ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ২০:৪০:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ খেলাধুলা মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরল আর্জেন্টিনা দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়েসহ ৩ নারীর প্রাণহানী মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: ট্রমা কাটেনি, নিঃস্ব অনেক পরিবার রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

পথশিশু বনাম ভিক্ষা বাণিজ্য

আপডেট: ০৮:১৮ এএম, ১২ মে ২০১৫ মঙ্গলবার

teerjok123_1282145316_2-street-children_50মাজেদুল হক তানভীর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : যার কোন সহায় সম্পত্তি নেই,কাজ করার সামর্থ্য ও সুযোগ নেই এবং অপরের সাহায্য নিয়ে দিনযাপন করে তাকেই বলে ভিক্ষুক। বয়স্ক ভিক্ষুক,বিকালাঙ্গ ভিক্ষুক ও শিশু ভিক্ষুক দেশের প্রতিটি স্থানেই দেখা যায়। তবে শিশু ভিক্ষুক আমাদের মনে একদিকে যেমন প্রশ্ন জাগিয়ে তুলে তেমনি হৃদয়কে নাড়া দেয়। বাংলাদেশে আজঅব্দি ভিক্ষুকের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এ অবস্থায় শিশু ভিক্ষুকের সংখ্যা সংরক্ষণ করার মনোভাব কর্তৃপক্ষের নেই। একদিকে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের পথে ধাবিত যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশে শিশু ভিক্ষুকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এসব শিশু ভিক্ষুক মানুষের মন গলিয়ে আদায় করছে টাকা ও খাবার। পথশিশুদের বেশিরভাগই আবার মাদকাসক্ত। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চত্বর, ধানমন্ডি লেকসহ রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মাদকাসক্ত শিশু কিশোরদের হরহামেশাই চোখে পড়ে। এসব শিশুদের নিয়ে কেউ ভিক্ষা করাচ্ছে আবার কেউ ভাড়া খাটাচ্ছে। কারও কারও পরিবার থেকে বাধ্য করা হচ্ছে ভিক্ষার জন্য। পথ শিশু-কিশোরদের দিয়ে চলছে ভিক্ষাবৃত্তি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে ঘা বানিয়ে চিকিৎসার নাম করে টাকা নেয়া হচ্ছে। আবার কখনও ফুটপাত বা বস্তি থেকে নবজাতক কিনে এনে তাদের কষ্ট ও অসহায়ত্ব দেখিয়ে ভিক্ষা চাওয়া হচ্ছে। আবার কখনও সবার কাছে যেয়ে হাত পেতে ভিক্ষা চাইছে। দুর্বিত্তরাও হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশু চুরি করে হাত পা কেটে বিকলাঙ্গ বানিয়ে ভিক্ষুক হিসেবে থালা বাটি দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। এসব ভিক্ষুকরা সারাদিন যা আয় করছে দুর্বিত্তরা তার পুরোটাই নিয়ে নিচ্ছে। শিশু ভিক্ষুকরা শুধু পেটের তাগিদে সারাদিন ভিক্ষা করছে। শিশু ভিক্ষুকদের এক বিরাট অংশ এসব দুর্বিত্তরাই তৈরি করছে। বাংলাদেশে সুস্থ শিশু ধরে বিকলাঙ্গ ভিক্ষুক তৈরি করার জন্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট সর্বদাই সক্রিয়। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বরাবরই নির্বিকার। শিশুদের দিয়ে প্রকাশ্যে এরকম মানব ধ্বংস নীলায় একটি চক্র মেতে উঠলেও আইন প্রয়োগকারী ও মাদক প্রতিরোধকারী সংস্থা,জনপ্রতিনিধি কিংবা সুশীল সমাজ চোখে দেখেও যেন দেখছে না। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এসব মাদকাসক্তের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের যথাযথ কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার এদের নিয়ে বহু এনজিও এবং সংগঠন বছরের পর বছর কাজ করলেও প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না ভোক্তভোগীরা। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে বলা হয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকার জন্মগত। সনদের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র শিশুদের যে কোনো ধরনের অনাচারের কবল থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে এই সমস্যাটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এই সমস্যার পেছনে আমাদের সমাজ দায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দায়ী।এমনকি আমরা নিজেরাও এর দায় এড়াতে পারবো না। সমাজের দুর্নীতি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিণতিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে শিশুদের ভিক্ষা বৃত্তিতে নামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাই এ সমস্যা সমাধানে সরকারসহ সচেতন সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ১২.০৫.২০১৫