ঢাকা, রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ ১১:৩২:০৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস, ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন এমবাপের গোলের বন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে আসামি পলায়ন, বরখাস্ত ৭ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ ঢাবি অধ্যাপক নাজমুন নাহার মারা গেছেন

দেশে ৮২ ভাগ নারী কাজ পেলে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫ শতাংশ

আপডেট: ০৪:৪৩ এএম, ৩১ মে ২০১৫ রবিবার

bajet-15-16স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : দেশে এখন কর্মক্ষম পুরুষের প্রায় ৮২ শতাংশ কাজ করছেন। অন্যদিকে কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে কাজ করেন মাত্র ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে যদি সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ কর্মক্ষম মেয়েদের কাজ দেওয়া যায়, তাহলে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার হবে সাড়ে ৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ‘সম্ভাব্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর শ্রমশক্তিতে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রভাব’ নামে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। সেখানেই প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর এই উপায়ের কথা বলা হয়েছে। দেশে এখন জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার (২০১৩-১৪ অর্থবছর) ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে সমীক্ষায় বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিম্নগামী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে ৬ শতাংশের বেশি গড় প্রবৃদ্ধি হলেও এখন তা কমছে। কারণ, শ্রমশক্তি এখন আর আগের মতো বাড়ছে না। দাতা সংস্থাটির মতে, এর ফলে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছর নাগাদ ৫ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারকেই নিতে হবে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪ জুন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন। প্রতিবছর এখন নতুন করে শ্রমশক্তিতে প্রবেশ করছে ১৩ লাখ মানুষ। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, শ্রমশক্তিতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়িয়েই প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ তাদের কাজ দিতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে নারী কর্মশক্তিকে আরও কাজে লাগানোর। জাপানে ১৯৯০ সালে কর্মক্ষেত্রে অংশ নেওয়া নারীর হার ছিল ৪৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক এ কথা জানিয়ে সমীক্ষায় বলছে, বাংলাদেশে এই হার ৪৮ শতাংশ করা গেলে জিডিপি বাড়বে দশমিক ৭ শতাংশ। আর যদি ৭৫ শতাংশ করা যায়, তাহলে জিডিপি বাড়বে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হারে। কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী নারীর হার ৮২ শতাংশ করা গেলে জিডিপিতে এর প্রভাব পড়বে আরও বেশি, ১ দশমিক ৮ শতাংশ। শ্রমশক্তিতে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় কমে যাওয়ার দুটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান। শ্রমশক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই অর্থনীতিবিদ প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষায় মানুষের অংশগ্রহণের হার বেড়েছে। কিন্তু পছন্দমতো কর্মসংস্থান তারা পাচ্ছে না। যেহেতু ছেলেমেয়েরা কিছুটা শিক্ষিত হয়েছে, তাই তারা শুধু অদক্ষ কর্মে নিয়োজিত থাকতে চায় না। তাদের জন্য আরও বেশি উৎপাদনশীল ও বেশি আয়ের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। অধিক ভালো কর্মের অভাবে যখন শ্রমশক্তিতে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ কমে, তখন এটাকে বলে নিরুৎসাহব্যঞ্জক প্রভাব। এ গবেষক আরও মনে করেন, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কম হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিক চলে যাচ্ছেন। অথচ জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে, যদি শ্রমশক্তিতে কর্মক্ষম মানুষের অংশগ্রহণের হার বাড়ানো যায়। বিশ্বব্যাংকও বলছে, তিন কারণে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমছে। যেমন, সুযোগ বাড়ায় বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক বেশি শিক্ষায় সম্পৃক্ত আছে, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং বিদেশে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মাত্রই শ্রমশক্তি জরিপ-২০১৩ শেষ করেছে। এর ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, নতুন জরিপের চিত্র অর্থনীতির জন্য তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। এই জরিপ অনুযায়ী, দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ৮১ লাখ। তবে ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৭ লাখ। ২০১০ সালে কর্মরত মানুষ ছিল ৫ কোটি ৪১ লাখ। অর্থাৎ তিন বছরে কাজ পাওয়া মানুষ বেড়েছে ৪০ লাখ। ২০০২-০৩ অর্থবছরের জরিপে কর্মরত মানুষ ছিল ৪ কোটি ৭৪ লাখ। বিশ্বব্যাংক নারীদের আরও বেশি করে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুপারিশ করলেও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার গতিও কমে গেছে। যেমন, ২০১০ সাল পর্যন্ত কর্মরত নারী ছিলেন ১ কোটি ৬২ লাখ। ২০১৩ সালে এসে তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখে। তিন বছরে প্রায় ছয় লাখ নারী নতুন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন। অথচ ২০০৬ থেকে ২০১০ সময়ে চার বছরে প্রায় ৪৯ লাখ নারীর কর্মসংস্থান হয়েছিল। ৩১.০৫.২০১৫