার্থক্যের অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তরেখা চূড়ান্ত করাকে ঐতিহাসিক ঘটনা বলেই মনে করছে ভারত সরকার।
স্থলসীমান্ত চুক্তির পরে যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা সব চেয়ে বেশি, সেটা অবশ্যই তিস্তা। এ নিয়ে জটিলতা কী ভাবে কাটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মোয়াজ্জেম আলী জানান—২০১১ সালে তিস্তা চুক্তির একটি খসড়া তৈরি হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু ওই খসড়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন মমতা। তার যুক্তি ছিল, যে সূত্র মেনে পানি বণ্টনের কথা বলা হচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে গিয়ে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলতে চেয়েছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কিন্তু মমতার আপত্তির জেরে তাকে পিছিয়ে আসতে হয়। কেন্দ্র তাকে না জানিয়ে চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হয়েছে—এই অভিযোগে মনমোহনের সঙ্গে ঢাকা যেতেও অস্বীকার করেন মমতা কিন্তু তিনি যে তিস্তা চুক্তির বিরোধী নন, সে কথা একাধিক বার বলেছেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরে শেখ হাসিনার সঙ্গে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।
মমতার বক্তব্য—তিস্তা জট ছাড়াতে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক উপায় খুঁজে বের করার ব্যাপারে তার কোনো আপত্তি নেই কিন্তু চুক্তিটা এমন ভাবে করা হোক, যাতে পশ্চিমবঙ্গের কোনো সমস্যা না হয়। ২০১১ সালের খসড়া চুক্তির পরে নতুন করে আর কোনো খসড়া তৈরি হয়নি। ফলে সমাধান এখনো অধরা। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ শুক্রবার ফোন করে মমতাকে আশ্বাস দিয়েছেন— পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি দিল্লি করবে না।
অন্য দিকে, বাংলাদেশ চাইছে—দুই দেশের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া অন্য নদীগুলির পানি বণ্টন নিয়েও পারস্পরিক সমঝোতা হোক। দুই দেশের উপর দিয়েই বয়ে গেছে ৫৪টি নদী। মোয়াজ্জেম আলী বলেন—গঙ্গা ও তিস্তা ছাড়া বাকি ৫২টি নদী নিয়েও দুই দেশের মধ্যে দ্রুত আলোচনা শুরু হওয়া উচিত। সে জন্য জয়েন্ট বেসিন ম্যানেজমেন্টকে কার্যকর করে তুলতে হবে।
আগামী ৬ জুন মমতা সন্ধ্যায় ঢাকা আসবেন সে বিষয়টি এখনো পর্যন্ত ঠিক রয়েছে। ফিরে যাবেন পরদিন সন্ধ্যায়। ৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানে মোদির পাশে থাকবেন মমতা। তবে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর সব কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন না।
মোয়াজ্জেম আলী বলেন—৩৬ ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন নরেন্দ্র মোদি। রাতে তিনি সরকারি নৈশভোজে যোগ দেবেন। এ ছাড়া, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ির অবদানকে স্বীকৃতি দেবে শেখ হাসিনা সরকার। বাজপেয়ির হয়ে ওই সম্মান গ্রহণ করবেন মোদি।
বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত এই সব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মোদি ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে যাবেন। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী কালীবাড়ি, স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে যাওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির।
৩১.০৫.২০১৫