ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১২:০৭:৫৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

পশ্চিবঙ্গজুড়ে পালিত হচ্ছে ভগিনী নিবেদিতার জন্ম-সার্ধশতবর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০১:১৪ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার

এবছর ভগিনী নিবেদিতার ১৫০-তম জন্ম বার্ষিকী। তাই ভারতের পশ্চিবঙ্গজুড়ে মহা ধূমধাম করে পালিত হচ্ছে জন্ম-সার্ধশতবর্ষ।

 

২৮ অক্টোবর তার জন্মদিনে উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে হল বিশেষ অনুষ্ঠান। গান, পাঠের মধ্যে দিয়ে ভগিনী নিবেদিতাকে স্মরণ করা হয় এদিন।

 

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের উদ্যোগে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশনের গোলপার্ক শাখায় নিবেদিতার স্মরণে অনুষ্ঠান হবে।

 

এর আগে ভগিনী নিবেদিতার জন্ম-সার্ধশতবর্ষে তার বাগবাজারের বাড়ির দ্বারোদ্ঘাটন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আগেই এই বাড়ি অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণ করা হয়। সারদা মঠের হাতে নিবেদিতার বাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দার্জিলিঙে নিবেদিতার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিকেও সংস্কার করা হয়েছে।

 

১৮৬৭ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানগ্যানন শহরে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল ছিলেন ধর্মযাজক। মায়ের নাম ছিল মেরি ইসাবেলা। মাত্র দশ বছর বয়সে মার্গারেটের বাবা মারা যান। তারপর তার দাদামশাই তথা আয়ারল্যান্ডের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী হ্যামিলটন তাঁকে লালনপালন করেন। লন্ডনের স্কুলে মার্গারেটের শিক্ষা। সতেরো বছর বয়সে শিক্ষা শেষ করে মার্গারেট শিক্ষিকার পেশা গ্রহণ করেন। কিছুদিন পরে উইম্বলডনে নিজের একটি স্কুল খোলেন। পাশাপাশি নানা পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতে ও চার্চের হয়ে নানা সেবামূলক কাজও শুরু করেন।

 

১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে লন্ডনের এক পরিবারের পারিবারিক আসরে মার্গারেট স্বামী বিবেকানন্দের বেদান্ত দর্শন ব্যাখ্যা শোনেন। বিবেকানন্দের ধর্মব্যাখ্যা ও ব্যক্তিত্বে তিনি মুগ্ধ হন। তাঁর প্রতিটি বক্তৃতা ও প্রশ্নোত্তরের ক্লাসে উপস্থিত থাকেন। তারপর বিবেকানন্দকেই নিজের গুরু বলে বরণ করে নেন।

 

১৮৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে মার্গারেট চলে আসেন ভারতে। এই সময় বিবেকানন্দের কাছে ভারতের ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য, জনজীবন, সমাজতত্ত্ব, প্রাচীন ও আধুনিক মহাপুরুষদের জীবনকথা শুনে মার্গারেট ভারতকে চিনে নেন। ভারতে আসার কয়েক দিন পর রামকৃষ্ণ স্ত্রী সারদা দেবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। এর কিছুদিন পর স্বামী বিবেকানন্দ তাঁকে ব্রহ্মচর্য ব্রতে দীক্ষা দেন। তিনিই মার্গারেটের নতুন নাম রাখেন ‘নিবেদিতা’।

 

মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য নিবেদিতা উত্তর কলকাতার বাগবাজার অঞ্চলে ১৬ নম্বর বোসপাড়া লেনে নিজ উদ্যোগে নিবেদিতা গার্লস স্কুল খোলেন। ১৮৯৯ সালে কলকাতায় প্লেগ মহামারী দেখা দিলে তিনি স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় রোগীদের শিব আশ্রম ও পল্লী পরিষ্কারের কাজ করেন।

 

১৯০২ সালের ৪ জুলাই নিবেদিতার গুরু স্বামী বিবেকানন্দের মৃত্যু হয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় গোপনে বিপ্লবীদের সাহায্য করতে শুরু করেন নিবেদিতা। এই সময় অরবিন্দ ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু প্রমুখ বিশিষ্ট ভারতীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে।

 

তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল কালী দ্য মাদার, ওয়েব অফ ইন্ডিয়ান লাইফ, ক্রেডল টেলস অফ হিন্দুইজম, দ্য মাস্টার অ্যাজ আই স` হিম ইত্যাদি।

 

ভারতের গ্রীষ্মপ্রধান আবহাওয়ায় অতিরিক্ত পরিশ্রম করার ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নিবেদিতা। ১৯১১ সালে হাওয়া বদলের জন্য জগদীশচন্দ্র বসু ও তার স্ত্রীর সঙ্গে দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়ে ১৩ অক্টোবর সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নিবেদিতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৪ বছর।